‘লেট-নাইট ওয়ার্ক কালচার’ আসলে শরীর ও মনের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে, বিশেষ করে যাঁরা বাবা-মা হওয়ার কথা ভাবছেন।

গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 8 October 2025 13:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আধুনিক ওয়ার্ক কালচরে নাইট শিফট (late night work culture) বেশিরভাগ জায়গাতেই কমবেশি বাধ্যতামূলক। তাই রাত জেগে কাজ এবং তাঁর পাশাপাশি সেই সংক্রান্ত স্ট্রেস অনেকের কাছেই জীবনযাত্রার অঙ্গ হয়ে উঠেছে। কিন্তু এই ‘লেট-নাইট ওয়ার্ক কালচার’ আসলে শরীর ও মনের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে, বিশেষ করে যাঁরা বাবা-মা (would be parents) হওয়ার কথা ভাবছেন (fertility issues)।
একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রিস্টিন কেয়ার ও ফার্টিসিটির চেয়ারপারসন ও চিফ আইভিএফ কনসালট্যান্ট ডাঃ ইলা গুপ্তা বলেন, “আমাদের শরীরের নিজস্ব একটা ছন্দ আছে। নিয়মিত রাত জাগলে সেই ছন্দে ব্যাঘাত আসে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা রিপ্রোডাক্টিভ স্বাস্থ্য (Reproductive health) বা প্রজনন ক্ষমতাকেও প্রভাবিত করে।”
চিকিৎসক জানান, চিকিৎসাবিজ্ঞানে নানা সমীক্ষা বলছে ঘুমের অনিয়ম সরাসরি হরমোনের ভারসাম্যকে নষ্ট করে। ফলে মহিলাদের ক্ষেত্রে এগ বা ডিম্বাণুর মান কমে যায়, আর পুরুষদের ক্ষেত্রে স্পার্মকাউন্ট বা শুক্রাণুর সংখ্যা ও গুণগত মানে প্রভাব পড়ে। স্ট্রেস আরও বাড়ে।
হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়
ডাঃ গুপ্তা জানান, রাত জেগে কাজ করলে মহিলাদের পিরিয়ড সাইকেলেও পরিবর্তন আসে। ঘুম কম হলে শরীরে মেলাটোনিন (ডিম্বাণুর স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমোন) কমে যায় এবং কর্টিসল (স্ট্রেস হরমোন) বেড়ে যায়। এর ফলে ওভ্যুলেশনে সমস্যা দেখা দেয় ও গর্ভধারণের সম্ভাবনা কমে। পুরুষদের ক্ষেত্রেও ঘুমের অনিয়মে টেস্টোস্টেরন ক্ষরণ কমে যায়, শুক্রাণুর মানে প্রভাব পড়ে।
স্ট্রেসের প্রভাব
ডাঃ গুপ্তার ভাষায়, “স্ট্রেস শুধু মানসিক নয়, এটি শরীরকেও একদম ভিতর থেকে প্রভাবিত করে। রিপ্রোডাক্টিভ হেলথের ক্ষেত্রে স্ট্রেস ধূমপান বা অ্যালকোহলের মতোই ক্ষতিকর।”
রাত জেগে কাজের ফলে অনেকেই ঠিকমতো খেতে পারেন না, খাওয়ায় অরুচি এসে যায়। অতিরিক্ত কফি এবং প্রসেসড খাবারে নির্ভর করেন। অপুষ্টি ও মানসিক চাপ মিলে প্রজনন স্বাস্থ্যকে দুর্বল করে তোলে।
দেরি করে পিতৃত্ব-মাতৃত্বের সিদ্ধান্ত
অনেক দম্পতি কাজের চাপে সন্তান ধারণের ক্ষেত্রে দেরি করেন। ভাবেন কেরিয়ার গুছিয়ে নিয়ে তারপর সন্তানের কথা ভাববেন। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রজনন ক্ষমতা কমতে থাকে। ডাঃ গুপ্তা বলেন, “তাঁরা যখন এসে ডাক্তারের সাহায্য চান, তখন বেশি বয়সটাই বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। রাত জেগে কাজের এই কালচার এই অবক্ষয়কে আরও ত্বরান্বিত করে।”
সমাধান কী?
“কাজের চাপ সবসময় নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, কিন্তু জীবনযাপন বদলানো সম্ভব,” বলেন ডাঃ গুপ্তা। তিনি পরামর্শ দেন -
চিকিৎসকের মতে, কর্মীদের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়া কোম্পানিগুলোরও দায়িত্ব। স্বাস্থ্যকর কাজের পরিবেশ আখেরে প্রোডাক্টিভিটি বাড়ায় ও মানসিক ক্লান্তি কমায়।