TRAI জানিয়েছে, এই ফিচারটি ডিফল্টভাবে সক্রিয় থাকবে, তবে ব্যবহারকারীরা চাইলে যে কোনও সময় অপ্ট আউট করতে পারবেন।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 30 October 2025 18:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রায় প্রতিদিনই অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে - কখনও স্প্যাম (spam call), কখনও বা ভুয়ো কল (fake call)। এখন তো আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে সাইবার প্রতারণার (cyber fraud crime) চেষ্টা। এবার এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান আনতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার (Government of India)।
টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (TRAI) আনছে এক নতুন প্রযুক্তি, নাম - Calling Name Presentation (CNAP)। এর মাধ্যমে আপনার ফোনে অচেনা নম্বর থেকে কল আসলে দেখা যাবে কলারের আসল, ভেরিফাই করা নাম।
উল্লেখ্য, এই সুবিধার জন্য আর ট্রু-কলার (Truecaller) বা অন্য কোনও থার্ড-পার্টি অ্যাপের প্রয়োজন হবে না। কলারের নাম সরাসরি আসবে টেলিকম অপারেটরের অফিসিয়াল ডাটাবেস থেকে, যেখানে সিম রেজিস্ট্রেশনের সময় দেওয়া আসল তথ্য সংরক্ষিত থাকে।
সহজভাবে বললে, কেউ আপনাকে ফোন করলে সঙ্গে সঙ্গে স্ক্রিনে ভেসে উঠবে তাঁর প্রকৃত নাম - শুধু নম্বর নয়, বা অন্য কারও দেওয়া ভুল নামও নয়। এই নতুন সিস্টেমের মূল উদ্দেশ্য হল সাইবার প্রতারণা এড়ানো, স্প্যাম ও অজানা কলের সংখ্যা কমানো - যাতে ব্যবহারকারীরা এক নজরে ঠিক করতে পারেন ফোন ধরবেন কি না।
TRAI জানিয়েছে, এই ফিচারটি ডিফল্টভাবে সক্রিয় থাকবে, তবে ব্যবহারকারীরা চাইলে যে কোনও সময় অপ্ট আউট করতে পারবেন।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন টেলিকম কোম্পানি ৪জি ও ৫জি নেটওয়ার্কে এর ব্যাকএন্ড আপগ্রেডের কাজ করছে। পাইলট টেস্ট সফলভাবে শেষ হওয়ার পর, এবার সারা দেশে এই পরিষেবা চালুর প্রস্তুতি চলছে। একবার কার্যকর হলে, CNAP হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় 'ভেরিফায়েড কলার আইডি' সিস্টেমগুলির একটি — যা ভারতের ডিজিটাল যোগাযোগকে আরও স্বচ্ছ ও নিরাপদ করে তুলবে।
কীভাবে কাজ করবে এই নতুন প্রযুক্তি?
যখন একটি কল করা হবে, সংশ্লিষ্ট টেলিকম অপারেটর তার নিজস্ব Calling Name (CNAM) ডাটাবেস থেকে সেই নম্বরের রেজিস্টার্ড নামটি যাচাই করবে। এরপর সেই আসল নামটি চলে আসবে রিসিভারের স্ক্রিনে, তা সে স্মার্টফোন হোক বা সাধারণ কী-প্যাড ফোন।
এই পরিষেবা কাজ করবে ইন্টারনেট ছাড়াই, এবং কোনও অতিরিক্ত অ্যাপ ইনস্টল করার দরকার পড়বে না।
TRAI আরও জানিয়েছে, CNAP চালুর পর সমস্ত ব্যবহারকারীর জন্য এটি ডিফল্টভাবে সক্রিয় থাকবে, তবে চাইলে গ্রাহকরা তাঁদের টেলিকম কোম্পানির মাধ্যমে পরিষেবাটি বন্ধ করতে পারবেন। এতে একদিকে যেমন ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা রক্ষা পাবে, অন্যদিকে স্প্যাম ও প্রতারণামূলক কলের প্রকোপও কমবে।
এরপর কী?
বিভাগের অনুমোদনের আগে, যোগাযোগ মন্ত্রকের (DoT) তত্ত্বাবধানে কয়েকটি শহরে ৪জি ও ৫জি নেটওয়ার্কে CNAP-এর ট্রায়াল রান করা হয়েছে। পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, এই সিস্টেম ডেটা ও VoIP কলের ক্ষেত্রে সফলভাবে কাজ করছে। তবে প্রচলিত ভয়েস কলের ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের জন্য এখনও কিছু সফটওয়্যার আপডেট ও নেটওয়ার্ক আপগ্রেডের প্রয়োজন।
সব প্রস্তুতি শেষ হলেই CNAP চালু হবে একটি অপশনাল ফিচার হিসেবে।
দেশজুড়ে স্প্যাম ও ফ্রড কলের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, তাই সরকার অনুমোদিত এই 'ভেরিফায়েড কলার আইডি' সিস্টেমটি সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ ও স্বচ্ছ যোগাযোগ ব্যবস্থার পথে এক বড় পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।