দ্য ওয়াল আরোগ্যের (The Wall Arogya) ‘হার্ট ভাল রাখার আর্ট’ (Heart Bhalo Rakhar Art) অনুষ্ঠানে ডক্টর কুণাল সরকারের (Doctor Kunal Sarkar) সতর্কবাণী— শুধু টাকার হিসেব নয়, শরীরের ক্যালরি-হিসেবও রাখতে হবে।
.jpeg.webp)
ডক্টর কুণাল সরকার।
শেষ আপডেট: 8 September 2025 11:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শরীর মানেই শুধু রক্ত-মাংসের সমাহার নয়, এ এক বিশাল যন্ত্র। সেই যন্ত্র যত ভালভাবে চালানো যাবে, ততটাই মসৃণ চলবে জীবন। কিন্তু আমরা খেয়াল রাখি কোথায়? কাগজ-কলমে যত হিসেব, তাতে শুধুই থাকে টাকাপয়সা। আয়-ব্যয়, লোনের কিস্তি, ইএমআই— এসব নিয়েই আমাদের যত মাথাব্যথা। অথচ শরীরের নিজস্ব খাতাও আছে, যেখানে যোগ-বিয়োগ হয় ক্যালরি, রক্তচাপ, সুগার, বিএমআই-এর। সেই খাতায় যদি গোলমাল হয়, তবে ব্যালেন্সশিট যতই চকচকে হোক, লাভ নেই।
দ্য ওয়াল আরোগ্যের ‘হার্ট ভাল রাখার আর্ট’ অনুষ্ঠানের মঞ্চে এমনই খোলামেলা সতর্কবার্তা শোনালেন কার্ডিওলজিস্ট ড. কুণাল সরকার। মনে করিয়ে দিলেন, আমাদের হাতের মুঠোয় বন্দি তথ্যের ভাণ্ডার অর্থহীন, যদি না নিজেদের শরীরের তথ্য আমরা ঠিকমতো জানি।
ওবেসিটি বড় শত্রু
ডাক্তারবাবু মনে করিয়ে দেন, এই সভ্যতায় আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নিজের শরীর-স্বাস্থ্যের প্যারামিটারগুলো মেনটেন করা। আমরা এখন বাড়িতে বসে প্রেশার মাপতে পারি, সুগার দেখতে পারি, ওজন মাপতে পারি, মিনিটে মিনিটে সারা বিশ্বের আপডেট পেতে পারি। কিন্তু আমাদের ওজন, বিএমআই— এসব নিয়ে আমাদের কোনও চিন্থাতা নেই। আমরা মাথা ঘামাচ্ছিই না, কী করে ওবেসিটি থেকে দূরে থাকব।
এক্সারসাইজ ও ক্যালরি
কুণালবাবুর মতে, আমরা টাকাপয়সা নিয়ে অনেক হিসেব করি। কিন্তু আমাদের শরীরের হিসেবও বুঝতে হবে, খানিকটা হাঁটলে আমরা কতটা ক্যালরি বার্ন করব, কতটা সাঁতার কাটলে কতটা ক্যালরি বার্ন করব। নিজের শরীরের এই হিসেবটা বুঝতেই হবে। এই হিসেব না বুঝলে, বিপদে পড়লে কেবল টাকার হিসেব দিয়ে পার পাওয়া যাবে না।
ডাক্তারবাবুর স্পষ্ট বক্তব্য, সকাল সকাল হাঁটাহাঁটি করে জিলিপি, সিঙাড়া, চা খেয়ে বাড়ি ফিরলে কোনও লাভ হবে না। ১৫০ ক্যালরি পুড়িয়ে ২৫০ ক্যালরি শরীরে ঢুকল। ফলে মর্নিং ওয়াক করতে গিয়ে রোজ ১০০ ক্যালরি করে শরীরে বাড়ছে।
শারীরিক প্যারামিটার
নিয়ম মেনে ব্লাড, ডায়েট এগুলো চেক করতে হবে বছরে দু'বার। মাসে দু'বার ব্লাডপ্রেশার, মাসে একবার ওজন—মাপতেই হবে। বছরে বছরে একাধিক ট্যাক্স দিতে পারলে এগুলো কেন নয়, প্রশ্ন তোলেন কুণাল সরকার।
তিনি বলেন, “কেউ কারও থেকে দ্বিগুণ রোজগার করতেই পারেন। কিন্তু এমন যেন না হয়, কেউ কারও থেকে দ্বিগুণ ক্যালরি ইনটেক করছেন। তা যদি হয়, তবে তা সমূহ বিপদ ডেকে আনবে। আমাদের মেটাবলিক ইনডেক্স সকলের একই থাকা উচিত।”
আয়ুর অঙ্ক
কুণালবাবু মনে করিয়ে দেন এক অমোঘ তথ্য। স্বাধীনতার সময়ে ভারতবর্ষে মানুষদের গড় আয়ু ছিল ৪৫ বছর। এখন সেটা দাঁড়িয়েছে ৭২ বছরে। অর্থাৎ ৭০-৮০ বছরের মধ্যে মানুষের আয়ু বেড়ে গেছে এতগুলো বছর। যেন একটা গাড়ি আগে ১০ হাজার কিলোমিটার চলত, আজ তাকে ২৫ হাজার কিলোমিটার চলতে হবে। সেইমতো তো গাড়িটাকে মেনটেন করতে হবে। আমাদের শরীরও তাই। তাকে ঠিকমতো যত্ন করলে, তবেই সে ঠিকমতো চলবে।
অর্থাৎ, ড. কুণাল সরকারের কথার সারমর্ম একটাই। জীবনের খাতা শুধু টাকার অঙ্কে ভরা থাকলেই চলবে না, শরীরের অঙ্কও মেলাতে হবে। মানুষের আয়ু বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু সেটাই শেষ নয়। সেই অতিরিক্ত পথ পাড়ি দেওয়ার ক্ষমতাও শরীরকে গড়ে তুলতে হবে। না হলে একদিন ক্যালরির দেনা মাথায় চাপবে সুদে-আসলে।