ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে যে শিশুটি কাঁদছে, ‘আমার মা কোথায়?’—তার প্রশ্নের কোনও জবাব আছে কি?
.jpeg.webp)
পেপ গুয়ার্দিওলা।
শেষ আপডেট: 31 January 2026 12:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পক্ষ নিলেন গুয়ার্দিওলা। জোর গলায় জানালেন, তিনি নিরপেক্ষ নন, প্যালেস্তাইনের দলে। ধুয়ে দিলেন বিশ্বের ক্ষমতাবান ‘প্রভু’দের। নিজেদের শক্তিশালী, নিয়ন্ত্রক-নিয়ামক ভাবেন যাঁরা, তাঁরাই আসলে ‘ভীরু’—দার্ঢ্য কণ্ঠে উচ্চারণ করলেন খোলা মঞ্চে দাঁড়িয়ে!
ফুটবল কোচের কণ্ঠে রাজনীতির দায়বদ্ধতা
ঘটনাস্থল বার্সেলোনা। প্যালাউ সাঁ জর্দি অ্যারেনায় আয়োজিত ‘অ্যাক্ট এক্স প্যালেস্তাইন’ (Act X Palestine) চ্যারিটি কনসার্ট। হাজার হাজার মানুষের সামনে মাইক্রোফোন হাতে উঠে দাঁড়ান ম্যানচেস্টার সিটির কোচ পেপ গুয়ার্দিওলা (Pep Guardiola)। গায়ে কেফিয়েহ। বক্তৃতার শুরুতেই ইসলামিক সম্ভাষণ। তারপর সরাসরি মূল কথায় ঢুকে পড়েন। গুয়ার্দিওলার কণ্ঠে ক্ষোভ, যন্ত্রণা, আর অসহায়তা—সব একসঙ্গে ছিটকে বেরোয়। গাজার শিশুদের কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, গত দু’বছর ধরে সোশ্যাল মিডিয়া আর টেলিভিশনের পর্দায় যেসব ছবি ভেসে উঠছে, সেগুলো দেখলে মনে হয় গোটা বিশ্ব যেন চোখ ফিরিয়ে নিয়েছে। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে যে শিশুটি কাঁদছে, ‘আমার মা কোথায়?’—তার প্রশ্নের কোনও জবাব আছে কি?
Pep Guardiola opening the concert-manifesto x Palestine in Barcelona tonight: "Here in Barcelona, where so many things have been done - Refugees Welcome, No to war, the flotilla... 1938 when we were bombarded - and always, as it has been in London and Paris, we are in front of… pic.twitter.com/wyBQBxRcDI
— City Xtra (@City_Xtra) January 29, 2026
ম্যানচেস্টার সিটির ম্যানেজার হিসেবে পেপ গুয়ার্দিওলা (Pep Guardiola) সাধারণত মাঠের বাইরে কথা বলতে সাবধানী। কিন্তু প্যালেস্তাইন প্রসঙ্গে বারবার দেখিয়েছেন, মানবিক প্রশ্নে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট। বার্সেলোনার (Barcelona) কনসার্টেও (‘Act X Palestine’) এর ব্যতিক্রম হল না। শিশুদের ছবি, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে মায়ের খোঁজ—এসব দৃশ্যের সামনে দাঁড়িয়ে তাঁর প্রশ্ন সরল কিন্তু তীক্ষ্ম: ‘আমরা কোথায় ছিলাম?’ এক লাইনের সওয়ালেই স্পষ্ট তাঁর রাজনৈতিক পক্ষ অবলম্বন—নিরপেক্ষতার ভান নয়, দায়িত্বের পূর্ণ স্বীকারোক্তি।
‘আমরা ওদের একা ছেড়ে দিয়েছি’
সবচেয়ে আলোচিত বক্তব্য এখানেই। গুয়ার্দিওলা বলেন, ‘আমরা ওদের একা ছেড়ে দিয়েছি। পরিত্যক্ত করে দিয়েছি।’ তাঁর কথায়, ক্ষমতাবান দেশগুলো জানে কী হচ্ছে, তবু নীরব। এই নীরবতা ভয়ংকর। কখনও কখনও চুপ থাকাটাই অন্যায়ের সহাবস্থান হয়ে ওঠে। স্পষ্ট গলায় জানান, এটা রাজনীতি নয়, মানবতার প্রশ্ন। শিশুদের, সাধারণ মানুষের অস্তিত্বের প্রশ্ন। যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নেয় যারা, তারা নিরাপদ ঘরে বসে থাকে। অথচ মরতে হয় নিরস্ত্র মানুষকে। শক্তিধর রাষ্ট্রনেতারা আসলে কাপুরুষ—যাঁরা নিজেরা ঝুঁকি না নিয়ে অন্যদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেন। পেপের বক্তব্যের সবচেয়ে আলোচিত অংশ এটাই— বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে তীব্র, ঝাঁঝালো আক্রমণ।
বার্সেলোনা থেকে গাজা—সমান্তরাল ইতিহাস
গুয়ার্দিওলা কথাপ্রসঙ্গে নিজের শহরের ইতিহাস টেনে আনেন। ১৯৩৮ সালে স্প্যানিশ গৃহযুদ্ধের সময় বার্সেলোনায় বোমাবর্ষণ—সেই স্মৃতি তিনি মিলিয়ে দেখান গাজার (Gaza Strip) সাম্প্রতিক পরিস্থিতির সঙ্গে। তুলনার উদ্দেশ্য রাজনৈতিক পয়েন্ট-স্কোরিং নয়; বরং স্মরণ করিয়ে দেওয়া—যুদ্ধের অভিঘাত সর্বত্র একই। শহর বদলায়, মানচিত্র বদলায়, কিন্তু ভাঙা ঘর আর অনাথ শিশুর কান্না এতটুকু কম-বেশি হয় না। তাই তাঁর আহ্বানে সাহায্য প্রার্থনার সুর—শুধু ত্রাণ নয়, সম্মানের আর্জি।
ক্লাব কোচের সীমা পেরিয়ে ‘নাগরিক’ গুয়ার্দিওলা
ম্যানচেস্টার সিটির (Manchester City) কোচ হিসেবে গুয়ার্দিওলার দায়িত্ব মাঠে সীমাবদ্ধ। কিন্তু নাগরিক হিসেবে তাঁর দায়বদ্ধতা বৃহত্তর। আগে তিনি ইউরোপজুড়ে প্রো-প্যালেস্তাইন বিক্ষোভে সমর্থন জানিয়েছেন, সরকারগুলোর উপর চাপ তৈরির ডাক দিয়েছেন। এবার কনসার্টের মঞ্চে দাঁড়িয়ে বললেন—‘মানবতা মানেই রাজনীতি নয়, রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকা নৈতিকতা।’