
শেষ আপডেট: 6 December 2023 10:24
অলকানন্দা পাল
ছুটিছাটায় বেড়ানোর ঠিকানা মানেই বেশিরভাগ মানুষের কাছে পাহাড় কিংবা সমুদ্র। হাজার অফবিট ডেস্টিনেশনও দিঘা-পুরী কিংবা দার্জিলিংয়ের জনপ্রিয়তা কমাতে পারেনি বাঙালির কাছে। তবে অনেকেই রয়েছেন যাঁরা প্রকৃতির মাঝে সময় কাটানোর জন্য পছন্দ করেন গহীন অরণ্য। সঙ্গে যদি নদী ফাউ হয় তাহলে তো সোনায় সোহাগা। জঙ্গল আর নদীর সমাহার বললেই মানুষ সাধারণত বোঝেন সুন্দরবনের কথা। তবে অনেকেই জানেন না, পড়শি রাজ্যেই রয়েছে এমন জায়গা, যা সুন্দরবনের চেয়ে কোনও অংশে কম নয়। বাঘের দেখা না পেলেও এখানে রয়েছে অজস্র কুমির। সঙ্গে, হরিণ, লাল কাঁকড়া, কচ্ছপ আর পাখিদের দেখা পেতে পারেন।
এই জায়গাটি হল ওড়িশার ভিতরকণিকা। জঙ্গল, নদী আর বন্যপ্রাণের সহাবস্থানের জন্য অনেকেই এটিকে ভারতের আমাজন বলে থাকেন। পারাদ্বীপ এবং চাঁদিপুরের মাঝখানে অবস্থিত এই ভিতরকণিকার জঙ্গল সুন্দরবনের মতোই ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট। জঙ্গলটি তৈরি হয়েছে একটি বদ্বীপের উপর যেটিকে ঘিরে রয়েছে ব্রাহ্মণী এবং বৈতরণী নদী। অন্যদিকে বঙ্গপোসাগর। তার মাঝেই ৬৫০ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ভিতরকণিকা অরণ্য। ২০০২ সালে এই জঙ্গল রামসার সাইটের স্বীকৃতি পেয়েছে।
ভিতরকণিকা মূলত কুমিরের জন্য বিখ্যাত। দুই নদীর সঙ্গমস্থলে রয়েছে প্রচুর কুমির। নদীবক্ষে নৌকাবিহার করতে করতেই তাদের দেখা মিলবে। সঙ্গে হয়তো জঙ্গল থেকে বেরিয়ে নদীতে জল খেতে আসবে হরিণের দল। রয়েছে মাছরাঙা সহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। আর দেখতে পাবেন অজস্র লাল কাঁকড়া। পিলপিল করে নদীতটে দৌড়ে বেড়ায় তারা। জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের মধ্যে এখানে গেলে দেখতে পাবেন অলিভ রিডলে কচ্ছপ। তখন বঙ্গোপসাগর থেকে উপকূল এলাকায় ডিম পাড়তে আসে তারা।
হাতে দিন তিনেকের ছুটি থাকলে অবশ্যই ঘুরে আসতে পারেন ভিতরকণিকা থেকে। এখানে যেতে গেলে প্রথমেই পৌঁছাতে হবে ভদ্রক স্টেশনে। সেখান থেকে যেতে হবে চাঁদবালিতে। তারপর চাঁদবালি থেকেই পৌঁছে যেতে পারবেন ভিতরকণিকায়। এখানে জঙ্গলের ভিতরেই রয়েসেহে বেশ কিছু রিসর্ট। সেখানে দুটো দিন কাটিয়ে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের স্মৃতি নিয়ে ফিরে আসতে পারবেন বাড়িতে।