বিশেষজ্ঞদের মতে, ইতালির ফুটবলের কাঠামোতেই ধরেছে ফাটল। ২০০৬-এ বিশ্বকাপ জয়ের পর যুব উন্নয়ন থমকে, ক্লাব ফুটবলেও প্রভাব কমেছে। ২০১০-এর কোনও ইতালীয় ক্লাব পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতেনি। অর্থাৎ, সংকট দীর্ঘমেয়াদি।

বসনিয়া বনাম ইতালি
শেষ আপডেট: 31 March 2026 15:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন (FIFA World Cup) ইতালি (Italy)। নামটাই সাক্ষাৎ ইতিহাস! কিন্তু সেই গরিমা আপাতত প্রশ্নের মুখে। টানা দু’বার ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে খেলতে পারেনি আজুরিরা। এবারও একই বিপদ, শিরে সংক্রান্তি! সংশয়ের মীমাংসা হবে আজ, বসনিয়া ও হারজেগোভিনার (Bosnia and Herzegovina) বিরুদ্ধে প্লে-অফ ফাইনালে। জিতলে হাতে জুটবে বিশ্বকাপের টিকিট, হারলে বিদায়। দ্বৈরথ এতটাই সোজাসাপ্টা, এতটাই নির্মম!
শেষ সুযোগ, আর কোনও পথ নেই
ইউরোপীয় প্লে-অফের এই ম্যাচ ইতালির কাছে ‘ডু অর ডাই’। নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডকে (Northern Ireland) হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে জেনারো গাত্তুসোর (Gennaro Gattuso) দল। কিন্তু সেই জয় খুব একটা স্বস্তি দিচ্ছে না। কারণ সাম্প্রতিক ইতিহাস বলছে, ২০১৮ ও ২০২২—দু’বারই বিশ্বকাপ মিস করেছে ইতালি। তার আগে ২০১০ ও ২০১৪-তেও গ্রুপ স্টেজে বিদায়। অর্থাৎ, পতনটা হঠাৎ নয়, ঘুণ ধরেছে অনেক দিন ধরে।
হেড-টু-হেডে এগিয়ে ইতালি
পরিসংখ্যান অবশ্য আজুরিদের পক্ষে। বসনিয়ার বিরুদ্ধে ৬ ম্যাচে ৪ জয়, ১ হার, ১ ড্র। কাগজে-কলমে দোনারুমা, লোকাতেল্লিরা এগিয়ে। কিন্তু সাম্প্রতিক ফর্ম আর স্নায়ুচাপ—এই দুই ফ্যাক্টর হিসেব পাল্টে যেতে পারে। বসনিয়া সহজ প্রতিপক্ষ নয়। ওয়েলসের (Wales) বিরুদ্ধে পেনাল্টি শুটআউট জিতে এসেছে। দলে রয়েছেন পোড়খাওয়া স্ট্রাইকার এডিন জেকো (Edin Dzeko)। বড় ম্যাচে অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে ওস্তাদ।
আত্মবিশ্বাস বনাম চাপ
মিডফিল্ডার সান্দ্রো তোনালি (Sandro Tonali) জানিয়েছেন, গাত্তুসোর অধীনে গোটা টিম ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাচ্ছে। কিন্তু একইসঙ্গে স্বীকার করেছেন—এবার লড়াই কঠিন, ভুল করার জায়গা নেই। আর এই মানসিক চাপ সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে ইতালি বারবার বড় মঞ্চে হোঁচট খেয়েছে। জিয়ানলুইজি বুফোঁর (Gianluigi Buffon) মতো কিংবদন্তিও ইঙ্গিত দিয়েছেন, আবারও বিশ্বকাপ মিস করলে ঘরোয়া ফুটবলে আমূল পরিবর্তন আসতে পারে।
সমস্যা গভীরে
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইতালির ফুটবলের কাঠামোতেই ধরেছে ফাটল। ২০০৬-এ বিশ্বকাপ জয়ের পর যুব উন্নয়ন (youth development) থমকে, ক্লাব ফুটবলেও প্রভাব কমেছে। ২০১০-এর কোনও ইতালীয় ক্লাব পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ (UEFA Champions League) জেতেনি। অর্থাৎ, সংকট দীর্ঘমেয়াদি। তাই লড়াই শুধু একটা টিকিটের জন্য নয়… আজ ইতালির ফুটবলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের যুদ্ধ!
বসনিয়া হারজেগোভিনা বনাম ইতালি
খেলা শুরু: রাত ১২টা ১৫ মিনিটে
টিভিতে সম্প্রচার: সোনি স্পোর্টস
লাইভ স্ট্রিমিং: সোনি লিভ অ্যাপ