সম্প্রতি একটি গবেষণায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য— মানসিক চাপ, অপর্যাপ্ত ঘুম এবং অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম— এই তিনের যোগসূত্রই বর্তমানে স্থূলতা বা ওবেসিটির প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ বলা ভাল, স্ট্রেস, ঘুমের অভাব ও সারাদিন বসে বসে টিভি দেখা— তিন থাকলেই নয়।

জীবন থেকে বাদ দিন এগুলো
শেষ আপডেট: 7 March 2026 15:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনেকেই মনে করেন শুধুমাত্র বেশি খাবার খেলেই ওজন বাড়ে। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে অন্য কথা। আপনার দৈনন্দিন জীবনযাপনের ধরন বা 'লাইফস্টাইল চয়েস' আপনার অজান্তেই শরীরের ওজন এবং বিপাক প্রক্রিয়ার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। সম্প্রতি একটি গবেষণায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য— মানসিক চাপ, অপর্যাপ্ত ঘুম এবং অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম— এই তিনের যোগসূত্রই বর্তমানে স্থূলতা বা ওবেসিটির প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ বলা ভাল, স্ট্রেস, ঘুমের অভাব ও সারাদিন বসে বসে টিভি দেখা— তিন থাকলেই নয়। এই তিন অভ্যাস সুস্থ থাকার পথে সবচেয়ে বড় বাধা।
সাঁড়াশি আক্রমণ
জীবনযাপনের এই সমস্যাগুলো যে ওজন বৃদ্ধির প্রধান 'ভিলেন', তা অনেকেই বুঝতে পারেন না। এই তিনের সাঁড়াশি আক্রমণে শরীরে কর্টিজল হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। বিশেষ করে মানসিক চাপ বাড়লে এটি বেশি হয়, যা অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা বাড়ায়। চিকিৎসার পরিভাষায় একে বলা হয় 'স্ট্রেস ইটিং'। এর ফলে শরীরের মধ্যভাগে অর্থাৎ পেটে ও কোমরে মেদ জমতে থাকে। মানসিক চাপ ধীরে ধীরে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বাড়ায়, সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ ও হার্টের অসুখ ডেকে আনে।
'দ্য ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ' (ICMR)-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ২০ বছর বয়সীদের মধ্যে প্রতি তিনজনে একজন 'অ্যাবডোমিনাল ওবেসিটি' বা পেটের মেদে আক্রান্ত। চারজনে একজন ভুগছেন জেনারেল ওবেসিটিতে, আর প্রতি পাঁচজনে একজনের রয়েছে হাই কোলেস্টেরল। এখনই সতর্ক না হলে এর পরিণতি হতে পারে মারাত্মক।
বাদ যাচ্ছে না শিশুরাও
এদেশে মেদবহুল শিশুর সংখ্যা বিশ্বের নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে। শৈশবে ওজন বেশি হওয়া মানেই আজীবন শরীরে কোনও না কোনও সমস্যা লেগেই থাকা। শারীরিক ও মানসিক দু'ধরনের সমস্যাই ডেকে আনে ওবেসিটি। টাইপ টু ডায়াবেটিস থেকে উচ্চ রক্তচাপ— এখন অল্পবয়সীদের মধ্যেও প্রচুর দেখা যাচ্ছে।
ঘুম ও ওজনের সমীকরণ
যাদের পর্যাপ্ত ঘুম হয় না, তাদের শরীরে 'ঘ্রেলিন' হরমোনের নিঃসরণ বাড়ে, যা সারাক্ষণ খিদের অনুভূতি তৈরি করে। উল্টোদিকে 'লেপটিন' হরমোন (যা খাওয়ার ইচ্ছে কমায়) তার মাত্রা কমে যায়। ফলে ফ্যাটজাতীয় ও মিষ্টি খাবার খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে এবং পরোক্ষভাবে ওজন বাড়তে থাকে।
চিকিৎসকদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের রাতে অন্তত ৭ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের প্রয়োজন। ঘুমের ঘাটতি হলে শরীরে ‘ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স’ তৈরি হয়, যা ওজন বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ।
স্মার্টফোনের নেশায় সর্বনাশ
অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম আমাদের শারীরিক সক্রিয়তা কমিয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর আগে ফোন বা ট্যাবলেটের নীল আলো শরীরের স্বাভাবিক বায়োলজিক্যাল ক্লক বা ‘সার্কাডিয়ান রিদম’ নষ্ট করে দেয়। এর ফলে ঘুমের মান খারাপ হয় এবং মেদ জমার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার সময় আমরা আনমনেই প্রচুর ক্যালরিযুক্ত স্ন্যাকস খেয়ে ফেলি, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
ত্রিকোণ যোগ কাটাতে হবে
অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব ও সারাদিন স্ক্রিনের সামনে বসে থাকা— এই তিনটির মধ্যে যেকোনো একটিকেও যদি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, তবে ধীরে ধীরে সমস্যা কাটতে শুরু করবে। কোমরে মেদ জমতে দেওয়া যাবে না।
যদি প্রাপ্তবয়স্কের বিএমআই (BMI) ২৯-এর বেশি হয়, তবে ওবেসিটি সংক্রান্ত ঝুঁকি দেখা দেয়।
বিএমআই বেশির সাথে যদি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা জয়েন্ট পেইন থাকে, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
বিএমআই ৩৫-এর বেশি হলে চিকিৎসার প্রয়োজন, এমনকি চিকিৎসকের পরামর্শে মেদ কমানোর সার্জারিও লাগতে পারে।
সুস্থ থাকতে যা করবেন:
প্রায় ১২ বছর ধরে করা একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, মেদবহুল কেউ যদি তার মোট ওজনের ২০ শতাংশ কমাতে পারেন, তবে সুগার, রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল দ্রুত নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। তাই সুস্থ থাকতে আজই জীবন থেকে এই ক্ষতিকর অভ্যাসগুলো বাদ দিন।