বাসি বিরিয়ানির ওপর ভালবাসা থাকলে, তা আর অপরাধবোধের কারণ নয়। ডাক্তারের সিলমোহর এবার আপনার পক্ষেই (leftover biryani health benefits)!

এআই দিয়ে বানানো ছবি
শেষ আপডেট: 26 November 2025 17:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিরিয়ানির (biryani) প্রতি ভালবাসা যেন চিরন্তন। এতটাই মনের কাছে যে, রেখে রেখে বাঁচিয়ে খাওয়ার মজাই আলাদা। আপনিও কি বাঁচিয়ে রাখা বিরিয়ানি পরের দিনের জন্য তুলে রেখে দেন ফ্রিজে (leftover biryani in fridge)? কিন্তু তাতে যদি মনে কোণে ডায়েট (biryani in diet) সংক্রান্ত কোনওরকম অপরাধবোধ কাজ করে, তা হলে আপনার জন্য এটা বিশেষ সুখবর তো বটেই।
এই ভাললাগা নিয়ে আর চিন্তা করতে হবে না। গবেষণা বলছে, ফ্রিজে রাখা আগের দিনের বিরিয়ানি শুধু মন ভরাবে তাই নয়, পেটের জন্য তা বেশ উপকারীও বটে (leftover biryani health benefits)। সারারাত ঠান্ডা হয়ে গেলে বিরিয়ানিতে থাকা ভাত, মাংস, সবজি আর মশলার গঠন বদলে যায়। তা নাকি আমাদের অন্ত্রের ভাল ব্যাকটেরিয়াদের স্বাস্থ্যের জন্য ভাল, মাইক্রোবায়োমের বৈচিত্র্য বাড়ায় এবং খাবারটিতে যোগ হয় নানারকম পুষ্টিগুণ (leftover biryani for gut health)।
ব্রিটেনের সার্জন এবং জনপ্রিয় হেলথ কনটেন্ট ক্রিয়েটর ডাঃ করণ রাজন ইনস্টাগ্রামে এক ভিডিওতে জানালেন, কেন ‘বাঁচিয়ে রাখা বিরিয়ানি’ আসলে অন্ত্র বা গাট হেলথের (gut health) জন্য খুব ভাল। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ফ্রিজে রাখা বিরিয়ানির ভাত, মশলা, সবজি ও মাংস মিলেমিশে এমন একটি পুষ্টিগুণ তৈরি করে যা অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার খাবার হিসেবে কাজ করে।
রেসিস্ট্যান্ট স্টার্চ: ফাইবারের মতো কাজ করে (resistant starch acts as fibre)
ডাঃ রাজনের মতে, ফ্রিজে রাখা বিরিয়ানির ভাতে তৈরি হয় রেসিস্ট্যান্ট স্টার্চ, যা এক ধরনের প্রিবায়োটিক। তিনি বলেন,
“ঠান্ডা ভাতে তৈরি হওয়া রেসিস্ট্যান্ট স্টার্চকে গাট ব্যাকটেরিয়া খুব ভালবাসে। এটি সাধারণ কার্বোহাইড্রেট নয়, বরং ফাইবারের মতো আচরণ করে। ফলে পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে, রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং গাট বেরিয়ারকে আরও শক্তিশালী করে।”
মশলায় থাকে ভরপুর পলিফেনল ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট
বিরিয়ানির প্রতিটি চামচেই রয়েছে মশলার পলিফেনল, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান। ডাঃ রাজন বলেন, “এই মশলা মিশ্রণ আসলে এক ধরনের মাইক্রোবিয়াল মাল্টিভিটামিন, যা স্বাদের আড়ালে শরীরকে দারুণভাবে পুষ্টি দেয়।”
পুষ্টিগুণে ভরপুর মাংস ও সবজি
বিরিয়ানিতে ব্যবহৃত মাংস সাধারণত প্রসেসড নয়, ফলে সঠিক পরিমাণে খেলে তা শরীরে ভিটামিন বি১২, আয়রন, জিঙ্ক এবং প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড সরবরাহ করে। এগুলো অন্ত্রের কোষকে সুরক্ষিত রাখতে ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করতে সাহায্য করে।
তাছাড়া বিরিয়ানিতে থাকা পেঁয়াজ, আলু ও অন্যান্য হার্বস শরীরে যোগ করে অতিরিক্ত পুষ্টি।
ডাঃ রাজনের কথায়, “আপনার মাইক্রোবায়োম পুরো খাবারটিকে বিচার করে, কোনও একটি উপাদানকে আলাদা করে নয়। অল্প পরিমাণে সেই প্রোটিন, সঙ্গে ফাইবার ও পলিফেনল - এটাই সুষম খাবার। তাই আগের দিনের বিরিয়ানি শুধু সুস্বাদুই নয়, বরং শরীরে পুষ্টিগুণ সঠিকভাবে শোষিত হতে পারার আরও ভাল একটি অপশন।”
সোজা কথায়, পরের দিনের বাসি বিরিয়ানির ওপর ভালবাসা থাকলে, তা আর অপরাধবোধের কারণ নয়, ডাক্তারের সিলমোহর এবার আপনার পক্ষেই! তবে অবশ্যই পরিমাণ মেপে এবং শরীরের প্রয়োজন বুঝে খাওয়াই শ্রেয়।