সোলো ট্রাভেল শুনলেই অনেকের মাথায় আসে অফুরন্ত স্বাধীনতা, নতুন কোনও শহর আর নিজের মতো করে ঘোরা। কিন্তু এর সঙ্গে আসে কিছু অচেনা অস্বস্তিও (solo travel tips)।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 15 November 2025 17:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোলো ট্রাভেল (solo travel) শুনলেই অনেকের মাথায় আসে অফুরন্ত স্বাধীনতা, নতুন কোনও শহর আর নিজের মতো করে ঘোরা। কিন্তু এর সঙ্গে আসে কিছু অচেনা অস্বস্তিও। নতুন শহরের রাস্তা চেনা, একা একা খাওয়ার মুহূর্ত, সবকিছু নিজেকেই সামলানোর চাপ - এই সব কিছুর মাঝেই বুঝতে পারা যায়, পৃথিবী আসলে অনেকটাই অন্যরকম ভাবে ধরা দেয় যখন আপনি নিজেকে খোলামেলাভাবে তার কাছে ধরা দেন। আর পথ চলতে চলতে অচেনা মানুষজনই হয়ে ওঠেন সেই যাত্রার সবচেয়ে স্মরণীয় অংশ (solo travel tips for connections)।
ট্রাভেল ক্রিয়েটর সঞ্জনা গোস্বামী (@undermypinkumbrella) মনে করেন, সোলো ট্রাভেল মানেই কিন্তু একা থাকা নয়। বরং তাঁর জীবনের অনেক মূল্যবান বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছে অপরিচিত রাস্তায়, লম্বা বাস জার্নিতে, আর হোস্টেলের কমন রুমে (how to make friends while solo travelling)।
তাঁর কথায়, “সোলো ট্রাভেলে আমি জীবনের সবচেয়ে মিশুকে, মজার আর অপ্রত্যাশিত মানুষদের দেখেছি, চিনেছি।” তিনি জানিয়েছেন, কীভাবে খুব সহজেই পথেই তৈরি হতে পারে গভীর অথচ বাস্তব কানেকশন।
সোলো ট্রাভেলারদের কী টিপস দিলেন সঞ্জনা?
১. প্রথমেই নিজের সঙ্গে সময় কাটাতে স্বচ্ছন্দ হন
অন্যকে চিনতে হলে আগে নিজের সঙ্গ পছন্দ করতে শেখা জরুরি। শুনতে অদ্ভুত লাগলেও সত্যি যে, যখন আপনি নিজের মতো খুশি, শান্ত ও নির্ভার থাকেন, তখনই আপনার আশপাশের মানুষ আপনার সঙ্গে আড্ডা দিতে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন।
ক্যাফেতে বই পড়া, স্থানীয় বাজারে ঘুরে বেড়ানো, বা রেস্তরাঁয় একা খেতে বসা - এই আত্মনির্ভারতা থেকেই প্রথম বন্ধুত্বের দরজা খোলে।
২. কিছু ক্ষেত্রে 'হ্যাঁ' বলার অভ্যাস গড়ে তুলুন
সোলো ট্রাভেল নানা হঠাৎ পাওয়া সুযোগ এনে দেয়। হোস্টেলে কেউ রাতের খাবার, সমুদ্রস্নান বা ভোরের ট্রেকের প্রস্তাব দিলে চট করে রাজি হয়ে যান। নতুন স্মৃতি তৈরির সুযোগ আসে বিছানায় গুটিসুটি মেরে বসে থাকলে নয়। তবে অবশ্যই ভেবে চিনতে নেবেন সবকিছু।
৩. গ্রুপ ট্যুরে যোগ দিন
যদি একটু লাজুক হন, বা কোথা থেকে শুরু করবেন বুঝতে না পারেন, গ্রুপ অ্যাক্টিভিটি সেখানে অসাধারণ অপশন।
ওয়াকিং ট্যুর, কুকিং ক্লাস, পাব ক্রল, আর্ট ওয়ার্কশপ, ডে-হাইক - সবক্ষেত্রেই একই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। হাসাহাসি, শেখা আর পথচলায় স্বাভাবিকভাবেই বন্ধুত্ব হয়।
৪. হোস্টেলে থাকলে সুবিধাই বেশি
ব্যাকপ্যাকার হলেই যে হোস্টেলে থাকতে হবে, তা নয়। এখনকার আধুনিক হোস্টেলগুলি সুন্দর, পরিষ্কার, নিরাপদ। আর তাদের কমন স্পেস, রান্নাঘর, নাইট ইভেন্ট সবই তৈরি হয়েছে ট্রাভেলারদের মেলামেশার জন্য।
মুভি নাইট, গেম ইভনিং, স্থানীয় খাবারের টেস্টিং, রুফটপ গেদারিং - এসব থেকেই জন্ম নেয় লম্বা দিনের বন্ধুত্ব।
৫. প্রশ্ন করুন, কৌতূহলী থাকুন
কখনও কথার খেই হারালে মনে রাখুন, কৌতূহলই সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। খুব সাধারণ প্রশ্নেই জমে উঠতে পারে বহুক্ষণ আড্ডা। “আপনি কোথা থেকে এসেছেন?”, “এখন কোন শহর ঘুরে বেরোলেন?”, “আজ রাতে যাওয়ার মতো জায়গা রেকমেন্ড করবেন?”
বেশিরভাগ সোলো ট্রাভেলারই আসলে কথা বলতে চান, শুধু কেউ একজন শুরু করার অপেক্ষা।
৬. মানসিকতা বদলান: সোলো মানেই একা নয়
সবচেয়ে বড় বদলটা আসবে এই অনুভূতিতে - দলের সঙ্গে না থাকলেও আপনি কোথাও কম নন। বন্ধুত্ব তৈরি হয় অদ্ভুত সব জায়গায়। ট্রেনে, লাইনে দাঁড়িয়ে, ক্যাফেতে, পাহাড়ের সূর্যাস্ত দেখার সময় পাশের একজনের সঙ্গে। আপনার পরের বন্ধু হয়তো পরের বাসেই বসে আছেন।
সঞ্জনার মতে, “সোলো ট্রাভেল আপনাকে স্বাধীনতা দেয়, আর মানুষজন সেই যাত্রাকে রঙিন করে তোলে। কানেকশন নিজে থেকেই তৈরি হয়, শুধু মনটা খোলা রাখতে হবে।”