এখনও সুনীল ছেত্রী কেন? গত কয়েক বছরে ওর বেশিরভাগ গোলই এসেছে পেনাল্টি থেকে। কালকের ম্যাচে ওর কোনও মুভমেন্টই তো চোখে পড়ল না। বল ডিস্ট্রিবিউশন নেই, ওয়ান ইজ টু ওয়ান ড্রিবলিং নেই, ফাইনাল টাচ নেই। বয়সের ভারে বলের মুভমেন্টের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতেও পারছে না।

সুনীল ছেত্রী ও কুমারেশ ভাওয়াল
শেষ আপডেট: 11 June 2025 17:15
মঙ্গলবার এশিয়ান এএফিস কাপের কোয়ালিফায়ারের (AFC Asian Cup qualifier) ম্যাচে হংকংয়ের (India vs Hong Kong) কাছে শেষ মুহূর্তর গোলে হেরে গিয়েছে ভারত। র্যাঙ্কিংয়ে অনেকটাই পিছিয়ে থাকা দলের বিরুদ্ধে এই হার মেনে নিতে পারছে না ভারতের ফুটবলমোদী জনতা। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁরা নিজেদের তীব্র ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। পাশাপাশি দল পরিচলানা সমিতি নিয়ে সরব হয়েছেন প্রাক্তন জাতীয় ফুটবলাররাও।
কলকাতা ময়দানের অন্যতম পরিচিত নাম কুমারেশ ভাওয়াল (Kumaresh Vawal)। মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলে সুনামের সঙ্গে খেলার পাশাপাশি তাঁর গায়ে উঠেছে জাতীয় দলের জার্সিও। ডাকাবুকো ও স্পষ্টবক্তা হিসাবে বরাবর পরিচয় রয়েছে তাঁর। ম্যাচ গড়াপেটা নিয়ে তাঁর অবস্থান এখনও শোনা যায় ময়দানের আনাচে কানাচে। জাতীয় দলের এই প্রাক্তন ফুটবলার মোটেও মেনে নিতে পারছেন না হংকংয়ের কাছে জাতীয় দলের এই হার।
তিনি সরাসরি দায়ী করলেন জাতীয় দলের নির্বাচকদের। তাঁর প্রশ্ন ভারতে কি বাস্তবেই সাপ্লাই লাইনের অভাব রয়েছে? অবসর ভেঙে ৪০ পার করার পরেও দলে সুনীল ছেত্রী (Sunil Chhetri) কেন? এভাবে তো ভারতীয় ফুটবলই পিছিয়ে যাচ্ছে। তরুণ প্রতিভারা সুযোগ পাচ্ছেন না। কিয়ান নাসিরি, ঈশান পাণ্ডিতাদের মতো অল্প বয়সের ফুটবলারা বসে রয়েছেন।
কুমারেশ ভাওয়াল দ্য ওয়াল’কে বললেন, “এখনও সুনীল ছেত্রী কেন? গত কয়েক বছরে ওর বেশিরভাগ গোলই এসেছে পেনাল্টি থেকে। কালকের ম্যাচে ওর কোনও মুভমেন্টই তো চোখে পড়ল না। বল ডিস্ট্রিবিউশন নেই, ওয়ান ইজ টু ওয়ান ড্রিবলিং নেই, ফাইনাল টাচ নেই। বয়সের ভারে বলের মুভমেন্টের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতেও পারছে না। তবুও তাঁর ওপরই আমাদের ভরসা করতে হচ্ছে।”
ভাওয়াল তোপ দেগেছেন এআইএফএফ-এর (AIFF) শীর্ষ কর্তাদের উপরও। বললেন, “সবাই পদের নেশায় বসে আছেন। ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও চিন্তা ভাবনা নেই। নিজের আসন শক্ত করতে কোটা সিস্টেম চালাচ্ছেন। পছন্দের ফুটবলারদের জাতীয় দলে জায়গা করে দিচ্ছেন।”
ভারতীয় ফুটবলে একের পর এক কোচ পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এই বিষয়ে তাঁর বক্তব্য, “আগে কোচ নিয়োগের সময় ফেডারেশনকে শর্ত দেওয়া হত। আর এখন হচ্ছে উল্টোটা। নিজেদের পছন্দ মতো কাউকে কোচ করে আনছে এআইএফএফ। আর কোচ হওয়ার পরই তিনিও নিজের আসন ধরে রাখতে ফেডারেশনের আজ্ঞাবাহী হয়ে পড়ছেন। দল নির্বাচন হচ্ছে এআইএফএফ-এর অঙ্গুলিহেলনে। আমি যখন ভারতীয় দলে সুযোগ পেয়েছিলাম, তখন পেয়েছিলাম তৎকালীন চেকোস্লোভাকিয়ার জিরি পেসেককে। বাইরের কারও পরামর্শ শুনতেন না। জাতীয় দলকে সাফল্যও এনে দিয়েছিলেন। ফেডারেশনের মনোভাব না পাল্টালে বারবার কোচ বদল করেও কিছু হবে না।”