একটুতেই রাগে ফেটে পড়েন? স্নায়ু বিশেষজ্ঞ জানালেন মাত্র ৩০ সেকেন্ডে কীভাবে মাথা ঠান্ডা রাখবেন। সারাদিন কীভাবে থাকবেন সম্পূর্ণ কুল, জেনে নিন সহজ উপায়।
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স - দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 17 October 2025 18:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাস্তাঘাটে মন মতো কিছু হল না, হুট করে রেগে গেলেন। রাগের বশে কী করলেন মাথায় নেই। আবার কাউকে রেগে গিয়ে দুম করে একটা কিছু বলে ফেললেন, হয়তো আপনি সেটা কোনওদিন বলতেই চাননি কিন্তু বলে ফেললেন। মারামারি থেকে খুন, দুঃখ থেকে ভালবাসা, রাগ থেকে সাধারণ অনুভূতি, সবটাই আপনার মাথার একটা ছোট্ট অংশের নিয়ন্ত্রণে হচ্ছে।
এর মধ্যে সবচেয়ে চাপের হল হঠাৎ রেগে লাল হয়ে যাওয়া। এই রাগ মাত্র ৩০ সেকেন্ডে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে জানাচ্ছে শহরের নামজাদা স্নায়ু বিশেষজ্ঞ ডঃ কল্লোল দে। সম্প্রতি তিনি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে এই সংক্রান্ত একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন। সেখানেই বাতলে দিয়েছেন কীভাবে নিখরচায় রাগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
মস্তিস্কের কোন অংশ এই চণ্ডালের মতো রাগের পিছনে দায়ী?
মস্তিস্কে 'অ্যামিগডালা' বলে একটি অংশ থাকে। চিকিৎসক জানাচ্ছেন, রেগে গেলে সেই অংশটি জ্বলে পুড়ে যায়, ফলে সেই মুহূর্তে নিউরাল ট্র্যাফিক ডাইভার্টেট হয়ে যায়। একে শান্ত করতে সময় লাগে।
কল্লোল দে বলেন, 'এই পরিস্থিতিতে হাতে আইস কিউব ধরে রাখুন ৩০ সেকেন্ড। তাহলেই হবে আপনার অ্যামিগডালা শান্ত।'
কীভাবে কাজ করে বরফ?
চিকিৎসক জানান, কেউ যখন রেগে যান, তখন তাঁর অ্যামিগডালা আগুনে জ্বলছে। আর যখন হাতে আইস ধরলেন তখন নিউরাল ট্র্যাফিক ডাইভার্টেট হয়ে গেল, মাথা তখন ওই ঠান্ডাটা অনুভব করছে, ফিল করছে। তখনই অ্যামিগডালা থেকে নিউরাল ট্র্যাফিক সরে গিয়ে প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স অনলাইন হয়, যে কেউ শান্ত হয়ে যায়। এটা হতে ৩০ সেকেন্ড মাত্র সময় লাগে। খরচাও হয় না কোনও।
সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা গিয়েছে, অ্যামিগডালা ডিপ্রেশন বা মুড ডিসঅর্ডারের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। যেমন, মেজর ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডারের ক্ষেত্রে অ্যামিগডালার অস্বাভাবিক কার্যকলাপ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অর্থাৎ, মানুষের আবেগ, ভয়, আনন্দ থেকে শুরু করে মানসিক ভারসাম্য, সব কিছুর মূলে লুকিয়ে আছে মস্তিষ্কের এই ছোট্ট ‘বাদামি’ অংশ।
যাকে শান্ত রাখতে পারলেই আপনিও ঠান্ডা ঠান্ডা কুল কুল থাকবেন। আর আপনি শান্ত রইলেন সামনে কাউকে রেগে যেতে দেখলেন, এমন হলে এই টেকনিক মেনে চলতে পারেন।