একটি জার্মান দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ফুটবল মানে চারপাশের ঢক্কানিনাদ নয়, খেলাটাই আসল—আর সেই দিক দিয়ে ক্লাব বিশ্বকাপ হচ্ছে ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে বাজ পরিকল্পনা!’

য়ুর্গেন ক্লপ
শেষ আপডেট: 29 June 2025 18:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিনি পেশাদারি কোচিংয়ে নেই। আপাতত রেড বুলের গ্লোবাল সকারের শীর্ষপদে। রোজকার ট্রেনিং, প্রেস মিট সব উধাও। তবু ফুটবল টুর্নামেন্টের ভাল-মন্দ, ফুটবলারের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা নিয়ে এখনও আগের মতো ঠোঁটকাটা, অকপট য়ুর্গেন ক্লপ। ডর্টমুন্ড ও লিভারপুলের প্রাক্তন কোচের নিশানায় চলতি ফিফা ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপ। ক্লপের চোখে, ‘এই প্রতিযোগিতা ফুটবলের জঘন্যতম আইডিয়া’।
কেন? সে কারণও অকপটে মেলে ধরেছেন ক্লপ। একটি জার্মান দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ফুটবল মানে চারপাশের ঢক্কানিনাদ নয়, খেলাটাই আসল—আর সেই দিক দিয়ে ক্লাব বিশ্বকাপ হচ্ছে ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে বাজ পরিকল্পনা!’
এখানেই না থেমে ক্লপ জুড়ে দেন, ‘যারা ফুটবলের দৈনন্দিনতার সঙ্গে যুক্ত নয়, তারাই এমন সব পরিকল্পনা আনছে। অবশ্যই এই টুর্নামেন্টে অংশ নিলে মোটা টাকা রোজগারের সুযোগ রয়েছে, কিন্তু সব ক্লাব তো আর প্রতিযোগিতায় সুযোগ পাচ্ছে না! গত বছর ছিল কোপা আমেরিকা আর ইউরো, এ বছর ক্লাব বিশ্বকাপ, আগামী বছর বিশ্বকাপ। মানে যারা নিয়মিত খেলে, তারা শারীরিকভাবে তো দূরের কথা, মানসিকভাবেও বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ পাবে না!’
প্রসঙ্গত, ক্লপ একা নন। গত বছর খেলোয়াড় মহলেও অতিরিক্ত খেলার চাপ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সরব হন ম্যানেস্টার সিটির মিডফিল্ডার রদ্রি। এসিএলে চোটের জেরে মরশুম শুরুর আগেই শেষ হয় স্পেনীয় ফুটবলারের। তার আগে হুঁশিয়ারির সুরে রদ্রি জানান, খেলার পরিমাণ যদি কমার বদলে বেড়ে চলে, সেক্ষেত্রে ফুটবলাররা যে কোনও দিন ধর্মঘটে বসতে পারেন! রদ্রির ক্লাব সতীর্থ ম্যানুয়েল অ্যাকেঞ্জি খেদের সুরে ভবিষ্যৎবাণী করেন, হয়তো তিরিশেই তাঁকে ফুটবলকে বিদায় জানাতে হবে।
এই যুক্তিকে সামনে টেনে ক্লপের বক্তব্য, ‘আমার সত্যিই ভয় হচ্ছে—আগামী মরশুমে ফুটবলারদের এমন চোট হতে পারে, যেটা আগে কখনও দেখা যায়নি। যদি পরের সিজনে না হয়, তবে বিশ্বকাপের সময় বা তার পরে দেখা যাবে!’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সবসময় খেলোয়াড়দের বলি—প্রতিটি ম্যাচই যেন তাদের জীবনের শেষ ম্যাচ হয়! এক সিজনে ৭০ থেকে ৭৫ বার একথা বলা হয়। কিন্তু এটা এভাবে চলতে পারে না।’
ক্লপের মতে, ‘খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দরকার। যদি তা দেওয়া না হয়, তবে তারা সেরা খেলাটা দিতে পারবে না। আর তখন ফুটবলের মান যাবে কমে। খেলার সৌন্দর্যটাই হারাবে।’