
মরারাষ্ট্রের ঝর্না।
শেষ আপডেট: 23 June 2024 17:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেড়াতে কে না ভালবাসে। কেউ পাহাড়, কেউ সমুদ্র, কেউ আবার জঙ্গল। কিন্তু কারও যদি তিনটেই একসঙ্গে চাই! তাহলে তার জন্য মহারাষ্ট্রের থেকে ভাল বিকল্প আর কিছুই হতে পারে না। এই তিনের সমাহারে অত্যাশ্চর্য প্রাকৃতিক দৃশ্যের সঙ্গে সঙ্গে ঐতিহ্য ও ইতিহাসের দিক থেকেও তার গুরুত্ব কম নয়।
পশ্চিমঘাট পর্বতমালা ও তার আনাচকানাচে ছড়ানো একাধিক ঝর্না এই রাজ্যকে অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আখর করে তুলেছে। বিশেষ করে বর্ষার সময়ে মহারাষ্ট্র আরও মোহনীয়। মরশুমের ভারী বৃষ্টিপাত এবং শীতল ভেজা বাতাসে মোড়া সবুজ ল্যান্ডস্কেপ জলপ্রপাতগুলিও নেচে ওঠে আনন্দে। অবিশ্বাস্য সৌন্দর্যের সাক্ষী থাকার জন্য প্রতি বছরই বহু পর্যটকের সমাহার হয় এই রাজ্যে।
মহারাষ্ট্রের আহমেদনগর জেলায় অবস্থিত এই ঝর্না। জনপ্রিয় হিল স্টেখন ভাণ্ডারধারা থেকে এর দূরত্ব মাত্র ১১ কিলোমিটার। প্রবরা নদীর অংশ এই ঝর্না। উচ্চতা বেশ ভাল, চারপাশে অপরূপ প্রাকৃতিক দৃশ্যের সমারোহ। সবুজে ঢাকা পাথুরে উঁচুনিচু পথ পেরিয়ে পৌঁছনো যায় এই ঝর্নায়। একদিকে নিস্তব্ধ সবুজ আর অন্যদিকে তুমুল গর্জনে বয়ে চলা উচ্ছল ঝর্না-- সব মিলিয়ে দারুণ এক অভিজ্ঞতার সাক্ষী থাকেন পর্যটকরা।
![]()
পুণে থেকে ১৩৫ কিলোমিটার দূরে, সহ্যাদ্রি পর্বতের গায়ে অবস্থিত এই ঝর্নাটির প্রাকতিক সৌন্দর্য অপরূপ। উচ্চতার জন্য এই ঝর্না বিখ্যাত। প্রায় ৫০০ মিটার উঁচু থেকে আছড়ে পড়ে রাশি রাশি জল। এটি দেশের অন্যতম সুউচ্চ ঝর্নাও বটে। নিস্তব্ধ পরিবেশ, ঘন সবুজ অরণ্য, বিস্তত সবুত উপত্যকা, খাড়াই পাথুরে ঢাল-- এসব আলাদা মাত্রা যোগ করেছে এই ঝর্নায়। বর্ষায় এর মোহময়ী রূপ দেখে চোখ ফেরানো যায় না।
![]()
সহ্যাদ্রি পর্বতে অবস্থিত মালশেজ ঘাট ঝর্নার দূরত্ব মুম্বই থেকে ১৫৪ কিলোমিটার এবং পুনে থেকে ১৩০ কিলোমিটার। সড়কপথে সহজেই যাওয়া যায় এই ঝর্নায়, তাই সপ্তাহান্তের ছুটি কাটানোর সেরা ঠিকানা এই ঝর্না। ভারী বৃষ্টির সময়ে এই ঝর্না ও আশপাশের ল্যান্ডস্কেপের যেন পুনর্জন্ম ঘটে। পাহাড় এবং উপত্যকাগুলি সবুজ ঢেকে যায়, একাধিক জলপ্রপাত প্রাণ পায়। ছোট-বড় বেশ কয়েকটি জলপ্রপাত একসঙ্গে সেজে ওঠে এই মালশেজ ঘাটে। এই অঞ্চলে পরিযায়ী পাখি-সহ বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণীও দেখা যায়। নিকটবর্তী পিম্পলগাঁও জোগা বাঁধ পাখি দেখার জন্যও বিখ্যাত, ফোটোগ্রাফারদের বিশেষ আকর্ষণ।
![]()
গোদাবরী নদীর অববাহিকায় অবস্থিত এই ঝর্নার নিকটবর্তী শহর হল নান্দেদ। সেখান থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে, সহ্যাদ্রি পর্বকে অবস্থিত এই জলপ্রপাত। সহস্রকুণ্ড কথাটির অর্থ, 'হাজার ধাপ'। জলপ্রপাতের অনন্য গঠনের জন্যই এমন নাম। এই জলপ্রপাতটি ধাপে ধাপে এরটি সিরিজের মতো নীচে নেমে যায়। লম্বায়-চওড়ায় এটি অন্য ঝর্নাগুলোর চেয়ে কমই, কিন্তু টায়ারের মতো ধাপে ধাপে জল নামার যে ভৌগোলিক ম্যাজিক, তা দেখতেই ছুটে আসেন পর্যটকরা। বিশ্বাস করা হয়, রাম তাঁর অরণ্যে নির্বাসনের সময়ে এখানে স্নান করেছিলেন।
![]()
মহাবালেশ্বরের কাছেই অবস্থিত এই লিঙ্গমালা জলপ্রপাত পর্যটকদের কাছে দারুণ জনপ্রিয়। ঘন অরণ্যে মোড়া সবুজ পটভূমির বুকে হাতে আঁকা ঝর্নার মতো নেমে আসে এই জলপ্রপাত। পাথুরে ভূখণ্ড এর আকর্ষণ বাড়িয়ে তোলে। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এক রাজকন্যা তাঁর স্নানের সময়ে রতিক্রীড়া করার জন্য এই জলপ্রপাতে আসতেন। এছাড়াও এই ঝর্নার আশপাশে ভাল স্ট্রবেরি পাওয়া যায়, যা পর্যটকদের আরও এক আকর্ষণ।
![]()
মহারাষ্ট্রের রায়গড় জেলার ভিবপুরী গ্রামে অবস্থিত এই জলপ্রপাতটির আর এক নাম, ভোওজন ঝর্না। পর্যটকদের তো বটেই, স্থানীয়দের বেড়ানোর জন্যও এই ঝর্না বড় আকর্ষণ। পশ্চিম ঘাট পর্বতে অবস্থিত পাহাড়ি অঞ্চলের বুকে এই ঝর্নাকে ঘিরে রয়েছে দুর্দান্ত ট্রেকিং ট্রেলও। মুম্বই এবং পুণে থেকে সহজেই পৌঁছনো যায় এই ঝর্নায়। আশপাশের কোন্ডনা গুহা এবং উলহাস উপত্যকাও ঘুরে দেখার মতো।
![]()
নির্মল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের খোঁজে এই ঝর্নার কোলে বহু মানুষের ভিড় হয় প্রতি বর্ষায়। পাথুরে পাহাড়ের গা বেয়ে আছড়ে পড়া জলরাশি এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য তৈরি করে। চারপাশের সবুজ যেন আরও ঝলমলিয়ে ওঠে বর্ষায়। আম্বোলিকে কেন্দ্র করে রয়েছে একাধিক ট্রেকিং ট্রেলও। বৈচিত্র্যময় উদ্ভিদ এবং প্রাণীজগতের সমাহারও রয়েছে এই এলাকায়। সেই সঙ্গে উপরি পাওনা, সুস্বাদু কোঙ্কনি খাবারদাবার। ![]()