
শেষ আপডেট: 3 February 2024 23:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যৌনজীবনে সক্রিয় বেশিরভাগের শরীরেই কোনও না কোনও সময় সংক্রমণ ছড়ায় এইচপিভি বা হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস। এই ভাইরাসের প্রায় ২০০ রকম ভ্যারিয়ান্ট আছে যা নানারকম রোগের জন্য দায়ী। বিশেষ করে মহিলাদের জরায়ুমুখের ক্যানসার বা সার্ভিক্যাল ক্যানসারের অন্যতম কারণ এই ভাইরাস। চিকিৎসকরা বলছেন, এইচপিভি ভাইরাসের কারণেই ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে জরায়ুমুখের ক্যানসার বেশি ছড়াচ্ছে।
ক্যানসার মানেই আতঙ্ক। জরায়ু মুখ বা সার্ভিক্সের ক্যানসার হয়েছে শুনলে আতঙ্ক আর অসহায়তা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। দেশের মহিলাদের মধ্যে স্তন ক্যানসারের হার এমনতিও বেশি। তার ওপর জরায়ুর ক্যানসার মানে উদ্বেগের পারদ আরও বেশি চড়ে। জরায়ু মুখের ক্যানসারকে বলে সার্ভিক্যাল ক্যানসার। এ দেশের মহিলাদের এই ক্যানসারই সবচেয়ে বেশি হয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রায় ৯৯% জরায়ুমুখের ক্যানসারের জন্য দায়ী একটি ভাইরাস যার নাম, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস বা এইচপিভি। এই ভাইরাস শরীরে ঢোকার প্রায় ১৫ থেকে ২০ বছর পর দেখা দেয় এই ক্যানসার।
এইচপিভি ভাইরাস কী? কীভাবে ছড়ায়
হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) (Human papillomavirus infection)-এর সংক্রমণে মারাত্মক হয়ে দেখা দেয়। এইচপিভি ভাইরাসের দুটি জিন E6 ও E7 শরীরে ঢুকলে জরায়ুর কাছে অনিয়মিত কোষের বিভাজন শুরু হয়। ভাইরাল প্রোটিন ধীরে ধীরে ডালপালা মেলতে শুরু করে। শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে তছনছ করে দেয়। জরায়ুর নীচের অংশ যোনির সঙ্গে যুক্ত, সংক্রমণ হয় এখানেই। তবে সারভাইক্যাল ক্যানসারের আর একটি প্রধান কারণ অসুরক্ষিত যৌন সম্পর্ক।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) জানাচ্ছে, এই ভাইরাসের শতাধিক ভ্যারিয়ান্ট আছে যাদের মধ্যে ১৪টি রূপ ক্যানসারের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এইচপিভি-১৬, এইচপিভি-১৮ ভাইরাস বেশি সংক্রমণ ছড়ায়। বহুদিন অবধি টিকে থাকতে পারে এই ভাইরাস। দীর্ঘ সময় ধরে অসুরক্ষিত যৌন সম্পর্কে বা একাধিক সম্পর্কে থাকলে জরায়ু-মুখের কোষগুলি পরিরর্তিত হতে থাকে। এই পরিবর্তনই ক্যানসারকে ডেকে আনে।
কোন বয়সের মহিলারা হাই-রিস্কে?
চিকিৎসকরা বলছেন, ২০ বছরের কম বয়সিদের এ রোগ সাধারণত হয় না। আক্রান্তেরা সাধারণত ৩০ থেকে ৪২ বছর বয়সি হয়ে থাকেন। ৬০ বছরের পরও এ রোগ হতে পারে, তবে সংখ্যা তুলনামূলক কম। তবে ক্যানসার মানেই মৃত্যু এমন ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। আর বিশেষ করে মহিলারা এই রোগকে গোপন করার ফলে অনেক সময় বিপদ বাড়ে। অনেকক্ষেত্রেই যোনিতে সংক্রমণ হলে রোগ জানাতে চান না মহিলারা। ডাক্তারের কাছে যেতে দেরি হয়। ফলে চিকিৎসাও দেরিতে শুরু হয়। ক্যানসার তার অন্তিম পর্যায়ে পৌঁছে যায়। তাই সচেতনতা সবচেয়ে আগে দরকার। উপযুক্ত চিকিৎসায় জরায়ু মুখ ক্যানসারের পুরোপুরি আরোগ্য সম্ভব। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এই রোগ খুব সহজেই এড়ানো যায়।
ল্যানসেটের সমীক্ষা বলছে, জরায়ুমুখ বা সার্ভিক্যাল ক্যানসারে আক্রান্ত বিশ্বে প্রতি পাঁচজন মহিলার একজনই ভারতীয়। যদি চারজনেরও মৃত্যু হয় জরায়ুমুখের ক্যানসারে, তাহলে তার মধ্যে একজন নিশ্চিতভাবে ভারতীয়ই হবেন। প্রতি বছর জরায়ুমুখের ক্যানসারে ভারতে ২৩ শতাংশের মৃত্যু হয়।