সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সোনোলজিস্ট রূপালি মিশ্র বলেন, 'ভারতে গর্ভপাত ও অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণ নিয়ে মানুষের মনে নানা ভুল ধারণা আছে। তাই সঠিক তথ্য দেওয়া খুব জরুরি।'

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 30 August 2025 16:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অপ্রত্যাশিত গর্ভধারণকে ঘিরে সমাজে অনেক ভুল ধারণা আর কুসংস্কার আছে। এর কারণে মহিলারা ভয় পেয়ে যান এবং অনেক সময় ভুল বা ক্ষতিকর সিদ্ধান্ত নেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সোনোলজিস্ট রূপালি মিশ্র বলেন, 'ভারতে গর্ভপাত ও অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণ নিয়ে মানুষের মনে নানা ভুল ধারণা আছে। তাই সঠিক তথ্য দেওয়া খুব জরুরি।' এরপর তিনি একে একে ছয়টি প্রচলিত মিথ ভেঙে আসল সত্য তুলে ধরেন।
মিথ ১: ভারতে গর্ভপাত বেআইনি
সত্য: Medical Termination of Pregnancy Act, 1971 এবং 3B MTP Rules, পাশাপাশি ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২-এর সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায় (X vs. The Principal Secretary Govt. NCT of Delhi) অনুযায়ী, গর্ভবতী হওয়ার ২৪ সপ্তাহ পর্যন্ত ভারতে সব মহিলার গর্ভপাতের অধিকার রয়েছে।
মিথ ২: গর্ভপাতের জন্য সঙ্গী বা পরিবারের সম্মতি লাগে
MTP Act-এর অধীনে কোনও সঙ্গী, স্বামী বা পিতামাতার সম্মতি প্রয়োজন হয় না। প্রাপ্তবয়স্ক যে কোনও মহিলা ২৪ সপ্তাহ পর্যন্ত নিজের সিদ্ধান্তে গর্ভপাত করতে পারেন।
মিথ ৩: স্থানীয় মেডিক্যাল শপ থেকে গর্ভপাতের ওষুধ কেনা যায়
গর্ভপাতের ওষুধ কেবলমাত্র নিবন্ধিত (Registered) গর্ভপাত কেন্দ্র থেকে যোগ্য চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে পাওয়া যায়। স্থানীয় দোকান থেকে এই ওষুধ নেওয়া অবৈধ এবং মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
মিথ ৪: গর্ভপাতের জন্য ঘরোয়া পদ্ধতিই যথেষ্ট
ঘরোয়া পদ্ধতি প্রাণঘাতী হতে পারে। এতে ইনফেকশন, ভবিষ্যতে বন্ধ্যাত্ব, অসম্পূর্ণ গর্ভপাত, অতিরিক্ত রক্তপাত ও প্রচণ্ড ব্যথার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই চিকিৎসকের পেশাদার তত্ত্বাবধান অত্যন্ত জরুরি।
মিথ ৫: গর্ভপাতের ওষুধ নেওয়ার আগে আল্ট্রাসাউন্ড স্ক্যান দরকার নেই
গর্ভপাতের আগে আল্ট্রাসাউন্ড অপরিহার্য। এটি গর্ভধারণ নিশ্চিত করে এবং এক্টোপিক প্রেগনেন্সি (ভ্রূণ জরায়ুর বাইরে বৃদ্ধি পাওয়া) আছে কি না তা জানায়। তাই আল্ট্রাসাউন্ড ছাড়া পিল নেওয়া বিপজ্জনক।
মিথ ৬: সাকশন পদ্ধতি নিরাপদ নয়
নিবন্ধিত গর্ভপাত কেন্দ্রে যোগ্য চিকিৎসকের মাধ্যমে সাকশন পদ্ধতিতে গর্ভপাত সম্পূর্ণ নিরাপদ, নিশ্চিত এবং যন্ত্রণাহীন।
চিকিৎসক রুপালি বেশ কিছু বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, 'সবচেয়ে বড় সমস্যা হল ভুল তথ্য ও কলঙ্ক। সঠিক তথ্য দিয়ে এই মিথ দূর করলে সমাজে সঠিক বোঝাপড়া তৈরি হবে। অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণের পরিস্থিতিতে মহিলাদের কখনও বিপজ্জনক সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করা উচিত নয়। প্রত্যেক মহিলার নিরাপদ, বৈধ এবং গোপনীয় স্বাস্থ্যসেবার অধিকার রয়েছে।'