হঠাৎই ১১টা ১৫ নাগাদ বছর একুশের ছাত্র মনোরঞ্জন মুদি বুকে প্রচণ্ড অস্বস্তি বোধ করেন, ঘামতে শুরু করেন এবং মুহূর্তের মধ্যেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 16 October 2025 15:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেদিনীপুর মেডিক্যাল (Medinipur Medical) কলেজে এমবিবিএস (MBBS) প্রথম বর্ষের পরীক্ষা চলছিল। এমন সময় হৃদরোগে (Heart Attack) আক্রান্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এক মেডিক্যাল ছাত্র (Medical Student)। অবশেষে পরীক্ষকদের তৎপরতায় প্রাণে বেঁচে যান তিনি। মঙ্গলবারের ফিজিওলজির থিওরি পরীক্ষার সময় এই ঘটনা ঘটে। আপাতত স্থিতিশীল ওই পড়ুয়া।
কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, সকাল ১১টা নাগাদ পরীক্ষা শুরু হয়েছিল অ্যাকাডেমিক বিল্ডিংয়ের ছ' তলায়। ইনভিজিলেশনের দায়িত্বে ছিলেন চিকিৎসক রহিন মাহাতো, সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায় এবং মুস্তাকিন রহমান। হঠাৎই ১১টা ১৫ নাগাদ বছর একুশের ছাত্র মনোরঞ্জন মুদি বুকে প্রচণ্ড অস্বস্তি বোধ করেন, ঘামতে শুরু করেন এবং মুহূর্তের মধ্যেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
চিকিৎসক রহিন মাহাতো তখনই বুঝে ফেলেন, এটি হার্ট অ্যাটাক। তিনি ঝটপট ছাত্রটিকে মাটিতে শুইয়ে দিয়ে পা উঁচু করে প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করেন। অন্য চিকিৎসকরাও ছুটে আসেন সাহায্যে। কিন্তু পরীক্ষা হলের ভিতরে যে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সম্ভব নয়, তা বুঝে রহিন তাঁকে কোলে তুলে নিয়ে ছুট দেন হাসপাতালের দিকে।
অ্যাকাডেমিক বিল্ডিং থেকে নেমে রাস্তায় একটি টোটো ধরে সরাসরি পৌঁছে যান মেদিনীপুর মেডিক্যালের কার্ডিওলজি বিভাগে। সেখানে সিসিইউতে ভর্তি করা হয় মনোরঞ্জনকে। দ্রুত পরীক্ষা করে দেখা যায়, এক নয়, তিনটি অ্যাটাক হয়েছে। তৎক্ষণাৎ থ্রম্বোলাইসিস করা হয়।
কলেজের অধ্যক্ষ ডা: মৌসুমি নন্দী জানান, “আমাদের চিকিৎসক ও ইনভিজিলেটরদের দ্রুত পদক্ষেপের কারণেই বড় বিপদ এড়ানো গিয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর বুধবার মনোরঞ্জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আপাতত স্থিতিশীল অবস্থায় আছেন ছাত্রটি, তবে পরবর্তী চিকিৎসার জন্য অ্যাঞ্জিওগ্রাফি ও অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি করা প্রয়োজন।
ডা: রহিন মাহাতো নিজে অবশ্য বিনয়ী ভঙ্গিতে বলেছেন, “যা করার ছিল, করেছি দায়িত্ববোধ থেকে।” কিন্তু কলেজের চিকিৎসক ও ছাত্রছাত্রীদের একবাক্য মত, স্যারের উপস্থিত বুদ্ধি ও দ্রুত পদক্ষেপেই প্রাণ বাঁচে হবু চিকিৎসকের।