নরওয়ের জন্য সান সিরোর রাতটা স্মরণীয়। গোলমেশিন হালান্ডের যোগ্যতা পর্বে ১৬ গোল, সব পরিবেশেই ক্ষুরধার ফর্ম।
.jpeg.webp)
নায়ক 'হালান্ড'
শেষ আপডেট: 17 November 2025 10:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অঙ্কটা ছিল সাফ। বিশ্বকাপে খেলার ছাড়পত্র সরাসরি জোগাড় করতে চাইলে গ্রুপের শীর্ষে থাকা নরওয়েকে অন্তত ৯ গোলে হারাতে হবে। খেলার শুরুতে গোল পেয়ে যাওয়ায় অসম্ভব যখন সম্ভব হতে পারে বলে মনে করছেন সমর্থকরা, তখনই ইতালির আশা চুরমার করে দিলেন আর্লিং হালান্ড। এক মিনিটে তাঁর করা দু’গোলেই যাবতীয় আশা সান সিরোর বৃষ্টিভেজা রাতে কান্না হয়ে ঝরে পড়ল। আটানব্বইয়ের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে ফিরল নরওয়ে (Norway)। ইতালিকে (Italy) ৪-১ উড়িয়ে সরাসরি টিকিট পাকা করল স্টালে সোলবাকেনের (Ståle Solbakken) দল।
পুরো যোগ্যতা পর্বে আট ম্যাচের প্রত্যেকটা জিতে ২৪ পয়েন্ট তুলে গ্রুপ–সেরার পথেই ছিলেন নরওয়ে। ইতালির কাছে কমপক্ষে ৯ গোলে হারলেই কেবল ঝুঁকি থাকত। শেষমেশ সন্দেহের সুযোগই রাখল না অতিথিরা।
ম্যাচ শুরুর ১১ মিনিটে পিও এসপোসিতোর (Pio Esposito) গোলে এগিয়ে যায় ইতালি। কিন্তু পরের ঘটনাপ্রবাহে ম্যাচ সম্পূর্ণ বদলে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে ৬৩ মিনিটে দুর্দান্ত শটে সমতা ফেরান আন্তোনিও নুসা (Antonio Nusa)। এরপরই স্পষ্ট হয়ে যায়, খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করছে নরওয়ে। চাপ বাড়তেই আসে হালান্ডের জোড়া গোল। কফিনে শেষ পেরেক পোঁতেন য়ুর্গেন স্ট্রান্ড লারসেন (Jørgen Strand Larsen)—অতিরিক্ত সময়ে তাঁর একক ক্যারিশমায় ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ৪-১।
ইতালির জন্য ছবিটা ম্রিয়মাণ। গ্রুপে নরওয়ের থেকে ছ’পয়েন্ট পিছিয়ে শেষ করে মার্চের প্লে–অফে (Playoffs) ভরসা রাখতে হচ্ছে জেনারো গাতুসোর (Gennaro Gattuso) দলকে। ম্যাচশেষে সান সিরোতে গুটিকয়েক স্বদেশি সমর্থকের সামনে মাথা নত করে মাঠ ছাড়েন আজুরিরা (Azzurri)। ইতালীয় ম্যানেজার প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করলেন। তাঁর কথায়, ‘চিন্তার ব্যাপার তো বটেই। তিন মাস পরে আবার জড়ো হতে হবে। এর মধ্যে দলগত উন্নতি করা কঠিন।’
ইতালির বিপত্তি নতুন নয়। নরওয়ের কাছে যোগ্যতা পর্বের প্রথম ম্যাচে ০-৩ হারের পর বিদায় নেন প্রাক্তন ম্যানেজার লুসিয়ানো স্পালেত্তি (Luciano Spalletti)। তার পর গাতুসো দায়িত্ব নেওয়ার পরে কিছু উন্নতি দেখা গেলেও, দলে হালান্ডের মতো ম্যাচ–বদলে দেওয়া তারকা নেই—এটাই সবচেয়ে বড় তফাৎ। অথচ একদা ভিয়েরি, দেল পিয়েরো, তোত্তি, বাজ্জিওদের মতো বহু কিংবদন্তি স্ট্রাইকার উপহার দিয়েছে ইতালি।
আর সেই কারণেই ফের আশঙ্কা ঘনাচ্ছে রোমে (Rome)। ২০১৮ এবং ২০২২—টানা দু’বার প্লে–অফে হেরে বিশ্বকাপের (FIFA World Cup) দরজা বন্ধ হয়েছে। নর্থ মেসিডোনিয়া (North Macedonia) ও সুইডেনের (Sweden) বিরুদ্ধে সেই পরাজয়ের স্মৃতি এখনও দগদগে। এবারও যদি প্লে–অফে ব্যর্থ হয় তারা, তবে টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপের মূলপর্বের বাইরে থেকে যেতে হবে ইউরোপের চারবারের চ্যাম্পিয়নকে।
অন্যদিকে, নরওয়ের জন্য সান সিরোর রাতটা স্মরণীয়। গোলমেশিন হালান্ডের যোগ্যতা পর্বে ১৬ গোল, সব পরিবেশেই ক্ষুরধার ফর্ম। শেষবার যখন নরওয়ে বিশ্বকাপ খেলেছিল, তখন তাঁর বাবা আল্ফ–ইঙ্গে হালান্ড (Alf-Inge Haaland) জাতীয় দলের সদস্য। ২৮ বছর পরে ছেলের দাপটে নরওয়ের বিশ্বমঞ্চে প্রত্যাবর্তন নিঃসন্দেহে স্কান্ডিনেভিয়ার ফুটবলের বড় বিজ্ঞাপন।