রুজুতা বিশ্বাস করেন, খাদ্যাভ্যাস কখনওই ফ্যাশন হওয়া উচিত নয়। বরং নিজের শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত থেকে নিজের শরীরকে বুঝে খাবার খাওয়াটাই সবচেয়ে বেশি জরুরি।

করিনা কাপুরের ডায়েটিশিয়ানের কিছু সহজ টিপস
শেষ আপডেট: 10 July 2025 20:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শরীরচর্চা, খাওয়াদাওয়া, ডায়েট, এই বিষয়গুলি নিয়ে দিন দিন সচেতন হচ্ছেন প্রায় সকলেই। বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে যে পরিবর্তন আসে, সেই সময়ে ঠিক কী খাওয়া উচিত, তা নিয়ে নানা ধন্দ তৈরি হয়। এই সমস্যার সমাধান দিলেন বলিউড অভিনেত্রী করিনা কাপুরের (Bollywood actress Kareena Kapoor) ডায়েটিশিয়ান রুজুতা দিবেকর (Rujuta Diwekar)।
রুজুতার মতে, শরীর ঠিক রাখতে ফ্যান্সি ডায়েট নয়, প্রয়োজন নিজের শরীর ও লাইফস্টাইল বুঝে খাওয়া-দাওয়া করা।
প্রি মেনোপজ এবং মেনোপজের (Menopause) সময় মেয়েদের কী কী খাওয়া উচিত, জানালেন রুজুতা (Rujuta Diwekar diet tips)। তাঁর কথায়, এই সময় মেয়েদের শরীরের হঠাৎ করেই পরিবর্তন দেখা যায়। ঘন ঘন মুড সুইং (Mood swing), হজমের সমস্যা, ঘুমের অসুবিধা, সব মিলিয়ে যেন শরীরের তাল কেটে যায়। রুজুতা বলছেন, এই সময় ডায়েটের লক্ষ্য শুধুই ওজন কমানো নয় বরং মানসিক শান্তি, হজম, ঘুম আর আবেগের ভারসাম্য বজায় রাখাই আসল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত।
ব্রেকফাস্ট বাদ দেবেন না
রুজুতা বলছেন, 'ব্রেকফাস্ট বাদ দেবেন না। দিনের শুরুটা পুষ্টিকর খাবার দিয়ে করা অত্যন্ত জরুরি। ফ্যান্সি স্যুপ বা কোনও শেক নয় বরং ঘরোয়া খাবারই বেশি উপযোগী। এভাবেই সকালের খাবার সারাদিনের এনার্জি ঠিক রাখে।'
চিনা বাদাম খাওয়ার অভ্যাস করুন
রুজুতা চিনা বাদামকে বলেন 'গরিবের বাদাম'। যদিও এর গুণ কোনও অংশে কম নয়। চা বা কফির সঙ্গে ৫-৬টা চিনা বাদাম খেলে হজমশক্তি ঠিক থাকে, রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় থাকে, এমনকি ত্বক ও চুলেও পুষ্টি জোগায়। মেনোপজের সময় এই সব দিকেই খেয়াল রাখা প্রয়োজন।
রাতে হালকা খাবার
রাতের খাবার যেন হালকা হয়। রুজুতা জানান, ভাত-ডাল কিংবা সাধারণ ঘরোয়া খাবারই যথেষ্ট। এরসঙ্গে দইয়ের ঘোল বা ছাঁচ রাখলে হজম আরও ভালো হবে। গ্যাস, অম্লতা, রাতে ঘাম বা অস্বস্তিও কমবে। ঘোলের মধ্যে অল্প লবণ, ধনেপাতা, ভাজা জিরে দিলেই তার স্বাদ দ্বিগুণ হবে, সঙ্গে এটি দারুণ স্বাস্থ্যকরও।
এই সব খাবার খুবই সস্তা, সহজলভ্য। বহু প্রজন্ম ধরে ভারতের হেঁশেলে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। রুজুতা বিশ্বাস করেন, খাদ্যাভ্যাস কখনওই ফ্যাশন হওয়া উচিত নয়। বরং নিজের শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত থেকে নিজের শরীরকে বুঝে খাবার খাওয়াটাই সবচেয়ে বেশি জরুরি।
তিনি এও বলেছেন, সব মানুষের শরীর একরকম নয়। তাই যেটা এক জনের জন্য কাজ করে, সেটা অন্যের ক্ষেত্রে নাও করতে পারে। সেক্ষেত্রে ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।