চিকিৎসকের মতে, আধুনিক জীবনে মানসিক চাপ, রাতজাগা, ধূমপান-অ্যালকোহল, অনিয়মিত ডায়েট, ওয়ার্কআউটের অতিরিক্ত চাপ, সব মিলিয়ে তরুণ প্রজন্মের হৃদযন্ত্র আজ চরম চাপে।

শেফালির মৃত্যু ও কার্ডিয়্যাক অ্যারেস্ট নিয়ে সচেতনতা
শেষ আপডেট: 28 June 2025 15:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শেফালি জারিওয়ালার মৃত্যু ফের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল ‘কার্ডিয়্যাক অ্যারেস্ট’ এখন আর শুধু বয়স্কদের রোগ নয়। মাত্র ৪২ বছর বয়সে প্রাণ হারালেন ‘কাঁটা লাগা’ খ্যাত অভিনেত্রী। ২০২১ সালে একইভাবে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন ‘বিগ বস’ তারকা সিদ্ধার্থ শুক্লাও। বয়স হয়েছিল মাত্র ৪০। প্রশ্ন উঠছে, এত কম বয়সে কেন বারবার ঘটছে এমন মৃত্যু? এমন কী ভয়াবহ এই কার্ডিয়্যাক অ্যারেস্ট? আগে থেকে বোঝার কোনও উপায় কি আদৌ আছে?
কী এই কার্ডিয়্যাক অ্যারেস্ট?
‘কার্ডিয়্যাক অ্যারেস্ট’ মানে হৃদযন্ত্রের আচমকা কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলা। হার্ট হঠাৎ করে ধুকপুক করা বন্ধ করে দেয়। রক্ত আর অক্সিজেন পৌঁছয় না মস্তিষ্ক বা শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই মানুষ অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন এবং ৫–১০ মিনিটের মধ্যে যদি চিকিৎসা না মেলে, মৃত্যু অনিবার্য।
মায়ো ক্লিনিক ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান জানাচ্ছে, কার্ডিয়্যাক অ্যারেস্ট আর হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাক এক নয়। হার্ট অ্যাটাকে হার্টে রক্ত পৌঁছনোয় সমস্যা হয়, আর কার্ডিয়্যাক অ্যারেস্টে হার্ট একেবারেই কাজ করা বন্ধ করে দেয়।
উপসর্গ কী, আগে থেকে বোঝা যায়?
এটাই সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক। কার্ডিয়্যাক অ্যারেস্টের কোনও স্পষ্ট উপসর্গ হয় না অধিকাংশ ক্ষেত্রে। তবে কয়েকটি লক্ষণ থাকলে সাবধান হওয়া জরুরি-
চিকিৎসকরা বলছেন, এর যে কোনও এক বা একাধিক উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা করবেন না। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কার্ডিওলজিস্টের পরামর্শ নিন।
অল্প বয়সে কেন বাড়ছে ঝুঁকি?
চিকিৎসকের মতে, আধুনিক জীবনে মানসিক চাপ, রাতজাগা, ধূমপান-অ্যালকোহল, অনিয়মিত ডায়েট, ওয়ার্কআউটের অতিরিক্ত চাপ, সব মিলিয়ে তরুণ প্রজন্মের হৃদযন্ত্র আজ চরম চাপে। বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দেবী প্রসাদ শেট্টি বলছেন, 'এখনকার জীবনে মানুষ ভাবেন বয়স কম, তাই হার্ট অ্যাটাক বা অ্যারেস্ট হবে না, এটা একেবারেই ভুল ধারণা। ৩০ বছরের পর থেকেই নিয়মিত হার্ট চেক-আপ জরুরি।'
কী করলে এই ঝুঁকি এড়ানো যাবে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু নিয়ম মেনে চললে হৃদরোগের আশঙ্কা অনেকটাই কমানো যায়। যেমন -
সুষম ডায়েট
প্রতিদিন পর্যাপ্ত শাকসবজি, ফল, ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার খান। ভাজাভুজি, রেড মিট, অতিরিক্ত নুন-চিনি এড়িয়ে চলুন।
নিয়মিত শরীরচর্চা
সপ্তাহে অন্তত ৫ দিন ৩০–৪০ মিনিট হাঁটা বা হালকা এক্সারসাইজ করুন। তবে অতিরিক্ত জিমে গিয়ে শরীরের উপর চাপ নয়।
স্ট্রেস কমান
ধ্যান, প্রাণায়াম, যোগ-এই অভ্যাসগুলো মানসিক চাপ কমায় এবং হৃদযন্ত্রের উপর প্রভাব ফেলে।
ধূমপান ও মদ্যপান বন্ধ করুন
এই দুই অভ্যাসই হার্ট অ্যাটাক ও অ্যারেস্টের সবচেয়ে বড় কারণ।
রেগুলার হেলথ চেক-আপ
বয়স ৩০ পেরলেই নিয়মিত ইসিজি, ইকো, লিপিড প্রোফাইল, ব্লাড প্রেশার ও সুগার পরীক্ষা করানো অত্যন্ত জরুরি।
ঘুম ও বিশ্রাম
প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম দরকার। সারাদিনে ছোট ছোট বিরতিও কাজে আসে।
জরুরি পরামর্শ
হঠাৎ কারও অজ্ঞান হয়ে পড়া বা সাড়া না দিলে সঙ্গে সঙ্গে
অ্যাম্বুল্যান্স ডাকুন
সিপিআর (CPR) দেওয়া শুরু করুন
যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হাসপাতাল পৌঁছে দিন
শেফালি বা সিদ্ধার্থের মৃত্যু এক একটা বড় সতর্কবার্তা। ক্যামেরার ঝলকে যাঁরা ঝকঝকে, তাঁদের অন্তরালে যে কত অজানা চাপ, তা হয়তো আমাদের অজানা। তাই সময় থাকতে সচেতন হোন।