বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকুনগুনিয়া, ডেঙ্গি ও জাপানি এনসেফালাইটিস, এই তিনটি 'আরবোভাইরাস' বা মশাবাহিত ভাইরাসই সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ছড়ায়। এদের মধ্যে ডেঙ্গির রূপ বদলানোর প্রবণতা (জেনেটিক মিউটেশন) খুব উচ্চ মাত্রায়।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 23 July 2025 20:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা-সহ সারা দেশে এই সময় ডেঙ্গির প্রকোপ দেখা যায়। বর্ষা নামলেই শহর থেকে গ্রাম, সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। কিন্তু ডেঙ্গির ভিড়ে অনেকটাই উপেক্ষিত থেকে গিয়েছে আরেকটি মারাত্মক মশাবাহিত রোগ, চিকুনগুনিয়া। প্রাণঘাতী না হলেও, এর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব রোগীকে নাজেহাল করে দেয় মাসের পর মাস। এবার ফের এই ভাইরাসের উত্থানের বিষয়ে সর্তক করল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)।
২০০৫ সাল নাগাদ ভারতে প্রথম বড়সড়ভাবে মাথাচাড়া দেয় চিকুনগুনিয়া। তখন দেশজুড়ে আতঙ্ক ছড়ালেও, পরবর্তীতে তার প্রকোপ কিছুটা কমে আসে। তবে সেই ঢিলেঢালা মনোভাবেই বিপদ বাড়ছে বলে মনে করছে হু। তাদের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ১১৯টি দেশের ৫৬০ কোটি মানুষ এই ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকুনগুনিয়া, ডেঙ্গি ও জাপানি এনসেফালাইটিস, এই তিনটি 'আরবোভাইরাস' বা মশাবাহিত ভাইরাসই সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ছড়ায়। এদের মধ্যে ডেঙ্গির রূপ বদলানোর প্রবণতা (জেনেটিক মিউটেশন) খুব উচ্চ মাত্রায়। ঠিক একই রকমভাবে চিকুনগুনিয়াও আরএনএ ভাইরাস হওয়ায় যেকোনও সময় নিজের চরিত্র বদলে ফেলতে পারে।
সমস্যার শুরু এখানেই। কারণ, ‘আরবোভাইরাল ফিভার’ হলেই চিকিৎসকরা সাধারণত ডেঙ্গির এনএস১ বা আইজিএম এলাইজা পরীক্ষা করান। রিপোর্ট স্বাভাবিক থাকলে রোগীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। অথচ শরীরে নিঃশব্দে বাসা বাঁধে চিকুনগুনিয়া। জ্বর সেরে যাওয়ার অনেক পরে শুরু হয় ভয়ানক গাঁটের ব্যথা, যা দীর্ঘদিন ভোগায়।
আফ্রিকায় প্রথম হদিস মিলেছিল এই ভাইরাসের। বাংলার লোককথার ভাষায় যাকে বলা যায় ‘হাড় মচমচে’ ব্যামো। বিশেষত অস্থিসন্ধিতে এই ভাইরাস সবচেয়ে বেশি আঘাত করে। হাড়ের সন্ধিতে তীব্র যন্ত্রণা, শরীরে লালচে র্যাশ ও ক্লান্তি, এই উপসর্গগুলি একে আলাদা করে চিনিয়ে দেয়।
চিকুনগুনিয়ার বাহক হল স্ত্রী এডিস ইজিপ্টাই ও এডিস অ্যালবোপিক্টাস মশা। ডেঙ্গির মশার মতোই দিনের আলোয় কামড়ায়। আর এই রোগের কোনও নির্দিষ্ট ওষুধ বা টিকাও এখনও পর্যন্ত তৈরি হয়নি। মূল চিকিৎসা বলতে উপসর্গ অনুযায়ী ব্যথা বা জ্বর নিয়ন্ত্রণ করাই ভরসা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকুনগুনিয়া আক্রান্তদের অনেক সময় জ্বর চলে যাওয়ার ৬ মাস বা ১ বছর পরেও গাঁটের যন্ত্রণায় ভুগতে হয়। অথচ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগটি ঠিকভাবে নির্ণয় হয় না। ফলে যথাযথ চিকিৎসাও হয় না।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, মশাবাহিত যেকোনও ভাইরাসের ক্ষেত্রেই সচেতনতা ও সঠিক রোগ নির্ণয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিষেধক না থাকায় মশা নিয়ন্ত্রণই একমাত্র পথ। মশারি ব্যবহার, জমা জল পরিষ্কার রাখা ও শরীর ঢেকে রাখা, এই সব নিয়ম মেনে চললে অনেকটাই রোখা সম্ভব এই বিপজ্জনক ভাইরাসের সংক্রমণ।
শুধু ডেঙ্গি নয়, ডেঙ্গির মতোই ভয়ংকর হয়ে উঠছে চিকুনগুনিয়া। গাঁটে গাঁটে যন্ত্রণা নিয়ে বসে থাকার থেকে ভাল, সময় থাকতেই সতর্ক হওয়া। কারণ, সতর্কতাই এখন একমাত্র উপায়।