Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত Jeet: ভুয়ো প্রচার! ভোট আবহে গায়ে রাজনীতির রঙ লাগতেই সরব জিৎ৪ হাজার থেকে নিমেষে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ফলোয়ার! এক স্পেলেই সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন তারকা প্রফুল্লসামনে কাজল শেখ, মমতা কথা শুরু করতেই হাত নেড়ে বিরক্তি প্রকাশ অনুব্রতর! সিউড়িতে কী ঘটলEPL: নায়ক ওকাফর! ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৪৫ বছরের অভিশাপ মুছল লিডস, রক্ষণের ভুলে ডুবল ম্যান ইউAsha Bhosle: 'এত ভালবাসার সবটাই তোমার...,' ঠাকুমার স্মৃতি আঁকড়ে আবেগঘন পোস্ট নাতনি জানাইয়েরSupreme Court DA: ডিএ নিয়ে সময়সীমা বৃদ্ধির আর্জি, বুধবার রাজ্যের মামলা শুনবে সুপ্রিম কোর্টনির্বাচকদের শর্টলিস্টে বৈভব! আয়ারল্যান্ড সফরে যাওয়ার জোর সম্ভাবনা, ভাঙতে পারেন সচিনের রেকর্ডIPL 2026: ‘কাছের অনেককে বলেছিলাম, বৈভবকে প্রথম বলে আউট করব!’ কথা দিয়ে কথা রাখলেন প্রফুল্ল

ডিম্বাশয়ের ক্যানসারকে হারিয়ে সুস্থ সন্তানের মা হলেন এক মহিলা, সৌজন্যে কলকাতার হাসপাতাল

মাত্র আট বছর বয়সে ডিম্বাশয়ের ক্যানসার হয়েছিল পৌলমী ঘোষের। দীর্ঘ চিকিৎসার পরে সুস্থ হয়ে উঠলেও তিনি কখনও ভাবেননি, একদিন স্বাভাবিকভাবে মা হতে পারবেন।

ডিম্বাশয়ের ক্যানসারকে হারিয়ে সুস্থ সন্তানের মা হলেন এক মহিলা, সৌজন্যে কলকাতার হাসপাতাল

পৌলমী ঘোষ

অন্বেষা বিশ্বাস।

শেষ আপডেট: 14 May 2025 12:38

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুকুন্দপুরের মণিপাল হাসপাতালে ঘটল এক ব্যতিক্রমী ঘটনা। মাত্র আট বছর বয়সে ডিম্বাশয়ের ক্যানসার হয়েছিল পৌলমী ঘোষের। দীর্ঘ চিকিৎসার পরে সুস্থ হয়ে উঠলেও তিনি কখনও ভাবেননি, একদিন স্বাভাবিকভাবে মা হতে পারবেন। কিন্তু সেই অসাধ্যকে সম্ভব করে দেখালেন তিনি। ৩৫ বছর বয়সে কোনও চিকিৎসা সহায়তা ছাড়াই একটি সুস্থ কন্যাসন্তানের জন্ম দিলেন পৌলমী।

এই সফলতার পিছনে রয়েছেন মণিপাল হাসপাতালের চিকিৎসক ডঃ বিশ্বজ্যোতি গুহ। তাঁর তত্ত্বাবধানে পৌলমীর গর্ভাবস্থার প্রতিটি ধাপ খুব সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। এমন স্বাভাবিক গর্ভধারণ ক্যানসারজয়ী কারও ক্ষেত্রে খুবই বিরল ঘটনা। পৌলমীর ঘটনা ডঃ গুহ ও মণিপাল হাসপাতালের কাছে তৃতীয় সফল ক্যানসার সারভাইভার কেস হলেও, এটিই প্রথম যেখানে কোনও প্রজনন চিকিৎসার প্রয়োজন হয়নি।

যাদবপুরের বাসিন্দা পৌলমী ৩০ সপ্তাহের গর্ভবতী অবস্থায় পেটের ওপরের দিকে তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে প্রথমে একটি অন্য হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে অ্যাপেন্ডিক্সে সমস্যা সন্দেহ হওয়ায় তাঁকে মণিপাল হাসপাতালে পাঠানো হয়। ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসকরা প্রথমে ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা শুরু করেন। পরে এমআরআই করে দেখা যায়, অ্যাপেন্ডিক্স ঠিক আছে। ফলে অস্ত্রোপচারের দরকার পড়েনি।

ডঃ বিশ্বজ্যোতি গুহ জানান, এই গর্ভাবস্থা অনেক দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস ছিল, আবার গর্ভাবস্থার শেষের দিকে তাঁর লিভারেও সমস্যা দেখা দেয়। ওষুধ দিয়ে তা নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। কিন্তু এর মধ্যেও যেভাবে পৌলমী স্বাভাবিকভাবে গর্ভবতী হন এবং সুস্থ সন্তানের জন্ম দেন, তা চিকিৎসাক্ষেত্রে এক অনন্য ঘটনা।

নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে পৌলমী বলেন, “১৯৯৯ সালে মাত্র আট বছর বয়সে আমার ডিম্বাশয়ে ক্যানসার ধরা পড়েছিল। অস্ত্রোপচারের পর কেমোথেরাপিও নিতে হয়েছিল। সেই সময় মা হওয়ার স্বপ্নটাই কেটে গিয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালে আমি হঠাৎ করেই গর্ভবতী হই। পরে যখন অ্যাপেন্ডিক্সের সমস্যা ধরা পড়ে, তখন খুব ভয় পেয়েছিলাম। কিন্তু ডঃ গুহ আমাকে সব সময় সাহস দিয়েছেন। তাঁর জন্যই আজ আমি মা হতে পেরেছি। ৩০ এপ্রিল আমি একটি সুস্থ মেয়ের জন্ম দিই।”

মণিপাল হাসপাতালের রিজিওনাল চিফ অপারেটিং অফিসার ডঃ অয়নাভ দেবগুপ্তা বলেন, “এই ঘটনা আমাদের সবার কাছে অনুপ্রেরণার। পৌলমীর সাহস, আত্মবিশ্বাস আর আমাদের চিকিৎসক দলের যত্ন ও নিষ্ঠা—সব মিলে এটি সম্ভব হয়েছে। আমরা খুবই গর্বিত।”


```