গবেষকরা সম্প্রতি এমন এক ডেটা ফাঁসের ঘটনা প্রকাশ করেছেন, যেখানে অন্তত ১৬ বিলিয়ন পাসওয়ার্ড ও লগইন তথ্য ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে।

শেষ আপডেট: 20 June 2025 15:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক নজিরবিহীন সাইবার ঝড়। গবেষকরা সম্প্রতি এমন এক বৃহত্তম ডেটা ফাঁসের ঘটনা প্রকাশ করেছেন, যেখানে অন্তত ১৬ বিলিয়ন পাসওয়ার্ড ও লগইন তথ্য ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে। অ্যাপল, গুগল, টেলিগ্রাম-সহ বিশ্বের প্রায় সব বড় অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এই জালে জড়িয়ে পড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গবেষণা চালিয়েছে সাইবারনিউজ (Cybernews) নামক সাইবারসিকিউরিটি প্ল্যাটফর্ম, যার নেতৃত্বে রয়েছেন গবেষক ভিলিয়াস পেটকাউস্কাস। তাঁরা ২০২৫ সালের শুরু থেকে এই বিশাল তথ্যফাঁস খতিয়ে দেখছেন।
তদন্ত চলাকালীন অন্তত ৩০টি আলাদা ‘ডেটা ডাম্প’-এর হদিশ পাওয়া গেছে, যেখানে প্রতিটিতে কয়েক কোটি থেকে শুরু করে সাড়ে তিনশো কোটিরও বেশি রেকর্ড মজুত রয়েছে। সব মিলিয়ে ১৬ বিলিয়নের কাছাকাছি লগইন তথ্য ফাঁস হয়েছে।
এই তথ্যচুরির পিছনে রয়েছে 'ইনফোস্টিলার ম্যালওয়্যার'। এটি এমন এক ধরনের ক্ষতিকর সফটওয়্যার, যা ডিভাইস থেকে ইউজারনেম, পাসওয়ার্ড ও নানা সংবেদনশীল তথ্য চুরি করে নেয়।
কোন কোন প্ল্যাটফর্ম এই অ্যাটাকে ক্ষতিগ্রস্ত?
লিক হওয়া ডেটায় রয়েছে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট, VPN, ডেভেলপার টুলস, এমনকি সরকারি ওয়েবসাইটের লগইন তথ্যও। উল্লেখযোগ্য প্ল্যাটফর্মগুলির মধ্যে আছে- অ্যাপল (Apple), গুগল (Google), ফেসবুক (Facebook), গিটহাব (GitHub), টেলিগ্রাম (Telegram)। এমনকী কিছু সরকারি পোর্টালও এই তালিকায়।
কীভাবে এই তথ্য চুরি হল?
পেটকাউস্কাস জানিয়েছেন, বেশিরভাগ তথ্য খুব সহজ URL ফর্ম্যাটে সংরক্ষিত, যেখানে সোজা ইউজারনেম আর পাসওয়ার্ড দেওয়া আছে। সহজ কথায়, আপনি যদি অনলাইনে কখনও লগইন করে থাকেন, তাহলে আপনার তথ্যও এই ফাঁসে থাকতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ‘এটা শুধু তথ্য ফাঁস নয়, বরং বিপুল পরিসরের সাইবার অপরাধ। এটা হ্যাকারদের জন্য এক রেডিমেড অস্ত্রভাণ্ডার বলা যেতে পারে।’
কিপার সিকিউরিটি-র (Keeper Security) সিইও ড্যারেন গুচিওনি জানিয়েছেন, ‘এখনই শক্তিশালী, জটিল পাসওয়ার্ড ম্যানেজমেন্ট টুল ও ডার্ক ওয়েব মনিটরিংয়ের দিকে নজর দিতে হবে।’
এই ক্ষেত্রে আপনার করণীয় কী?
সাইবার নিরাপত্তা শুধুমাত্র টেকনিক্যাল বিষয় নয়, এটি এখন ব্যক্তিগত দায়িত্ব। প্রতিটি ইউজারের উচিত-
• আলাদা ও জটিল পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা
• মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (MFA) চালু রাখা
• সন্দেহজনক ইমেল বা লিংকে ক্লিক না করা
• নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা
• ডেটা ব্রিচ মনিটরিং টুল ব্যবহার করা