গুগলের Chrome-এর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে OpenAI আনছে নতুন AI-চালিত ওয়েব ব্রাউজার। ChatGPT-র মতো ইন্টারফেসে কাজ করবে ব্রাউজারটি।

OpenAI ব্রাউজার, গুগল ক্রোম
শেষ আপডেট: 10 July 2025 12:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ChatGPT-কে যে তৈরি রয়েছে, অর্থাৎ সৃষ্টিকারী সংস্থা OpenAI এবার গুগলের অন্যতম দাপুটে পণ্য Chrome-এর বিরুদ্ধে বড়সড় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে চলেছে। সংস্থাটি শিগগিরই চালু করতে চলেছে একটি AI-চালিত ওয়েব ব্রাউজার, যা শুধুমাত্র সার্ফিংয়ের অভিজ্ঞতাই বদলে দেবে না, বরং ব্যবহারকারীর পক্ষ থেকে নানা কাজ নিজে থেকেই করতে পারবে।
Reuters-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, তিনজন ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছেন, এই ব্রাউজার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বাজারে আসতে চলেছে। এটি ChatGPT-এর মতো একটি ইন্টিগ্রেটেড চ্যাট ইন্টারফেসের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের ওয়েবসাইটে না গিয়ে সরাসরি তথ্য প্রদান করতে পারবে।
গুগল ক্রোমের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ
বিশ্বজুড়ে ৩ বিলিয়নেরও বেশি মানুষ বর্তমানে গুগল ক্রোম ব্যবহার করেন। ব্রাউজারটি গুগল প্যারেন্ট কোম্পানি Alphabet-এর বিজ্ঞাপন ব্যবসার একটি বড় অংশ। কারণ, ক্রোম ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহ করে টার্গেটেড বিজ্ঞাপন দেখাতে সাহায্য করে, যা কোম্পানির রাজস্বের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ।
কীরকম হবে এই ব্রাউজার?
সূত্র অনুযায়ী, OpenAI-এর এই ব্রাউজার তৈরি হচ্ছে Google-এরই ওপেন সোর্স প্ল্যাটফর্ম Chromium-এর উপর ভিত্তি করে। একই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তৈরি হয় Microsoft Edge এবং Opera-র মতো অন্যান্য ব্রাউজারও। নতুন ব্রাউজারে সংস্থার AI এজেন্ট যেমন Operator-কে সরাসরি কাজে লাগানো যাবে, যা ব্যবহারকারীর হয়ে ফর্ম পূরণ করা, রিজার্ভেশন বুক করা কিংবা ই-মেল লেখা—এই ধরণের কাজ করে দিতে পারবে।
গত বছর মার্কিন আদালত Google-এর বিরুদ্ধে অনলাইন সার্চে অবৈধ একচেটিয়া দখলের অভিযোগে রায় দিয়েছিলেন। মার্কিন বিচার বিভাগ Chrome বিক্রি করার নির্দেশনা দেওয়ার কথা জানায়, যদিও গুগল সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে চায়। এমন সময়ে OpenAI-এর নিজস্ব ব্রাউজার আনার পরিকল্পনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
প্রসঙ্গত, OpenAI ইতিমধ্যেই Apple-এর প্রাক্তন ডিজাইন প্রধান Jony Ive-এর AI ডিভাইস স্টার্টআপ ‘io’ কিনে নিয়েছে ৬.৫ বিলিয়ন ডলারে। এর আগেই দুই প্রাক্তন গুগল ভাইস প্রেসিডেন্টকে নিয়োগ করেছে যারা গুগল ক্রোম নির্মাণে যুক্ত ছিলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রাউজারটির আসল শক্তি হবে এর মধ্যে থাকা AI-চালিত এজেন্টরা, যারা ব্যবহারকারীর ওয়েব ব্যবহার বিশ্লেষণ করে নিজে থেকেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। এর ফলে শুধুমাত্র সার্চ নয়, ব্রাউজিংয়ের অভিজ্ঞতা এবং ব্যক্তিগত কাজ করার পদ্ধতিই আমূল বদলে যেতে পারে।