সোশ্যাল মিডিয়াও পপকর্ন হাতে টানটান ম্যাচের রোমাঞ্চকর ‘স্পিন অফ’ উপভোগ করল। ফুট কেটে একজন তো লিখেও দিল: ‘রাতের ভয়ঙ্কর গর্জন= রডনের গোল, দ্বিতীয় ভয়ঙ্কর গর্জন= জনসনের ইঁদুর তাড়া করে বেড়ানো!’

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 14 October 2025 13:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যাত্রাভঙ্গ হয় না, এমন নয়। বিলক্ষণ হয়। হয়তো কোনও এক পরিবেশকর্মীর মনে হল, কোনও কিছুই আইন মোতাবেক চলছে না। সরকার শুনছে না। দূষণ বাড়ছে৷ নির্বিচারে গাছ কাটা চলছে। নদীর জল আরও নোংরা হচ্ছে৷ অতএব, সারা দুনিয়ার নজর টানতে, আর যোগনিদ্রায় যাওয়া সরকারের কুকীর্তি ফাঁস করতে, চলো, হাইভোল্টেজ ম্যাচের বারোটা বাজিয়ে দিই! প্ল্যাকার্ড হাতে ঢুকে পড়ি ময়দানে। তারপর ছুট লাগাই, যতক্ষণ পর্যন্ত না নিরাপত্তারক্ষীরা বগলদাবা করে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায়!
ছোট্ট ইঁদুরটির অবশ্য এতশত এজেন্ডা ছিল না। কিংবা থাকলেও এখনও পর্যন্ত তা জানা যায়নি। মাঠে দুই যুযুধান দল। একদিকে ওয়েলস, অন্যদিকে বেলজিয়াম। টার্গেট বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন। কার্ডিফের মাঠে রুদ্ধশ্বাস টেনশন! কী হয় কী হয়!
এমন সময় মুষিকপ্রবরের মনে হল, এই মারকাটারি খেলা নিয়ে খানিক ছেলেখেলা করা যাক! দ্বিতীয়ার্ধে ঘড়ির কাঁটা গড়িয়ে ৬৬ মিনিট ছুঁয়েছে। চাপ বড়ছে ওয়েলসের। দল পিছিয়ে। কিন্তু কামব্যাকের আলোর রেখা দেখা যাচ্ছে বিলক্ষণ৷ ঠিক তখনই… তক্ষুনি, মাঠজুড়ে গেল গেল রব!
না… কোনও গোল হয়নি। রেড কার্ড? রেফারির সিদ্ধান্তে অসন্তোষ? উঁহু, সেসবও নয়৷ তাহলে? ফের কোনও বেআক্কেলে বিপ্লবী ফের প্ল্যাকার্ড হাতে মাঠে নেমে পড়েছে? তাকে গ্রেফতার করতে বল ছেড়ে ঘুরপাক খেয়ে চলেছে দুই দল? গোলকিপার পর্যন্ত ছুটে এসেছে?
চক্ষু-কর্ণের বিবাদভঞ্জন করল জায়ান্ট স্ক্রিন। ফাঁস করল সবেধন কালপ্রিটের মুখ! কোনও উত্তেজিত, রণক্লান্ত বিদ্রোহী নন… পর্দায় ভেসে উঠল খুদে ইঁদুরছানা! মিটিমিটি চোখে এদিক-সেদিক তাকাচ্ছে। আর শত্রুপক্ষ ধেয়ে এলেই সবুজ গালিচার আস্তরণ গলিয়ে দিচ্ছে চম্পট! তুরগ-গতির উইঙ্গারও তার নাগাল পাচ্ছে না। কেভিন দি-ব্রুইন, মাঝমাঠে দাঁড়িয়ে ঠিকানা-লেখা পাস বাড়িয়ে দেন যিনি, তিনি পর্যন্ত হাল ছেড়ে দাঁড়িয়ে! রিয়াল মাদ্রিদের গোলরক্ষক থিবো কুর্তোয়া বড় থাবা বাগিয়ে ধরতে গেলেন ঠিকই। কিন্তু ফাঁক গলে উধাও হতে সময় নিল না দামাল ইঁদুর!
অবশেষে তারকাদের প্রায় সক্কলে যখন বিধ্বস্ত, পরাজিত, প্রত্যেককে নিজেদের এলেম বোঝানো হয়ে গিয়েছে, তখন যেন খানিকটা ইচ্ছে করেই সরে গেল সে। ততক্ষণে স্পটলাইট কেড়ে নেওয়া কমপ্লিট। ব্রেডন জনসন ‘হুশ হাশ’ শব্দে পা তুলে তাড়া দিল ঠিকই। কিন্তু গ্যালারিতে বসা দর্শকদের প্রত্যেকে জেনে গিয়েছে, এটা ফাঁদে পড়া নয়, স্বেচ্ছায় ধরা দেওয়া!
সোশ্যাল মিডিয়াও পপকর্ন হাতে টানটান ম্যাচের রোমাঞ্চকর ‘স্পিন অফ’ উপভোগ করল। ফুট কেটে একজন তো লিখেও দিল: ‘রাতের ভয়ঙ্কর গর্জন= রডনের গোল, দ্বিতীয় ভয়ঙ্কর গর্জন= জনসনের ইঁদুর তাড়া করে বেড়ানো!’