চুল পড়ে টাকের ভয় বাড়ছে? আয়ুর্বেদিক ভেষজে কি সত্যিই নতুন চুল গজাতে পারে? ভৃঙ্গরাজ, আমলা, অশ্বগন্ধা নিয়ে সাম্প্রতিক গবেষণা কী বলছে, জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 23 December 2025 16:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চুল পড়া এখন আর শুধু বয়সজনিত সমস্যা নয়। অল্প বয়সেই টাক পড়া, চুল পাতলা হয়ে যাওয়া বা নতুন চুল না গজানোর অভিযোগ ছেলে-মেয়ে উভয়েরই রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অনেকে ঝুঁকছেন আয়ুর্বেদের দিকে। কিন্তু প্রশ্ন একটাই- আয়ুর্বেদিক ভেষজে (Ayurvedic herbs) কি আদৌ চুল গজায়? না কি সবটাই লোককথা? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই নতুন করে আলোচনায় প্রাচীন আয়ুর্বেদ।
আয়ুর্বেদে চুল পড়া মানে কী
আয়ুর্বেদের (Ayurveda) মতে, চুল পড়া কখনওই আলাদা কোনও সমস্যা নয়। শরীরের ভিতরের ভারসাম্য নষ্ট হলেই তার প্রভাব পড়ে চুলে। বিশেষ করে পিত্ত দোষ (Pitta dosha) বেড়ে গেলে চুলের গোড়া দুর্বল হয়, মাথার ত্বকে অতিরিক্ত গরম ভাব তৈরি হয়, যার ফল চুল পড়া।
তবে আয়ুর্বেদের আসল জোর এখানেই- শুধু মাথার ত্বকে তেল মাখা নয়, শরীরের ভিতর থেকে সমস্যা সারানো। হজম ঠিক রাখা, হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখা, রক্তসঞ্চালন বাড়ানো- এই সব মিলিয়েই চুলের স্বাস্থ্যের উন্নতি, এমনটাই মত আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের।
কোন কোন ভেষজ চুলের জন্য উপকারী
আয়ুর্বেদে এমন একাধিক ভেষজ রয়েছে, যেগুলি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চুলের সমস্যায় ব্যবহার হয়ে আসছে।
বিজ্ঞান কী বলছে
লোককথা নয়, আধুনিক গবেষণাও ধীরে ধীরে আয়ুর্বেদের পাশে দাঁড়াচ্ছে। ২০০৮ সালের একটি গবেষণায় ভৃঙ্গরাজের নির্যাস ইঁদুরের উপর প্রয়োগ করে দেখা যায়, চুল গজানোর হার উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে- এমনকি কিছু ক্ষেত্রে প্রচলিত ওষুধের কাছাকাছি ফল মিলেছে।
অশ্বগন্ধার উপর হওয়া মানবদেহে গবেষণায় স্ট্রেস ও কর্টিসল কমার প্রমাণ মিলেছে, যা সরাসরি চুল পড়ার সঙ্গে যুক্ত।
মেথি বীজের নির্যাস ছোট আকারের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে চুলের ঘনত্ব ও শক্তি বাড়াতে সাহায্য করেছে।
আমলা তেলের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণ ও হালকা ফলিকল স্টিমুলেশনের প্রমাণ মিলেছে ল্যাব স্টাডিতে।
একা নয়, একসঙ্গে কাজটাই আসল
আয়ুর্বেদের সবচেয়ে বড় শক্তি হল সমন্বয়। এখানে একটি ভেষজ নয়, একাধিক ভেষজ একসঙ্গে কাজ করে। যেমন— আমলা ও ভৃঙ্গরাজ চুলের গোড়ায় কাজ করে, অশ্বগন্ধা সামলায় স্ট্রেস, আর নিম পরিষ্কার রাখে স্ক্যাল্প। এই মাল্টি-ডাইমেনশনাল অ্যাপ্রোচেই আয়ুর্বেদের সাফল্য।
ব্যবহার করার আগে যা মনে রাখবেন
এই ভেষজগুলি কোনও ম্যাজিক নয়। নিয়মিত ব্যবহার করতে হবে অন্তত ৩ থেকে ৬ মাস। বাজারচলতি সব প্রোডাক্ট সমান নয়- গুণমান ও উৎস গুরুত্বপূর্ণ। তেল মাখার সঙ্গে সঙ্গে ভিতর থেকে নেওয়া সাপ্লিমেন্ট বেশি ফল দেয়। আর থাইরয়েড, পিসিওডি (PCOS) বা অন্য কোনও অসুখ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি।
আধুনিক ছোঁয়ায় আয়ুর্বেদ
এখন কিছু ব্র্যান্ড যেমন ত্রায়া (Traya) আয়ুর্বেদকে আধুনিক ডার্মাটোলজির সঙ্গে মিলিয়ে ব্যক্তিগত ট্রিটমেন্ট প্ল্যান দিচ্ছে। ভেষজ, পুষ্টি ও চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন- তিনের মেলবন্ধনেই দীর্ঘমেয়াদি ফল মিলছে।
তাহলে কি আয়ুর্বেদিক ভেষজে চুল গজায়? উত্তর- হ্যাঁ, তবে ধৈর্য আর সঠিক পদ্ধতি দরকার। রাতারাতি ফল নয়, কিন্তু নিয়ম মেনে চললে চুলের পাশাপাশি শরীরের সামগ্রিক সুস্থতাও ফিরতে পারে।