গানার্সরা এই মুহূর্তে প্রিমিয়ার লিগে শীর্ষে। একসঙ্গে চার ট্রফির লড়াইয়ে এগিয়ে চলেছে। শুধু সেমিফাইনাল নয়, চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপার জন্যও আর্সেনাল এখন অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার।

একেতিকে ও ভিনি জুনিয়র
শেষ আপডেট: 19 March 2026 14:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চ্যাম্পিয়নস লিগের (UEFA Champions League) কোয়ার্টার ফাইনালের ছবিটা এখন পরিষ্কার। আটটি দল টিকে আছে। ইউরোপিয়ান কাপের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল পাঁচ ক্লাবের মধ্যে চারটি এখনও লড়াইয়ে—রিয়াল মাদ্রিদ, লিভারপুল, বায়ার্ন মিউনিখ ও বার্সেলোনা। সঙ্গে গতবারের চ্যাম্পিয়ন পিএসজি, প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে থাকা আর্সেনাল, বরাবরের আন্ডারডগ আতলেতিকো মাদ্রিদ ও এবারের চমক স্পোর্টিং লিসবন। চারটি ম্যাচআপ, চার আলাদা আলাদা গল্প।
রিয়াল বনাম বায়ার্ন—ইউরোপের মহারণ
এই দুই দলের লড়াই ইউরোপিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে পুরনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলোর একটি। ২০০০ সালের পর থেকে এবার হতে চলেছে এগারোতম নকআউট মোলাকাত। শেষ দেখা ২০২৪ সেমিফাইনালে। জার্মানির মাঠে ২-২ ড্রয়ের পর ফিরতি লেগে বায়ার্ন ৮৮ মিনিট পর্যন্ত ১-০ এগিয়ে ছিল—ফাইনালে উঠে গিয়েছিল প্রায়! তারপর জোসেলু দুই মিনিটে দুই গোল করে রিয়ালকে জিতিয়ে দেন।
এবার দুটো দলই ভালো ফর্মে। ভিনসেন্ট কোম্পানির (Vincent Kompany) বায়ার্ন (Bayern Munich) বুন্দেসলিগায় নয় পয়েন্টে এগিয়ে, আটালান্টাকে ১০-২ উড়িয়ে এসেছে। হ্যারি কেন (Harry Kane), লুইস দিয়াজ, মিশেল ওলিজে—ভয়ঙ্কর আক্রমণভাগ! যদিও রিয়ালও (Real Madrid) কম যায় না। মাদ্রিদ মানেই চ্যাম্পিয়নস লিগে অন্য হিসেব। এমবাপে ও ভিনি জুনিয়র আছেন। যে কারণে টাই অনির্ণীত—পেনাল্টিও হতে পারে। যে হাসবে শেষ হাসি, আগাম বলা মুশকিল।
পিএসজি বনাম লিভারপুল—গতবারের রি-ম্যাচ
এই দুই টিম গত মরসুমে শেষ ষোলোতেও মুখোমুখি হয়েছিল। সেবার দুই লেগেই অ্যাওয়ে দল জিতেছিল—বিরল ঘটনা। লিভারপুল প্যারিসে ১-০, অ্যানফিল্ডে পিএসজি পেনাল্টিতে এগিয়ে। এবার ফরাসি ক্লাব (PSG) চেলসিকে ৮-২ অ্যাগ্রিগেটে উড়িয়ে এসেছে। উসমান দেম্বেলে, কভারৎস্কেলিয়া, বার্কোলা, ডেজিরে দুয়ে—এই ‘চতুষ্টয়’ বিশ্বের যে কোনও রক্ষণের কাছে দুঃস্বপ্ন।
অন্যদিকে লিভারপুল (Liverpool FC) প্রিমিয়ার লিগে ফর্মে নেই—আপাতত পঞ্চম স্থানে। তবে গতরাতে গালাতাসারেকে ৪-০-তে হারানোর পর দাপুটে পারফরম্যান্স বুঝিয়ে দিচ্ছে, অ্যানফিল্ডে নামলেই দলটা বদলে যায়!
যুক্তি বলছে, লুই এনরিকের ছেলেরা যা ধারাবাহিক, তাতে তাদের দুই লেগে হারানোর মতো সংহতি এই মুহূর্তে লিভারপুলের নেই। ফলে অ্যাডভান্টেজ পিএসজি!
বার্সেলোনা বনাম আতলেতিকো
ক্যাম্প ন্যু-তে বার্সেলোনা (FC Barcelona) এই মরসুমে সাত ম্যাচে সাত জয়, প্রতিটিতে অন্তত তিন গোল দিয়েছে। লামিন ইয়ামাল (Lamine Yamal), রাফিনিয়া, লেওয়ানডস্কি—আক্রমণভাগ অপ্রতিরোধ্য। যদিও রক্ষণের দুর্বলতা গত মরসুমে ইন্টারের কাছে সেমিতে তাদের ছুটি করেছিল।
প্রতিপক্ষ আতলেতিকো মাদ্রিদ (Atletico Madrid) ২০১৪ সাল থেকে আটবার কোয়ার্টারে উঠেছে, কিন্তু নয় বছর ধরে সেমি-তে অনুপস্থিত। এবার বার্সার বিরুদ্ধে লক্ষ্য সেই অস্বস্তির রেকর্ড ভাঙা। গত মরসুমে চারটি ম্যাচে দুই দল মিলিয়ে ১৮ গোল করেছে—এবারও রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের সম্ভাবনা। তবে আগাম বিচারে ফেভারিট বার্সা।
আর্সেনাল বনাম স্পোর্টিং
অন্য কোয়ার্টারে আর্সেনাল (Arsenal FC) স্পষ্টতই এগিয়ে। স্পোর্টিং লিসবন (Sporting CP) ইতিহাসে প্রথমবার কোয়ার্টারে—বোডো/গ্লিমটের বিরুদ্ধে অবিশ্বাস্য কামব্যাকের সৌজন্যে! কিন্তু আর্সেনালের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ আলাদা। সেই উচ্চতায় পৌঁছনো কঠিন। গানার্সরা এই মুহূর্তে প্রিমিয়ার লিগে শীর্ষে। একসঙ্গে চার ট্রফির লড়াইয়ে এগিয়ে চলেছে। শুধু সেমিফাইনাল নয়, চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপার জন্যও আর্সেনাল এখন অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার।