'প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিওর' - সার্ভিক্যাল ক্যানসার অ্যাওয়ারনেস মান্থ (cervical cancer awareness month) -এ এটাই যেকোনও বয়সি মহিলাদের কাছে বার্তা সিনিয়র গাইনোকলজিস্ট ধ্রুবা রায়ের।

গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 19 January 2026 13:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ''প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিওর। অর্থাৎ, রোগ সারানোর চাইতে রোগ হওয়াটাকেই আটকানো সবচেয়ে সুবিধা। শুরুতেই আটকাতে দিতে পারলে পরে সেটা বড় আকার পর্যন্ত পৌঁছবে না। যদি ছোটবেলা থেকে সচেতন হতে পারা যায়, পরবর্তীকালে অনেক সমস্যাই রুখে দেওয়া সম্ভব'', সার্ভিক্যাল ক্যানসার অ্যাওয়ারনেস মান্থ (cervical cancer awareness month) -এ এটাই যে কোনও বয়সি মহিলাদের কাছে বার্তা সিনিয়র গাইনোকলজিস্ট এবং অবস্টেস্ট্রিশিয়ান ধ্রুবা রায়ের (gynecologist advice)।
বহু বছরের অভিজ্ঞতায় গাইনোকলজিস্টের সাফ সতর্কবাণী, ''আজকাল সার্ভিক্যাল ক্যানসারে (cervical cancer) মৃত্যু হওয়া উচিতই নয়। অন্য যে কোনও ক্যানসারের ক্ষেত্রে সবসময় আগে থেকে কোনওরকম সংকেত না থাকলেও এই ক্ষেত্রে শরীর কিন্তু অনেক আগে থেকেই জানান (cervical cancer symptoms) দিতে শুরু করে। সম্পূর্ণ সেরে ওঠাও সম্ভব। হোয়াইট ডিসচার্জে দুর্গন্ধ (smelly white discharge in cervical cancer), অনিয়মিত ব্লিডিং (irregular period bleeding in cervical cancer) দেখা দিলে সতর্ক হতে হবে।''
এক্ষেত্রে মহিলাদেরই দায়িত্ব বেশি, ওঁদেরই সচেতন হতে হবে, বলছেন ডাঃ ধ্রুবা। তাঁর কথা, ''অনেকেই এমন সময়ে চিকিৎসা করাতে আসেন, যখন অনেকটা দেরি হয়ে গিয়েছে।'' অবশ্য তিনি মনে করেন, পরিবারেরও এইসময় পাশে থাকার একটা বড় ভূমিকা রয়েছে।
গাইনোকলজিস্টের কথায়, সঠিক স্ক্রিনিং (cervical cancer screening) এবং ভ্যাকসিনেশনের (cervical cancer vaccination) মাধ্যমে ইউরোপীয় দেশে সার্ভিক্যাল ক্যানসার অনেক কমে গিয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে সার্ভিক্যাল ক্যানসার এখনও একটা বড় সমস্যা (cervical cancer death rate)। ব্রেস্ট ক্যানসারের পরেই এর স্থান। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মহিলা এতে আক্রান্ত হচ্ছেন। তাই তাঁর বিশেষ পরামর্শ, ভ্যাকসিনেশন প্রোগ্রামে যা যা ভ্যাকসিনের কথা বলা থাকে, তা যেন কোনওভাবেই মিস না হয়।
কম বয়স থেকেই সচেতনতা দরকার
আমাদের সমাজে এখনও মেয়েদের শরীর নিয়ে খোলাখুলি কথাবার্তা হয় না। গোটা বিষয়টাই যেন একটা লুকোচুরি। পিরিয়ড হওয়া মানে ফিসফাস, সেটা একটা 'শরীর খারাপ'। অল্পবয়সি মেয়েদের ক্ষেত্রে, সচেতনতা অনেক কম। কিন্তু সেখানেই সচেতনতা বেশি প্রয়োজন আর সেখানে বাবা-মায়েরই দায়িত্ব বেশি। অনেক সময় কম বয়স থেকেই শুরু হয় নানা সমস্যা। তাই একটা কথা বারবার বোঝানোর চেষ্টা করলেন গাইনোকলজিস্ট, ''আজকাল ডায়েট, লাইফস্টাইলের জন্য কমবয়সি মেয়েদের পলিসিস্টিক ওভারি, এন্ডোমেট্রিওসিস হচ্ছে। সেই নিয়ে বাবা-মাকেই সচেতন হতে হবে। তাঁদেরই বুঝতে হবে কখন ডাক্তারের পরামর্শ দরকার।''
পিরিয়ড শুধু শরীরের সমস্যা নয়
পিরিয়ড মানে সেটা যে শুধু প্রতি মাসে ব্লিডিং বা পেটে অসহ্য ক্র্যাম্প নিয়ে আসে তাই নয়, পাশাপাশি চলতে থাকে মানসিক এক টানাপড়েন। সেখানেও 'কালপ্রিট' হরমোনের ওঠানামা। মানসিক সমস্যা দেখা দেওয়ায় তিনি হয়তো মনোবিদ বা সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে যাচ্ছেন, কিন্তু সমস্যা আসলে শরীরে, যার প্রভাব গিয়ে পড়ছে মনে ওপর। ডাক্তারের কথায়, ''কারও হয়তো প্রচণ্ড মাথাব্যথা, ডিপ্রেশনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। সেখা গেল আসল সমস্যা ইউটেরাসে।''
ইউটেরাসের সঙ্গে মনের সমস্যার সরাসরি যোগ রয়েছে
ডাঃ ধ্রুবা জানালেন, ''এন্ডোমেট্রিওসিস, গুরুতর পিএমএস বা পিএমডিডির মতো সমস্যায় পিরিয়ড আসার আগে থেকে মহিলারা প্রচণ্ড অ্যাংজাইটিতে ভোগেন, হঠাৎ হঠাৎ রেগে যান, ডিপ্রেশনে ভুগতে পারেন। এই সচেতনতা দরকার যে, সেটা রিপ্রোডাক্টিভ হেলথের সঙ্গে যুক্ত মানসিক সমস্যা।'' গাইনোকলজিস্টের পরামর্শে এবং লাইফস্টাইলের পরিবর্তন করতে পারলে সেখান থেকেও বেরিয়ে আসা সম্ভব।