শেষ পাঁচ চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচে তিন গোল, দুই অ্যাসিস্ট কাভারাৎসখেলিয়ার। বেঞ্চ থেকে নেমে এই ক্ষুরধার পারফরম্যান্স পিএসজিকে ভরসা জোগাবে।

‘সুপার সাব' কাভারাৎসখেলিয়া
শেষ আপডেট: 12 March 2026 04:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত বছর ক্লাব বিশ্বকাপে চেলসির কাছে হেরেছিল পিএসজি। সেই ক্ষত শুকোয়নি। বোঝা গেল বুধবার। পার্ক দে প্র্যাঁসেতে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে হিসাব চুকিয়ে দিল ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা। সেকেন্ড হাফ ঝড়ে উড়ে গেল ব্লুজরা। ৫-২ গোলে একতরফা ম্যাচ জিতে নিল ফ্রান্সের ক্লাব। ব্যবধান তিন গোলের। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে দ্বিতীয় লেগে মহাকাব্যিক কামব্যাক না করলে চেলসির (Chelsea FC) ইউরোপীয় অভিযান এখানেই শেষ।
দু’বার এগিয়েও শেষে ধস
খেলার শুরু থেকেই পিএসজি চাপ তৈরি করছিল। ১০ মিনিটে ব্র্যাডলি বার্কোলা (Bradley Barcola) হাফ-ভলিতে বল জালে জড়ালেন—১-০। কিন্তু তাতেও দমেনি চেলসি। ২৮ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের (Enzo Fernandez) পাসে মালো গুস্তো গোলকিপারের নিচ দিয়ে নিখুঁত ফিনিশে সমতা ফেরান। স্কোরলাইন ১-১।
দ্বিতীয়ার্ধেও একই ছবি। দেজিরে ডুয়ে-র পাসে দেম্বেলে পিএসজিকে ২-১ এগিয়ে দেওয়ার পর ৫৭ মিনিটে পেদ্রো নেতোর ক্রস থেকে গোল করলেন ফার্নান্দেজ। ২-২। মনে হচ্ছিল ড্র নিয়েই হয়তো লন্ডনে ফিরবে চেলসি।
সুপার সাব কাভারাৎসখেলিয়া
পিএসজির এদিনের নায়ক দেম্বেলে নন, এক তরুণ জর্জিয়ান খাভিচা কাভারাৎসখেলিয়া। মাঠে নামলেন সেকেন্ড হাফে৷ আর নেমেই ভোল বদলে দিলেন৷ ৭৪ মিনিটে চেলসির গোলকিপার ফিলিপ ইয়র্গেনসেনের ভুলে বল হারাতেই বার্কোলা কেড়ে নেন। এরপর বিথিনার লব হতভম্ব গোলকিপারের মাথার উপর দিয়ে জালে। ৩-২।
আত্মঘাতী ভুলের মাশুল গুনে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ইংল্যান্ডের ক্লাব। কাভারাৎসখেলিয়ার (Kvaratskhelia) ম্যাজিকও এর জন্য দায়ী! বক্সের ভেতরে ঢুকে উপরের কোণে জোরালো শটে দলের চতুর্থ গোল করেন। স্টপেজ টাইমে আশরাফ হাকিমির কাটব্যাক থেকে আরও একটা। ৫-২। খেলা সেখানেই শেষ।
শেষ পাঁচ চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচে তিন গোল, দুই অ্যাসিস্ট কাভারাৎসখেলিয়ার। বেঞ্চ থেকে নেমে এই ক্ষুরধার পারফরম্যান্স পিএসজিকে ভরসা জোগাবে। যদিও সমর্থকদের বড় অংশের প্রশ্ন, কোচ লুই এনরিকে এত ভাল মানের খেলোয়াড়কে শুরু থেকেই খেলাচ্ছেন না কেন?
চেলসির সামনে কী অপেক্ষা করছে?
স্কোরলাইন ৫-২ হলেও পরিসংখ্যান বলছে, চেলসি মোটেও খারাপ খেলেনি। প্রত্যাশিত গোল (xG) ১.৫৩—পিএসজির (০.৮৭) চেয়ে বেশি। ফার্নান্দেজ সমতা ফেরালেন। কোল পালমার (Cole Palmer) বারবার চেষ্টা করলেন। কিন্তু শেষ দশ মিনিটে তিন গোল খেয়ে সব শেষ। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে তিন গোলের ঘাটতি মেটানো প্রায় অসম্ভব। লিয়াম রোজেনিয়রের (Liam Rosenior) ছেলেদের এবার সত্যিকারের অলৌকিকের অপেক্ষায় থাকতে হবে।