Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনের

ফিল্টার করা জল সবসময় নিরাপদ নাও হতে পারে! কীভাবে সংক্রমণ আটকানো সম্ভব, বোঝালেন চিকিৎসক

চোখে না দেখা গেলেও ফিল্টার করা জলের মধ্যেই লুকিয়ে থাকতে পারে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস, যা নানা ভাবে স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে সক্ষম (Drinking Water Safety)।

ফিল্টার করা জল সবসময় নিরাপদ নাও হতে পারে! কীভাবে সংক্রমণ আটকানো সম্ভব, বোঝালেন চিকিৎসক

পৃথা ঘোষ

শেষ আপডেট: 12 January 2026 17:40

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইন্দোরে সাম্প্রতিক জলদূষণের ঘটনায় গোটা দেশে ফের একবার পানীয় জল ও সেই সংক্রান্ত নিরাপত্তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠে এসেছে (Is filtered water safe)। পরিষ্কার, স্বচ্ছ দেখতে হলেও ফিল্টার করা জল মানেই যে সেটা সব সময় নিরাপদ-ই হবে, এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই, বলছেন বিশেষজ্ঞরা (Filtered water infection risk)। চোখে না দেখা গেলেও ফিল্টার করা জলের মধ্যেই লুকিয়ে থাকতে পারে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস, যা নানা ভাবে স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে সক্ষম (Drinking water contamination)।

আরও উদ্বেগের বিষয় হল, অনেক ঘরোয়া ফিল্টার মূলত বড় কণা আটকানোর জন্য তৈরি, ফলে অত্যন্ত ছোট আকারের ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস অনায়াসেই সেই ফিল্টার পেরিয়ে যেতে পারে।

কেন ফিল্টার করা জলও সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি করে (Drinking Water Safety)?

ফরিদাবাদের ফর্টিস হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের অতিরিক্ত ডিরেক্টর ডাঃ বি এন সিং ব্যাখ্যা করেছেন, কী কী কারণে ফিল্টার করা জল থেকেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে -

১) ফিল্টারের ভিতরে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি

কার্বন-ভিত্তিক ফিল্টার, যা সাধারণত জলের জগ, ফ্রিজ বা ঘরোয়া ফিল্টারে ব্যবহার হয়, নিয়মিত বদলানো না হলে সেগুলি ব্যাকটেরিয়ার আঁতুড়ঘর হয়ে উঠতে পারে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফিল্টারের ভিতরে জমে থাকা জৈব কণাগুলি জীবাণুর খাদ্য হিসেবে কাজ করে। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রে ফিল্টার করা জলে ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ সাধারণ কলের জলের থেকেও বেশি হয়ে যেতে পারে।

২) ফিল্টার কিন্তু সব ধরনের জীবাণু আটকাতে পারে না

বাজারে পাওয়া বহু ঘরোয়া ফিল্টার মূলত জলের স্বাদ ও গন্ধ উন্নত করা বা সিসার মতো ভারী ধাতু দূর করার জন্য তৈরি। কিন্তু এই ফিল্টারগুলির বেশির ভাগই এতটা সূক্ষ্ম নয় যে সব ধরনের ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা প্যারাসাইটকে আটকাতে পারবে। বিশেষ করে ভাইরাসের আকার এতটাই ছোট যে সাধারণ ফিল্টারের ছাঁকনি তারা সহজেই পেরিয়ে যেতে পারে।

৩) ভুল ইনস্টলেশন বা রক্ষণাবেক্ষণের অভাব

যদি ফিল্টার সিস্টেম ঠিকভাবে বসানো না হয়, তাহলে ফাঁক দিয়ে অপরিশোধিত জল পরিষ্কার জলের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। পাশাপাশি, ফিল্টারের হাউজিং ও অন্যান্য অংশ নিয়মিত পরিষ্কার না করলে সেখানেও জীবাণু জমে ওঠে, যা পরে পানীয় জলে মিশে যেতে পারে।

৪) পাইপলাইন বা ডিসপেনসারে দূষণ

ধরা যাক ফিল্টার ঠিকমতো কাজ করছে। তবুও বাড়ির ভিতরের পাইপলাইনের দেওয়ালে বা ওয়াটার ডিসপেনসারের গায়ে তৈরি হওয়া স্লাইম স্তর বা বায়োফিল্মে জীবাণু জন্মাতে পারে। সেখান থেকেই জল দূষিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

কীভাবে নিশ্চিত করবেন ফিল্টার করা জল সত্যিই নিরাপদ

ফিল্টার করা জলকে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর রাখতে ডা. বি এন সিং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন -

  • রক্ষণাবেক্ষণের সময়সূচি মেনে চলুন: ফিল্টার পরিষ্কার করা ও বদলানোর ক্ষেত্রে নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চলুন। সময়মতো ফিল্টার না বদলালে সেটাই সংক্রমণের উৎস হয়ে উঠতে পারে। প্রয়োজনে মোবাইলে রিমাইন্ডার সেট করুন।
  • সার্টিফায়েড ফিল্টার বেছে নিন: NSF International বা Water Quality Association (WQA)-এর মতো স্বীকৃত তৃতীয় পক্ষের সংস্থার সার্টিফিকেশন রয়েছে, এমন ফিল্টার ব্যবহার করুন। এই সার্টিফিকেশন নিশ্চিত করে, কোন ধরনের দূষক ওই ফিল্টার অপসারণ করতে সক্ষম।
  • এলাকার জলের সমস্যার সঙ্গে মিলিয়ে ফিল্টার নির্বাচন করুন: আপনার এলাকার জলে কী ধরনের দূষক রয়েছে, তা পরীক্ষা করান। সেই অনুযায়ী রিভার্স অসমোসিস (RO), ইউভি লাইট ও কার্বন ফিল্ট্রেশন মিলিয়ে উপযুক্ত পরিশোধন ব্যবস্থা বেছে নিন।
  • দীর্ঘদিন ব্যবহার না হলে জল ফ্লাশ করুন: কোনও কল বা শাওয়ার এক সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ব্যবহার না হলে, অন্তত ২ মিনিট কলটি খুলে রাখুন, ঠান্ডা জল একটানা বেরিয়ে যেতে দিন। এতে জমে থাকা জল এবং যদি কোনও জীবাণু মিশে থাকে, তা বেরিয়ে যাবে।
  • বিশেষ কাজে সঠিক জল ব্যবহার করুন: খাওয়া বা চোখ-মুখ ধোয়ার মতো কাজে কখনওই সরাসরি কলের জল ব্যবহার করবেন না। এ ক্ষেত্রে ডিস্টিল্ড জল অথবা ফুটিয়ে ঠান্ডা করা জল ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক।
  • নিয়মিত জল পরীক্ষা করান: বিশেষ করে প্রাকৃতিক উৎস থেকে আসা জল হলে নিয়মিত গুণগত পরীক্ষা করলে দূষণ বা সংক্রমণের ঝুঁকি আগেভাগেই ধরা পড়তে পারে।

এই নিয়মগুলি মেনে চললে পানীয় জল থেকে সংক্রমণের আশঙ্কা অনেকটাই কমানো সম্ভব বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বহু ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া এতটাই সূক্ষ্ম যে তারা জলের রং, গন্ধ বা স্বচ্ছতার কোনও পরিবর্তন ঘটায় না। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে জীবাণুর ঘনত্ব এত কম থাকে যে সাধারণ পরীক্ষাতেও ধরা পড়ে না। কিন্তু শরীরে প্রবেশ করলে এই অদৃশ্য জীবাণুগুলিই সংক্রমণের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।


```