কীভাবে প্রায় ৩৫ কেজি ওজন কমিয়ে ফেললেন তিনি? নিজের ডায়েট প্ল্যান শেয়ার করলেন তরুণী। মাত্র তিনদিনের ডায়েট, কমবে ওজন।

কোপাল আগরওয়াল (ছবি- সোশ্যাল মিডিয়া)
শেষ আপডেট: 20 May 2025 18:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২৪ বছর বয়সি কোপাল আগরওয়াল এখন ইনস্টাগ্রামে এক পরিচিত মুখ। যেভাবে তিনি নিজের ওজন কমিয়েছেন, তা দেখে মুগ্ধ নেটপাড়া। একসময় তাঁর ওজন ছিল ১০১ কেজি, আর এখন তিনি মাত্র ৬২। কঠোর পরিশ্রম, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং সুস্থ ঘরোয়া খাবার খেয়েই এই রূপান্তর সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোপাল। বর্তমানে যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করছেন এবং জানিয়েছেন, ওজন কমার পর আবার নিজের পছন্দের জামাকাপড় পরতে পারছেন বলে আনন্দে আত্মহারা তিনি।
একটি ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে কোপাল বলেন, 'আগে আত্মবিশ্বাসের অভাবে শুধু ভারতীয় পোশাকই পরতাম। এখন নিজের স্টাইল নিয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। শুধু শরীর নয়, মানসিক সুস্থতাও অনেকটাই বেড়েছে ওজন কমানোর পর।'
কীভাবে প্রায় ৩৫ কেজি ওজন কমিয়ে ফেললেন তিনি? নিজের ডায়েট প্ল্যান শেয়ার করলেন তরুণী। মাত্র তিনদিনের ডায়েট, কমবে ওজন।
কোপালের কথায়, ব্রেকফাস্টে খেতে হবে ৫টি ডিমের সাদা অংশ ও একটি রুটি। অথবা এক বাটি পোহা ও ২ টুকরো পনির। ফল সহযোগে হাই-প্রোটিন দই। এই তিনটের মধ্যে যেকোনও একটা খাওয়া যেতে পারে তিনদিন বা তিনদিন তিন রকম খাওয়া যেতে পারে।
ব্রেকফাস্টের পর একেবারে দুপুরের খাবার খাব, এই মনোভাব অনেকেরই থাকে, বিশেষজ্ঞরা বলেন, এতে ওজন কমানো চাপের হয়ে যায়। তাই ব্রেকফাস্টের পর ও দুপুরের খাবারের আগে কিছু একটা খেতে হবে। তরমুজ ও স্ট্রবেরি, ব্ল্যাক কফি, ডাবের জল বা দইয়ের ঘোল এই সময় খাওয়া যেতে পারে।
দুপুরে ১০০ গ্রাম চিকেন সঙ্গে সবুজ সবজি। খিচুড়ি ও টক দই বা পনির ভুরজি ও সবুজ সবজি খাওয়া যেতে পারে। বিকেলে গ্রিন টি ও চাইলে একটা বিস্কুট খেতে পারেন। আর রাতে সবজি সহযোগে ভাজা পনির। ১০০ গ্রাম চিকেন ও স্যালাড। এগ ভুরজি খাওয়া যেতে পারে।
কীভাবে মাত্র ছয় মাসে কমালেন ৩২ কেজি?
একটি আলাদা ভিডিওতে কোপাল জানান, কিছু নিয়ম মেনে চলার ফলেই মাত্র ছয় মাসে কমিয়ে ফেলেছেন ৩২ কেজি ওজন। তাঁর চারটি মূল অভ্যাস ছিল-
প্রতিদিন তাড়াতাড়ি ঘুমানো ও উঠা, এতে এনার্জি, মনোযোগ এবং মেটাবলিজম বাড়ে। দিনে কমপক্ষে ৩ লিটার জল পান করা, দিনের শুরুতে গরম জল খাওয়া। অ্যাক্টিভ লাইফস্টাইল, দিনে কমপক্ষে ১০ হাজার পা হাঁটা। চিনি ও জাঙ্ক ফুড পুরোপুরি বর্জন, শুধু ঘরোয়া খাবার খাওয়া। এতেই হয় বাজিমাত।
এই অসাধারণ রূপান্তর দেখেই বহু মানুষ অনুপ্রাণিত হচ্ছেন কোপালের কাছ থেকে। ইনস্টাগ্রামে তাঁকে অনুসরণ করে অনেকেই নতুন করে জীবনধারা পাল্টানোর অনুপ্রেরণা খুঁজে পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর মতো বাস্তব জীবনের ওজন কমানোর গল্প যে সত্যিই কতটা শক্তিশালী হতে পারে, কোপাল তা প্রমাণ করে দিয়েছেন।