১০ জনে খেলেও চ্যাম্পিয়ন পিএসজি-কে ২–১ গোলে হারাল ভিনসেন্ট কোম্পানির দল। নায়ক লুইস দিয়াজ। দুটি গোলও করলেন, আবার লাল কার্ডও দেখলেন!
.jpeg.webp)
লিভারপুল
শেষ আপডেট: 5 November 2025 10:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চ্যাম্পিয়ন্স লিগে মঙ্গলবার রাতে সবার নজরে ছিল চার হেভিওয়েট ইউরোপীয় ক্লাব। ৯০ মিনিট খতম হতে শেষ হাসি হাসল লিভারপুল (Liverpool) আর বায়ার্ন মিউনিখ (Bayern Munich)। একদিকে অ্যানফিল্ডে (Anfield) রিয়াল মাদ্রিদকে (Real Madrid) হারিয়ে ছন্দ ফিরে পেলেন মহম্মদ সালাহরা। অন্যদিকে, প্যারিসে (Paris) এক জন কম নিয়ে খেলেও পিএসজি-কে (PSG) হারিয়ে অপরাজিত রইল বায়ার্ন মিউনিখ (Bayern Munich)। লিভারপুলের নায়ক অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার (Alexis Mac Allister)। বায়ার্নের লুইজ দিয়াজ (Luis Diaz)।
গতকাল অ্যানফিল্ডে রিয়ালের ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপে (Kylian Mbappé) পুরো ম্যাচে ছায়া হয়ে রইলেন। সিজনে এ পর্যন্ত ২১ গোল করেও ভ্যান ডাইকদের বিরুদ্ধে কিছুই করতে পারলেন না তিনি। তিনটি শট নেন, কোনওটাই লক্ষ্যভেদী নয়। পাশে থাকা ভিনিসিয়াস জুনিয়রকেও (Vinícius Júnior) কার্যত ম্যাচ থেকে মুছে দেয় লিভারপুলের রক্ষণ। খেলাশেষে রিয়াল কোচ জাবি আলোনসো (Xabi Alonso) বলেন, ‘আমরা আক্রমণে তীব্রতা তৈরি করতে পারিনি। ফাইনাল থার্ডে ধার ছিল না।’
অন্যদিকে স্লট জানান, ম্যাচের আগে তিনি দলের ডিফেন্ডারদের এমবাপে ও ভিনিসিউসের ‘গোল কন্ট্রিবিউশন’নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন। ডাচ ম্যানেজারের কথায়, ‘আমি বলেছিলাম—ওদের দু’জনেরই লা লিগায় মিলে ২৪টি গোল ও অ্যাসিস্ট রয়েছে। আটকানো অসম্ভব। কিন্তু ঠিক জায়গায় ঠিক সিদ্ধান্ত নিলে সুযোগ তৈরি হবে!’
রিয়ালের হয়ে এমবাপের একমাত্র উল্লেখযোগ্য সুযোগ আসে দ্বিতীয়ার্ধে। বক্সের ভেতর বল পেয়ে বাঁ-পায়ের শটে গোলমুখ খোঁজেন তিনি, কিন্তু বল অনেকটাই বাইরে চলে যায়। তার পর বাকি ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি রিয়াল।
এটি মাদ্রিদের চলতি মরশুমে প্রথম গোলশূন্য ম্যাচ এবং দ্বিতীয় পরাজয়। অ্যানফিল্ডের তীব্র প্যাশনেট পরিবেশও তাদের ভুগিয়েছে। শেষ মুহূর্তে ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ড (Trent Alexander-Arnold) নামলে মাঠ জুড়ে শোরগোল আরও বেড়ে যায়। স্লট বলেন, ‘পুরো ৯০ মিনিটের আবহটাই ছিল অবিশ্বাস্য!’
১০ জনে থেকেও পিএসজি-কে হারাল বায়ার্ন মিউনিখ
দিনের অন্য ম্যাচে প্যারিসে নজির গড়ল বায়ার্ন। ১০ জনে খেলেও চ্যাম্পিয়ন পিএসজি-কে ২–১ গোলে হারাল ভিনসেন্ট কোম্পানির (Vincent Kompany) দল। নায়ক লুইস দিয়াজ (Luis Díaz)। দুটি গোলও করলেন, আবার লাল কার্ডও দেখলেন!
চতুর্থ মিনিটেই দিয়াজ বায়ার্নকে এগিয়ে দেন। ৩২ মিনিটে রক্ষণভাগের ভুলে ফের একবার গোল করেন তিনি। কিন্তু প্রথমার্ধের শেষেই পিএসজি ডিফেন্ডার হাকিমিকে (Achraf Hakimi) ভয়ঙ্কর ট্যাকল করার জেরে লাল কার্ড। মরক্কোর রাইট ব্যাক চোট পেয়ে কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছাড়েন। দ্বিতীয়ার্ধে একজন বেশি খেলেও গোল শোধ করতে হিমশিম খায় পিএসজি। ৭৪ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় জোয়াও নেভেস (Joao Neves) এক গোল দিলেও মজবুত বায়ার্ন রক্ষণে আর চিড় ধরেনি। হ্যারি কেন (Harry Kane) গোল না করলেও পুরো ম্যাচে জার্মান টিমের ডিফেন্স ছিল নিখুঁত। তাদের শুরুটা এ সিজনে চমকপ্রদ—সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৬ ম্যাচে টানা জয়, যার মধ্যে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের চারটিতেই পূর্ণ ১২ পয়েন্ট।
কোচ কোম্পানি ম্যাচ শেষে বলেন, ‘চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এখনই জেতা যায় না। পিএসজি গতবার জিতেছিল, কিন্তু আমাদের লক্ষ্য ধাপে ধাপে এগোনো। এই তিন পয়েন্ট ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’পিএসজি কোচ লুইস এনরিকে (Luis Enrique) অবশ্য চোট–ঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন। ম্যাচে হাকিমির পাশাপাশি ওসমান দেম্বেলেও (Ousmane Dembélé) মাঠ ছাড়েন হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে। এনরিকে বলেন, ‘খেলোয়াড়দের শারীরিক পরিস্থিতি সামলানো কঠিন হচ্ছে। ম্যাচের চাপ অনেক বেশি!’ পরের ম্যাচে পিএসজির সামনে টটেনহ্যাম হটস্পার (Tottenham Hotspur)।