এই প্রথমবার ভারতীয় মাটিতে এমন বড়সড় ডেটা সেন্টার গড়তে চলেছে আলফাবেট সংস্থা। শুধু ভারতেই নয়, গোটা এশিয়ায় এটি হবে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ ও ক্ষমতার ডেটা সেন্টার। এর আগে গুগল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে একাধিক ডেটা সেন্টার বানিয়েছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 31 July 2025 13:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশাখাপত্তনমে তৈরি হতে চলেছে এশিয়ার সবচেয়ে বড় ডেটা সেন্টার। আর সেই প্রকল্পে ৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে গুগল। অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ১ গিগাওয়াট ক্ষমতার ডেটা সেন্টার এবং তার জন্য প্রাসঙ্গিক বিদ্যুৎ পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। এর মধ্যে অন্তত ২ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হবে নবীকরণযোগ্য শক্তির পরিকাঠামোয়।
এই প্রথমবার ভারতীয় মাটিতে এমন বড়সড় ডেটা সেন্টার গড়তে চলেছে আলফাবেট সংস্থা। শুধু ভারতেই নয়, গোটা এশিয়ায় এটি হবে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ ও ক্ষমতার ডেটা সেন্টার। এর আগে গুগল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে একাধিক ডেটা সেন্টার বানিয়েছে।
এপ্রিলে গুগলের মূল সংস্থা আলফাবেট ঘোষণা করেছিল, চলতি বছরে বিশ্বজুড়ে ডেটা সেন্টার পরিকাঠামো গঠনে ৭৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে তারা। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির মধ্যেও গুগলের এই পদক্ষেপ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অন্ধ্রপ্রদেশের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী নারা লোকেশ বর্তমানে সিঙ্গাপুরে রয়েছেন, যেখানে তিনি সরকারের ও ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গে বিনিয়োগ সংক্রান্ত বৈঠক করছেন। যদিও গুগলের বিনিয়োগ নিয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করেননি। তিনি বলেন, “আমরা সিফাইয়ের (Sify) মতো প্রকল্প ঘোষণা করেছি, যা প্রকাশ্যে এসেছে। কিছু ঘোষণা এখনও বাকি আছে, যা অক্টোবরে জানানো হবে।”
বিভাজনের পর বিনিয়োগ টানার লড়াই
২০১৪ সালে অন্ধ্রপ্রদেশ বিভক্ত হয়ে হায়দরাবাদ এবং রাজস্বের এক বড় উৎস চলে যায় নবগঠিত তেলঙ্গানায়। তার পর থেকেই বিপুল ঋণ ও সামাজিক ব্যয় সামাল দিতে রাজ্য সরকার নানা বিনিয়োগ টানার চেষ্টা করছে।
লোকেশ জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই রাজ্যে ১.৬ গিগাওয়াট ক্ষমতার ডেটা সেন্টারের জন্য বিনিয়োগ চূড়ান্ত হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে রাজ্যের লক্ষ্য ৬ গিগাওয়াট ক্ষমতার ডেটা সেন্টার তৈরি করা, যেখানে এখন কার্যত শূন্য থেকে শুরু হচ্ছে।
তিনি বলেন, 'আগামী ২৪ মাসের মধ্যেই ১.৬ গিগাওয়াট ক্ষমতার এই ডেটা সেন্টারগুলো চালু হবে। রিয়েল এস্টেট সংস্থা অনারকের হিসেব অনুযায়ী, বর্তমানে গোটা ভারতে চালু ডেটা সেন্টারগুলোর সম্মিলিত ক্ষমতা ১.৪ গিগাওয়াট।'
বিশাখাপত্তনমে তিনটি কেবল ল্যান্ডিং স্টেশন গড়ার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। এই স্টেশনগুলি সাধারণত ডেটা সেন্টারের পাশেই তৈরি হয়, যাতে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে উচ্চগতির সংযোগ বজায় রাখা যায়।
সবুজ শক্তির দিকেই ঝোঁক
ডেটা সেন্টার চালাতে প্রচুর বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। সেই জন্য আগামী পাঁচ বছরে অন্তত ১০ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকাঠামো গড়ার পরিকল্পনা করছে অন্ধ্র সরকার। মন্ত্রী লোকেশের কথায়, 'এর বেশিরভাগটাই হবে নবীকরণযোগ্য শক্তি—এটাই আমাদের আসল ইউএসপি।'
তবে পুরোপুরি সবুজ শক্তির উপর নির্ভর করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন তিনি। কারণ, ডেটা সেন্টারগুলোর জন্য দিনে ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ও উচ্চক্ষমতার বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রয়োজন হয়। সেই চাহিদা মেটাতে কিছু পরিমাণ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থাও থাকবে।
এই প্রকল্প শুধু প্রযুক্তিগত দিক থেকেই নয়, অন্ধ্রপ্রদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের নিরিখেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসন। এখন দেখার, গুগলের এই মেগা বিনিয়োগ কীভাবে রাজ্যের তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে নতুন গতি দেয়।