এই মুহূর্তে প্রিমিয়ার লিগে এমন কৃতিত্বের মালিক ১৬ জন ম্যানেজার, কিন্তু একটিমাত্র ক্লাবের হয়ে নজির গড়েছেন কেবল তিনজন—ফার্গুসন, ওয়েঙ্গার ও গুয়ার্দিওলা।

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 6 October 2025 18:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইংল্যান্ডের ফুটবলে এক অভূতপূর্ব রেকর্ড ছুঁলেন পেপ গুয়ার্দিওলা (Pep Guardiola)। ব্রেন্টফোর্ডের (Brentford) বিরুদ্ধে ১–০ জয়ের পর ম্যানচেস্টার সিটির (Manchester City) স্প্যানিশ ম্যানেজার পৌঁছে গেলেন এক বিশেষ মাইলফলকে—একই ক্লাবের হয়ে ২৫০টি প্রিমিয়ার লিগ জয়! এই বিরল কীর্তি এর আগে কেবল দুই কিংবদন্তিরই দখলে ছিল—স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন (Sir Alex Ferguson) ও আর্সেন ওয়েঙ্গার (Arsène Wenger)। আর সেই ঐতিহাসিক তালিকায় নিজের নাম উঠতেই গুয়ার্দিওলা আবেগভরা গলায় বললেন, ‘এটা আমার কাছে বিরাট সম্মান। ফার্গুসন আর ওয়েঙ্গারকে আমি ডিনারে আমন্ত্রণ জানাব!’
ম্যান সিটির ম্যানেজারের স্বপ্ন এখন আরও বড়।‘২৫০ জয় পার করলাম, এবার চল ২৫০টা আরও জিতি!’—বলেছেন তিনি। ৩৪৯টি ম্যাচে এই মাইলফলক ছুঁতে খেলেছেন ফার্গুসনের চেয়ে ৫৫টি কম লড়াই, ওয়েঙ্গারের থেকে ৭৫ ম্যাচ। অর্থাৎ, প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে কম ম্যাচে ২৫০ জয়—এই রেকর্ডও এখন গুয়ার্দিওলার দখলে।
এই মুহূর্তে প্রিমিয়ার লিগে এমন কৃতিত্বের মালিক ১৬ জন ম্যানেজার, কিন্তু একটিমাত্র ক্লাবের হয়ে নজির গড়েছেন কেবল তিনজন—ফার্গুসন, ওয়েঙ্গার ও গুয়ার্দিওলা। সংখ্যায় নয়, প্রভাবেও তিনি অন্যদের থেকে আলাদা। ম্যান সিটির ডাগআউটে বসে গুয়ার্দিওলা যে শুধু ট্রফি জিতিয়েছেন তা নয়, বদলে দিয়েছেন ব্রিটিশ ফুটবলের দর্শনও। ২০১৬ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সিটির ক্যাবিনেটে ছ’টি প্রিমিয়ার লিগ, একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ (Champions League), দুটি এফএ কাপ (FA Cup) ও চারটি লিগ কাপ (League Cup)—গুয়ার্দিওলার অধীনে দল জিতেছে সমস্ত ট্রফি! সেই সঙ্গে ২০২৩ সালে ঐতিহাসিক ‘ট্রেবল’ জয়ের সাফল্য। তাঁর দলই প্রথম, যারা এক মরশুমে ১০০ পয়েন্ট নিয়ে অভিযান শেষ করে (২০১৭–১৮), জিতে নেয় টানা চারবার প্রিমিয়ার লিগ!
গুয়ার্দিওলার অধীনে ম্যান সিটি প্রতি মরশুমে গড়ে ২৮টি ম্যাচ জিতেছে। জয়ের হার ৭১.৬ শতাংশ—যা ফার্গুসনের (৬৫.২%) ও আন্তোনিও কন্তের (৬২.৯%) থেকেও বেশি। ৩৪৯ ম্যাচে সিটির গোলসংখ্যা ৮৪২, হজম করেছে ২৯৯।
২০২৭ পর্যন্ত ম্যান সিটির সঙ্গে চুক্তি বাড়ালেও ভবিষ্যৎ নিয়ে নানান জল্পনা। তবে একটা বিষয়ে আর কোনো সন্দেহ নেই—পেপ গুয়ার্দিওলা শুধু ট্রফি জেতেন না, ফুটবলকেও নতুন দিশা দেখান। তাঁর প্রতিটি জয় কেবল রেকর্ড নয়, এক দর্শনের বিস্তার—যেখানে খেলার ফলাফলের সঙ্গে মিশে যায় শিল্পের ছোঁয়া।