ফুটবলের সৌন্দর্য এখানেই। শেষ বাঁশি বাজার আগে কোনও হিসেবই চূড়ান্ত নয়। অতীতের এই ম্যাচগুলো দেখিয়েছে, আত্মবিশ্বাস আর চাপের মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত—দুয়ে মিললেই অসম্ভবও সম্ভব।

কোল পালমার ও আর্লিং হালান্ড
শেষ আপডেট: 17 March 2026 14:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চ্যাম্পিয়নস লিগে (UEFA Champions League) প্রথম লেগে তিন গোলের ধাক্কা। সামনে এখন একটাই প্রশ্ন—ফিরে আসা কি আদৌ সম্ভব? আজ দ্বিতীয় লেগে মাঠে নামবে চেলসি (Chelsea), ম্যানচেস্টার সিটি (Manchester City)। প্রতিপক্ষ যথাক্রমে পিএসজি (Paris Saint-Germain), রিয়াল মাদ্রিদ (Real Madrid)। কাগজে কলমে কাজটা কঠিন। কিন্তু অসম্ভব নয়। ইউরোপীয় ফুটবলের ইতিহাসই তা বলছে। অতীতে একাধিকবার তিন গোল বা তার বেশি পিছিয়ে থেকেও দল ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সেই ইতিহাসই সাহস জোগাচ্ছে ইংল্যান্ডের ক্লাবগুলিকে।
ইতিহাস কী বলছে?
চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট ইতিহাসে এমন ঘটনা খুব কম। তিন বা তার বেশি গোল পিছিয়ে প্রথম লেগ হারার পর দ্বিতীয় লেগে কামব্যাকের ঘটনা হয়েছে মাত্র চারবার। কিন্তু সেই চারটি ঘটনাই প্রমাণ করে—ম্যাচ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছুই চূড়ান্ত নয়।
এই সিজনে প্রথম লেগে কোনও ইংলিশ ক্লাবই জিততে পারেনি। আর্সেনাল (Arsenal) ও নিউক্যাসল (Newcastle United) ড্র করেছে। লিভারপুল (Liverpool) হেরেছে, অল্প ব্যবধানে। কিন্তু সিটি, চেলসি ও টটেনহ্যামের সামনে তিন গোলের ব্যবধান ঘোচানোর পাহাড়প্রমাণ চ্যালেঞ্জ। এই আবহে ইতিহাস বলছে, সুযোগ কম হলেও শূন্য নয়। আর সেই বিশ্বাস নিয়েই নামবে সমস্ত দল।
অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের নজির
২০১৯ সালের সেমিফাইনালে টটেনহ্যামের (Tottenham Hotspur) লড়াই এখনও মনে আছে ফুটবল দুনিয়ার। আয়াখসের (Ajax) বিরুদ্ধে ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েও লড়াইয়ের মোড় ঘুরিয়ে দেয় তারা। লুকাস মউরার (Lucas Moura) হ্যাটট্রিকের সৌজন্যে শেষ মুহূর্তে ফাইনালে ওঠে স্পার্স।
একই বছরে আরেক বিস্ময়। লিভারপুল (Liverpool) প্রথম লেগে বার্সেলোনার (Barcelona) কাছে ৩-০-তে হারে। দ্বিতীয় লেগে অ্যানফিল্ডে (Anfield) ৪ গোলে জিতে ফাইনালে পৌঁছে যায়। ডিভক অরিগি (Divock Origi) ও জর্জিনিও ওয়াইনালডামের (Georginio Wijnaldum) গোল ইতিহাস হয়ে আছে।
২০১৮ সালেও ঐতিহাসিক কামব্যাক। রোমা (AS Roma) অবিশ্বাস্যভাবে কোয়ার্টার ফাইনালে বার্সেলোনাকে হারিয়ে দেয়। প্রথম লেগে ৪-১-এ পরাজয়ের পর দ্বিতীয় লেগে ৩-০ জিতে অ্যাওয়ে গোল নিয়মে শেষ হাসি হাসে ইতালির ক্লাব।
যদিও সবচেয়ে বড় উদাহরণ ২০১৭ সালে। বার্সেলোনা (Barcelona) বনাম পিএসজি (Paris Saint-Germain)—‘লা রেমোন্তাদা’ (La Remontada)। প্রথম লেগে ৪-০ হারের পর দ্বিতীয় লেগে ৬-১ জয়। শেষ মুহূর্তে রোবের্তোর (Sergi Roberto) গোল সেই ম্যাচকে ইতিহাসে জায়গা করে দিয়েছে।
পুরনো নমুনা ২০০৪ সালে। ডেপোর্তিভো লা করুনা (Deportivo La Coruna) প্রথম লেগে ৪-১ হারার পর দ্বিতীয় লেগে এসি মিলান-কে (AC Milan) ৪-০ স্কোরলাইনে পরাস্ত করে ঘুরে দাঁড়ায়।
এবার কি সম্ভব?
চলতি সিজনে বাঁচা-মরার সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে ম্যানচেস্টার সিটি (Manchester City)। প্রতিপক্ষ রিয়াল মাদ্রিদ (Real Madrid)—ইউরোপের সবচেয়ে সফল ক্লাব। অন্যদিকে চেলসির (Chelsea) সামনে শক্তিশালী পিএসজি (Paris Saint-Germain)। লন্ডনের আরেক টিম টটেনহ্যাম (Tottenham Hotspur) খেলবে আতলেতিকো মাদ্রিদের (Atletico Madrid) বিরুদ্ধে। তিন টিমকেই মুছতে হবে তিন গোলের ঘাটতি। আর এখান থেকে কামব্যাকের মানে শুধু আক্রমণ নয়, দরকার নিখুঁত ডিফেন্সও। একটা গোল খেলেই সমীকরণ আরও কঠিন হয়ে যাবে।
আসলে ফুটবলের সৌন্দর্য এখানেই। শেষ বাঁশি বাজার আগে কোনও হিসেবই চূড়ান্ত নয়। অতীতের এই ম্যাচগুলো দেখিয়েছে, আত্মবিশ্বাস আর চাপের মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত—দুয়ে মিললেই অসম্ভবও সম্ভব।