ডায়াবেটিসে ভুগলে কয়েকটি খাবার পুরোপুরি এড়িয়ে চলা জরুরি। কোল্ড ড্রিঙ্কস, ট্রান্স ফ্যাট, সাদা পাউরুটি-পাস্তা-ভাত, সিরিয়ালস ও প্যাকেটজাত খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়ায়। কোনটা খাবেন, কোনটা নয়, জেনে নিন।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 3 December 2025 12:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডায়াবেটিস (Diabetes) বর্তমানে শিশু থেকে কিশোর, সব বয়সের মানুষজনের মধ্যেই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। প্রায় প্রতিটি বাড়িতে কেউ না কেউ এই রোগে ভুগছেন। নানা গবেষণা চললেও কেন এত কম বয়সে ডায়াবেটিস বৃদ্ধি পাচ্ছে, তার নির্দিষ্ট কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। অনেক বিশেষজ্ঞ এর জন্য জীবনযাত্রার ধরন বা লাইফস্টাইল (Lifestyle) পরিবর্তনকে দায়ী করছেন। বিভিন্ন সমীক্ষায় উঠে এসেছে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই ডায়াবেটিস প্রতিটি বাড়ির নিয়মিত স্বাস্থ্য-সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে। ফলে এই পরিস্থিতিতে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা যথেষ্ট কঠিন চ্যালেঞ্জ, বিশেষ করে যাঁরা ইতিমধ্যেই এই ক্রনিক ডিজিজে (Chronic Disease) আক্রান্ত।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল খাদ্যাভাস (Diet)। এই রোগ অজান্তেই কিডনি (Kidney), হার্ট (Heart), চোখ (Eyes)-সহ শরীরের বহু গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ক্ষতি হতে পারে। ফলে ওষুধের পাশাপাশি প্রতিদিনের খাবারে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। ডায়াবেটিস থাকলে বেশ কিছু খাবার কঠোরভাবে এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এগুলি শরীরে শুধু ক্ষতি করে না, বরং দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে ব্লাড সুগার লেভেল (Blood Sugar Level)।
কোল্ড ড্রিঙ্কস (Cold Drink)
প্রথমেই কোল্ড ড্রিঙ্কস সম্পূর্ণভাবে বাদ দিতে হবে। এই ধরনের মিষ্টি পানীয়তে প্রচুর পরিমাণে সুগার (Sugar) ও কার্বোহাইড্রেট (Carbohydrate) থাকে, যা মুহূর্তে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি কোল্ড ড্রিঙ্কসে থাকা ফ্রুকটোসের (Fructose) সঙ্গে ইনসুলিনের (Insulin) সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। ইনসুলিনই রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে, তাই অতিরিক্ত ফ্রুকটোস ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ কঠিন করে তোলে।
এড়িয়ে চলতে হবে আর্টিফিশিয়াল ট্রান্স ফ্যাটস
আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিডে (Unsaturated Fatty Acid) হাইড্রোজেন যোগ করে এই ট্রান্স ফ্যাট তৈরি করা হয়, যা শরীরের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকারক। মার্জারিন (Margarine), পিনাট বাটার (Peanut Butter), বিভিন্ন স্প্রেডস (Spreads) এবং বহু ফ্রোজেন খাবারে (Frozen Foods) এই ক্ষতিকারক ফ্যাট পাওয়া যায়। নিয়মিত গ্রহণ করলে এগুলি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের রাস্তা আরও জটিল করে তোলে।
রিফাইনড কার্বোহাইড্রেট
সাদা পাউরুটি (White Bread), পাস্তা (Pasta) এবং সাদা ভাতে (White Rice) থাকে প্রচুর রিফাইনড কার্বোহাইড্রেট (Refined Carbohydrate)। এই উপাদানগুলি টাইপ–১ এবং টাইপ–২ ডায়াবেটিস, দুই ক্ষেত্রেই রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দিতে সক্ষম। ফলে এই খাবারগুলি যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই বাঞ্ছনীয়।
মনে হয় স্বাস্থ্যকর, ডায়াবেটিকদের জন্য নয়
অনেকেই ব্রেকফাস্টে সিরিয়ালস (Cereals) বা খাদ্যশস্য (Grains) খান। সাধারণ মানুষের জন্য এগুলি স্বাস্থ্যকর হলেও ডায়াবেটিকদের জন্য তা একেবারেই উপযোগী নয়, কারণ সিরিয়ালসেও উচ্চমাত্রার কার্বোহাইড্রেট থাকে। এর ফলে দিনের শুরুতেই ব্লাড সুগার লেভেল বেড়ে যেতে পারে।
প্যাকেটজাতীয় খাবার
এছাড়া প্যাকেটজাতীয় খাবার (Processed Packaged Foods) যেমন বিস্কুট, বিভিন্ন নাস্তা বা স্ন্যাকস, এসবের অধিকাংশই ময়দা দিয়ে তৈরি হয় এবং পুষ্টিগুণ খুবই কম থাকে। এর তুলনায় শাকসবজি (Vegetables) অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর, কারণ এতে কার্বোহাইড্রেট কম থাকে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে শুধু খাদ্যাভাসই নয়, বরং ওষুধ গ্রহণের পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম (Exercise), যোগব্যায়াম (Yoga) এবং প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। সঠিক খাবার নির্বাচনই ডায়াবেটিস রোগীদের দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার প্রথম ধাপ।