স্থানীয় সামগ্রী, প্রাচীন রান্নার পদ্ধতি, বুনো সবজির স্বাদ আর ঠাকুমা-দিদিমাদের ভাঁড়ার থেকে উঠে আসা রেসিপি দিয়ে সাজানো মেনু পাহাড়ের প্রতিটি ঘরের গল্প বলবে।

পাহাড়ের খাবার দাবার
শেষ আপডেট: 26 May 2025 16:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাহাড়ে বসেই পাহাড়ের হারিয়ে যেতে বসা রান্নার স্বাদ আপনার প্লেটে পরিবেশন করতে হাজির হয়েছে 'তাজ চিয়া কুটির রিসর্ট অ্যান্ড স্পা।' এই রিসর্ট ও 'গোরমেই'-এর উদ্যোগে ২২ মে থেকে শুরু হয়েছে এক অভিনব খাদ্য উৎসব, 'দ্য মাউন্টেন টেবিল।' পূর্ব হিমালয়ের বিলুপ্তপ্রায় অথচ সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ পদ ও তার গল্প নিয়ে এই উৎসব চলবে ২৮ মে পর্যন্ত।
এই উৎসবে যে শুধু খাবার থাকছে, তা নয়। থাকছে পাহাড়ের মানুষের জীবনযাত্রাকে খুব কাছ থেকে জানার সুযোগ। ঐতিহ্য আর ইতিহাসের স্বাদ চেখে দেখার অবকাশ। শেফ ঈশিতা রাই দেওয়ান এবং শেফ ক্যাথেরিন লিম দার্জিলিং, কালিম্পং, সিকিম, নেপাল, ভুটান, চিন এবং তিব্বতের রন্ধনশৈলীর কোলাজ তুলে ধরছেন নিজেদের শৈল্পিক সত্ত্বা দিয়ে।
স্থানীয় সামগ্রী, প্রাচীন রান্নার পদ্ধতি, বুনো সবজির স্বাদ আর ঠাকুমা-দিদিমাদের ভাঁড়ার থেকে উঠে আসা রেসিপি দিয়ে সাজানো মেনু পাহাড়ের প্রতিটি ঘরের গল্প বলবে।
শেফ ঈশিতার মেনুতে থাকছে 'ধিনডো' (মশলাদার দেশি মুরগির সঙ্গে), ‘কাঞ্চেম্বা’ (ভাজা বাজরার খাবার), ‘খুরিকু’ (বাকউইট প্যানকেকের সঙ্গে স্মোকড চিকেন), ‘সিসনু’ (স্টিংগিং নেটেল), ‘গুন্ড্রুক’ (জারানো সরষে পাতা), আর গাঁজানো মুগ ডালের স্যালাড। তিনি বলেন, 'পাহাড়ের রান্নার মূল সৌন্দর্যই হল তার ঐতিহ্য ও সাধারণ ধরন। আমি যে খাবার খেয়ে বড় হয়েছি, আজ সেই খাবারকেই বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে পেরে গর্বিত লাগছে।'
শেফ ক্যাথেরিন লিমের হাত ধরে এই আয়োজনে এসেছে চিনা প্রভাবও। যেমন ‘এইট ট্রেজার স্যুপ উইথ কর্ডিসেপস মাশরুম’, ‘ইয়াং টাউ ফু’, ‘হাক্কা ইয়াম মিয়েন’ এবং হিমালয়ান পেরিলা বীজে তৈরি ‘চাইনিজ কনজি।’ ক্যাথেরিন বলছেন, 'পূর্ব হিমালয়ের রন্ধন ঐতিহ্যে চৈনিক প্রভাব একটা বড় জায়গা দখল করে আছে, সেটাকেই তুলে ধরতে চেয়েছি।'
তাজ চিয়া কুটির-এর বিখ্যাত রেস্তরাঁ চিয়া বারান্দায় চলবে এই উৎসব। দুপুর ও রাত দুই সময়েই চেখে দেখতে পারবেন এই বিশেষ মেনু। নিরামিষ খাবারের দাম পড়বে তিন হাজার টাকা (প্লাস ট্যাক্স), আর আমিষ সেট মেনুর দাম তিন হাজার ৫০০ টাকা (প্লাস ট্যাক্স)।
রিসর্টের জেনারেল ম্যানেজার জিতেন্দ্র সিং লোটে বলেন, 'এই আয়োজনের মাধ্যমে আমরা শুধু খাবার নয়, এক ঐতিহাসিক রন্ধন যাত্রা পরিবেশন করতে চাইছি। অতিথিরা মকাইবাড়ির চা-বাগানের সৌন্দর্য আর পাহাড়ের শান্ত পরিবেশে বসে এই খাবার উপভোগ করার সুযোগ পাবেন।'
হাতে এখনও সময় রয়েছে আড়াই দিন। যাঁরা রয়েছেন এই রিসর্টের কাছে, তাঁরা চেখে দেখতেই পারেন এই বিশেষ মেনু।