বাজারের টাটকা সবজিতে মিলছে বিষাক্ত সিসা! বেঙ্গালুরুর গবেষণায় মিলল উদ্বেগজনক তথ্য। এরাজ্যের পরিস্থিতি কী? কীভাবে সবজি থেকে সিসা মুক্ত করবেন? জানুন বিস্তারিত।

সবজিতে সিসা। সাবধান ছবি: এআই
শেষ আপডেট: 7 March 2026 18:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুস্বাস্থ্যের জন্য ডায়েটে টাটকা সবুজ (Fresh Vegetable) সবজি রাখার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। কিন্তু আপনার সাধের শাক-সবজিই কি অজান্তে শরীরে বিষ ঢালছে? সম্প্রতি বেঙ্গালুরু (Bengaluru) এবং তার আশেপাশের বাজার থেকে সংগ্রহ করা সবজির নমুনায় মিলেছে মারাত্মক পরিমাণ সিসা (Lead), যা কপালে ভাঁজ ফেলেছে খাদ্য সুরক্ষা বিশেষজ্ঞদের।
কী তথ্য মিলেছে গবেষণায়?
সেন্ট্রাল পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ড (CPCB) গত মাসে ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনালে (NGT) একটি রিপোর্ট জমা দিয়েছে। বেঙ্গালুরুর বাজার থেকে সংগৃহীত মোট ৭২টি সবজির নমুনার ওপর এই পরীক্ষা চালানো হয়। দেখা গেছে:
৭২টি নমুনার মধ্যে ১৯টিতেই রয়েছে বিষাক্ত সিসা।
পরীক্ষায় ১১টি ভারী ধাতু এবং প্রায় ২৩০ ধরনের কীটনাশকের উপস্থিতি যাচাই করা হয়েছিল।
বেগুনে সিসার পরিমাণ পাওয়া গেছে ১.৯৫৩ মিগ্রা/কেজি, যেখানে নিরাপদ মাত্রা মাত্র ০.১ মিগ্রা/কেজি। অর্থাৎ অনুমোদিত সীমার চেয়ে প্রায় ২০ গুণ বেশি বিষ পাওয়া গেছে বেগুনে।
কোন কোন সবজিতে বিপদ বেশি?
তালিকায় শুধু বেগুন নয়, রয়েছে আরও অনেক পরিচিত সবজি। যেগুলিতে সিসার মাত্রা আশঙ্কাজনক, সেগুলি হলো: লাউ, বিনস এবং বিট। বাঁধাকপি, ক্যাপসিকাম এবং কাঁচা লঙ্কা ও শসা, ওলকপি এবং পাট শাক।
সবজি ধুয়ে খেলে কী কিছুটা হলেও নিরাপদ?
মাটি বা জলে সিসা থাকলে তা শিকড়ের মাধ্যমে গাছের কোষে প্রবেশ করে। ফলে সবজি শুধু ধুয়ে ফেললে বা খোসা ছাড়ালে এই বিষাক্ত ধাতু পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়। এছাড়া ৭০টি নমুনার মধ্যে ১০টিতে অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি কীটনাশক পাওয়া গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তাই শুধুমাত্র সবজি ধুলেই নিরাপদ হবে তা জোর গলায় বলছেন না বিশেষজ্ঞরা।
সিসার প্রভাব শিশু শরীরে বেশি
ডাক্তারদের মতে, সিসার সংস্পর্শে আসার কোনও নিরাপদ মাত্রা নেই। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই শরীরে এর উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায়।
কীভাবে সিসা মুক্ত করবেন সবজি থেকে?
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. প্রশান্ত বিশ্বাস এই বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, কয়েক বছর আগে কলকাতার জিওলজিক্যাল সার্ভের রিপোর্টেও শাক-সবজি তো বটেই, এমনকি এ রাজ্যে উৎপাদিত চাল ও ডালেও সিসার আশঙ্কাজনক উপস্থিতি ধরা পড়েছিল, যার মাত্রা ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৩০ গুণ বেশি। আরও চিন্তার বিষয় হলো, সিসা বা লেড যদি একবার খাবারের ভেতরে ঢুকে যায়, তবে তা কোষ থেকে বের করে ফেলার কোনও সরাসরি উপায় নেই। তবে ভাত বা ডালের ক্ষেত্রে বিশেষ পদ্ধতিতে অর্থাৎ সেদ্ধ করার পর জল ফেলে দিয়ে রান্না করলে সিসার পরিমাণ অনেকটাই কমানো সম্ভব। সবজির ক্ষেত্রেও একইভাবে জল ফেলে দিলে সিসা মুক্ত হয় ঠিকই, কিন্তু এর ফলে সবজিতে থাকা অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণও নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই গবেষকদের পরামর্শ হলো, সিসার মারণ প্রভাব রুখতে সবজি সেদ্ধ করে জল ফেল খান। আর পুষ্টির অভাব কাটাতে ডায়েটে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি, আয়রন এবং ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার রাখা জরুরি। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে দুধ, দই, বিনস, বাদাম এবং লেবু জাতীয় খাবার বেশি করে খাওয়াতে হবে। এছাড়া দীর্ঘসময় খালি পেটে থাকা একেবারেই চলবে না; কারণ পেট খালি থাকলে সিসা শরীরে খুব দ্রুত শোষিত হয়, অন্যদিকে নিয়মিত খাবার খেলে সিসা শরীরে মেশার সুযোগ কম পায়।