শেষ আপডেট: 10 September 2025 16:09
রেটিনল, নিয়াসিনামাইড (niacinamide), ভিটামিন সি (vitamin C)—এইসব উপাদান নিয়ে বাজারে ঢেউ তুলেছে একাধিক ব্র্যান্ড। কিন্তু ডাঃ জোহার পরামর্শ স্পষ্ট, “প্রতিটি ত্বকের...
কলকাতা: স্ক্রিনে চোখ রাখা প্রজন্ম, ঘুমহীন রাত, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস। এই সব মিলিয়ে ২৫-এর আগেই ত্বকে পড়ছে বয়সের ছাপ। অকাল বার্ধক্য (premature ageing) কি তাহলে বাস্তব আতঙ্ক? না কি বিজ্ঞাপনের তৈরি এক সামাজিক ভীতি?
ত্বক বিশেষজ্ঞ (dermatologist) ডাঃ শ্রাবণী ঘোষ জোহা (Dr. Sraboni Ghosh Zoha) জানাচ্ছেন, “বয়স বাড়লে ত্বকে কিছু প্রাকৃতিক পরিবর্তন আসবেই। কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের জীবনযাত্রায় সেই পরিবর্তনগুলো অনেক আগে থেকেই দেখা দিচ্ছে।”
কীভাবে শুরু হচ্ছে ত্বকের বার্ধক্য?
চোখের নিচে কালো দাগ (dark circles), ত্বকের উজ্জ্বলতা কমে যাওয়া, মুখে নিস্তেজ ভাব—সবই অকাল বার্ধক্যের প্রাথমিক লক্ষণ। ডাঃ জোহার কথায়, “আধুনিক জীবনযাপন (modern lifestyle) , স্ট্রেস (stress), অপর্যাপ্ত ঘুম (lack of sleep)—সবকিছু মিলে ত্বক বয়সের আগেই বার্ধক্যের (skin ageing) দিকে এগিয়ে যায়। কিন্তু আরও আশঙ্কার বিষয়, অল্প বয়সেই অনেকেই ভুল পদ্ধতিতে ভারী কেমিক্যালযুক্ত স্কিন কেয়ার (skin care) প্রোডাক্ট ব্যবহার করছেন।” ১৫–১৬ বছরের কিশোর-কিশোরীরাও রেটিনল (retinol) বা অ্যাসিড সিরাম ব্যবহার করছে না বুঝেই—এই প্রবণতাকেও বিপজ্জনক বলেই মনে করেন ডাঃ জোহা।
সূর্য নয়, পর্দার আলোও ক্ষতিকর
বহু মানুষের মনে ধারণা, ত্বকে ক্ষতি কেবলমাত্র রোদের কারণেই হয়। কিন্তু ডাঃ জোহার মতে, “ঘরের ভেতরেও সূর্যের ইউভি রশ্মি (UV rays) ঢুকে পড়ে। ফোন, ল্যাপটপ (screen exposure), এমনকি রান্নাঘরের তাপ থেকেও ইনফ্রারেড রশ্মি (infrared rays) ত্বকের কোলাজেন ক্ষয় করে। ফলে ত্বকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি হয়, যা বার্ধক্য ত্বরান্বিত করে।” তাই শুধু বাইরে নয়, ঘরেও সানস্ক্রিন ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।
অ্যান্টি-এজিং প্রসাধনী কি সত্যিই কার্যকর?
রেটিনল, নিয়াসিনামাইড (niacinamide), ভিটামিন সি (vitamin C)—এইসব উপাদান নিয়ে বাজারে ঢেউ তুলেছে একাধিক ব্র্যান্ড। কিন্তু ডাঃ জোহার পরামর্শ স্পষ্ট, “প্রতিটি ত্বকের ধরন আলাদা। এক জনের উপযোগী যে প্রোডাক্ট, তা অন্যের ত্বকে প্রতিক্রিয়া ঘটাতেই পারে।”
তাঁর মতে, স্কিন কেয়ার রুটিনের ভিত্তি হওয়া উচিত—
ক্লিনজিং (cleansing)
ময়শ্চারাইজিং (moisturizing)
সান প্রোটেকশন (sunscreen)
এরপর ত্বকের অবস্থা বুঝে ধাপে ধাপে অন্য উপাদান যুক্ত করা যেতে পারে। তবে সবটাই বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে।
ঘুম, খাওয়াদাওয়া আর শরীরচর্চা—এজিং ঠেকানোর তিনটি স্তম্ভ
অসংগঠিত জীবনযাত্রা শুধু মানসিক নয়, ত্বকেও প্রভাব ফেলে। ডাঃ জোহা বলছেন, “ঘুম কম হলে শরীরে কর্টিসল বেড়ে যায়, কোষের বার্ধক্য ত্বরান্বিত হয়। অপরদিকে, ব্যায়াম করলে বাড়ে ‘সারটুইন’ (sirtuin) নামের প্রোটিন (protein), যা কোষকে দীর্ঘস্থায়ী করে।” এছাড়াও স্বাস্থ্যকর ডায়েট, পর্যাপ্ত জলপান, এবং মানসিক চাপ কমানো—এসব মিলেই তৈরি হয় বার্ধক্য প্রতিরোধের ভিত।
নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব
চিরযৌবন হয়তো কল্পনা, কিন্তু বয়সের আগেই মুখে বলিরেখা পড়বে—তা নিয়ন্ত্রণ করার উপায় রয়েছে। সচেতনতা, সঠিক স্কিন কেয়ার এবং নিয়মিত রুটিন থাকলে অকাল বার্ধক্যকে কিছুটা হলেও ঠেকানো সম্ভব।
ডাঃ জোহার পরামর্শ অনুযায়ী যা করণীয়—
✔️ ত্বকের ধরন অনুযায়ী স্কিন কেয়ার রুটিন (skin care routine)
✔️ নিয়মিত ব্যায়াম ও পর্যাপ্ত ঘুম
✔️ মানসিক চাপ (mental stress) কমানো
✔️ ঘরেও সানস্ক্রিন
✔️ প্রসাধনী ব্যবহারে সতর্কতা
✔️ পেশাদার পরামর্শ ছাড়া এক্সপেরিমেন্ট নয়
"বয়স বাড়বে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই বয়সের ছাপ কবে, কীভাবে পড়বে, তা অনেকটাই নির্ভর করে আপনার সচেতনতার ওপর।"
—ডাঃ শ্রাবণী ঘোষ জোহা, ত্বক বিশেষজ্ঞ