সত্যিটা হল, ওজন বাড়া কেবল কতটা খাচ্ছেন, তার উপর নির্ভর করে না। বরং নির্ভর করে শরীর সেই খাবার কীভাবে গ্রহণ করছে, তার উপর।

শেষ আপডেট: 29 January 2026 19:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমাদের পরিচিতদের মধ্যে অনেকেই রয়েছেন, যাঁদের বলতে শোনা যায়, তাঁরা “প্রায় কিছুই খান না”, তবু ওজন বাড়তেই থাকে (Weight gain despite eating little)। আবার কেউ আছেন, সারাদিন কিছু না কিছুতে তাঁদের মুখ চলছেই, কিন্তু ওজনে সেটার কোনও প্রভাব পড়ে না। বিষয়টি অনেকের কাছেই বিভ্রান্তিকর এবং হতাশাজনক তো বটেই।
কিন্তু সত্যিটা হল, ওজন বাড়া কেবল কতটা খাচ্ছেন, তার উপর নির্ভর করে না। বরং নির্ভর করে শরীর সেই খাবার কীভাবে গ্রহণ করছে, তার উপর। এখানেই আসল ভূমিকা রয়েছে মেটাবলিজমের (metabolism)। আরও নির্দিষ্ট করে বললে, বেসাল মেটাবলিক রেট (Basal Metabolic Rate - BMR) যাকে বলে।
BMR হল সেই শক্তি, যা আপনার শরীর শুধু বেঁচে থাকার জন্য ব্যবহার করে - শ্বাস নেওয়া থেকে শুরু করে চিন্তা করা, হজম হোক বা রক্ত সঞ্চালন - সবকিছুতেই। আর এখানেই লুকিয়ে রয়েছে আসল বিষয়টি, প্রত্যেকের শরীরের ‘মেটাবলিক ইঞ্জিন’ এক নয়।
সম্প্রতি, এক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে এই বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন AIIMS, হার্ভার্ড ও স্ট্যানফোর্ড–প্রশিক্ষিত গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. সৌরভ শেঠী। তিনি বোঝান, কেন খুব কম খেয়েও ওজন বাড়তে পারে (Weight Gain), আবার কেউ অনেক খেয়েও ছিপছিপে শরীর বজায় রাখতে পারেন।
BMR–এর পার্থক্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ডা. শেঠীর মতে, কিছু মানুষ জন্মগতভাবেই দ্রুতগতির বিএমআর নিয়ে জন্মান। এর পেছনে জেনেটিক্স, থাইরয়েডের কার্যকারিতা, হরমোন বা পেশির আধিক্যের (muscle mass) প্রভাব থাকতে পারে। এঁদের শরীর বিশ্রামের সময়ও বেশি ক্যালোরি খরচ করে।
অন্যদিকে, কারও বিএমআর ধীরগতির হলে, তিনি কম খেলেও শরীর বেশি ক্যালোরি খরচ করতে পারে না। ফলে ওজন বাড়ার প্রবণতা থাকে।
পেশির ভূমিকা কী এখানে?
এই ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নেয় শরীরে পেশির পরিমাণ। পেশি, চর্বির তুলনায়, বিশ্রামের সময়ও ৩ থেকে ৫ গুণ বেশি ক্যালোরি খরচ করে। তাই যাঁদের শরীরে পেশি বেশি, তাঁদের সারাদিনে ক্যালোরি খরচও বেশি হয়। নিয়মিত ব্যায়াম বা সক্রিয় জীবনযাপন এই কারণেই ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
কখন মেটাবলিজম ধীর হয়ে যায়?
ডা. শেঠী জানিয়েছেন, কিছু পরিস্থিতিতে মেটাবলিজম ধীর হয়ে যেতে পারে,
ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স থাকলে শরীর সহজে চর্বি জমিয়ে ফেলে (Insulin resistance weight gain), কিন্তু তা তত সহজে ঝরাতে পারে না। এই সমস্যা দেখা যায়—
যাঁরা কম খেয়েও ওজন বাড়ে, তাঁদের ক্ষেত্রে সাধারণত কারণ হতে পারে -
আর যাঁরা ‘যা খুশি’ খেয়েও রোগা থাকেন, তাঁদের ক্ষেত্রে কারণ হতে পারে -
সবশেষে ডা. শেঠীর একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য, “এটার কারণ শুধু আলস্য নয়, এটা ব্যক্তিবিশেষে শরীরের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার।”
তাঁর কথায়, কম খাওয়া লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়, বরং শরীরকে বেশি ক্যালোরি খরচ করতে সাহায্য করুন। পেশি বাড়ানোতে নজর দিন, স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণে রাখুন, পর্যাপ্ত ঘুমান এবং নিয়মিত কিছু না কিছু পরিশ্রম করুন। ছোট ছোট দৈনন্দিন 'মুভমেন্ট'ও দীর্ঘমেয়াদে বড় পার্থক্য গড়ে দেয়।