এস্তেভাওয়ের রাতটাকে ‘পারফেক্ট নাইট’ বলা যেতেই পারেন। উনিশ না ছুঁতেই এমন দাপট, এমন পরিপক্বতা আসলে উজ্জ্বলতর ভবিষ্যতের ইঙ্গিত।
.jpeg.webp)
ছবি: গুগল
শেষ আপডেট: 26 November 2025 10:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লড়াইটা ছিল দুই টিমের। লড়াইটা ছিল দুই কোচের। লড়াইটা ছিল আক্রমণ বনাম প্রতি আক্রমণের। লড়াইটা ছিল হাই লাইন ডিফেন্স বনাম হাই প্রেসিং মিডফিল্ডের। কিন্তু ফুটবল ফ্যানাটিক যাঁরা, কিছুটা ভাববাদী নজরে খেলাটাকে দেখেন, যুক্তির পিঠোপিঠি উড়ে বেড়ায় আবেগও, তাঁদের কাছে গতরাতের ম্যাচ ছিল দুই উদীয়মান তারকার দ্বৈরথ।
দুজনেই বাঁ-পায়ে বিধ্বংসী। খেলেন রাইট উইং বরাবর। ড্রিবলিংয়ে ঝলসে ওঠে বিদ্যুৎ। কাট ইন করে জোরালো দুরপাল্লার শটে পারঙ্গম। দুজনেই অশান্ত আঠেরোর ফুটবলার। একজন চেলসির উইলিয়ান এস্তেভাও। ব্রাজিলীয় প্রতিভা। অন্যজন লামিন ইয়ামাল। স্পেনের বিস্ময় কিশোর! কাল স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে চেলসি হেলায় মাত দিল বার্সাকে। ৩ গোলে। দলবদ্ধ সংহত পারফরম্যান্স। ডিফেন্স থেকে অ্যাটাক—সর্বস্ব উজাড় করা পারফরম্যান্স। কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে গেল এস্তেভাওয়ের একক ম্যাজিক। সাম্বার জাদুতে মিশে আধুনিক ইউরোপীয় ফুটবলের পুরুষকার! দুইয়ে মিলে নজরকাড়া দাপট। যার ঝড়ে উড়ে গেল বার্সেলোনা। খেই হারিয়ে হতভম্ব ইয়ামালও। ৭০ মিনিট মাঠে ছিলেন। একটাও মনে রাখার মতো আঁচড় কাটতে পারলেন না।
চেলসি কোচ এনজো মারেস্কা (Enzo Maresca) আগে থেকেই প্ল্যান সাজিয়ে রেখেছিলেন। বার্সার হাই ডিফেন্সিভ লাইন (High Defensive Line) ভাঙবেন কীভাবে—তার ছক স্পষ্ট ফুটে ওঠে প্রথম মিনিট থেকে। মিডফিল্ডে মোইসেস কাইসেদোর (Moisés Caicedo) শারীরিক আধিপত্য আর রিস জেমসের (Reece James) ডানদিকের দৌড়ের কম্বিনেশন মিলিয়ে চেলসি ছুরি চালিয়েছে সোজা বার্সার ডিফেন্সকে লক্ষ্য করে। কাতালান ক্লাবের শুরুটা যদিও মন্দ হয়নি—ফেরান তোরেস সুযোগ পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ। আর এই ভুলটাই হয়ে দাঁড়ায় লড়াইয়ের মোক্ষম টার্নিং পয়েন্ট।
চেলসি ধীরে ধীরে খেলায় দখল নেয়। কর্নার থেকে ছোট পাসে তৈরি হয় প্রথম গোল। আলেহান্দ্রো গার্নাচোর পাস ধরে কুকুরেয়া ক্রস তুলতেই জুলস কুন্দে ভুলবশত নিজেদের জালেই বল পাঠান। ১–০। এরপরেই মোড় ঘুরে যায়। বাম-ডান ডিফেন্ডাররা যখন তটস্থ, ঠিক তখনই ধরা পড়ে বার্সার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা— রোনাল্ড আরাউজোর (Ronald Araújo) অযৌক্তিক অস্থিরতা। কুকুরেয়ার সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিতে দ্বিতীয় হলুদ দেখে মাঠ ছাড়তেই হান্সি ফ্লিকের ডিফেন্স কার্যত ভেঙে পড়ে।
দ্বিতীয়ার্ধ শুরু। আর রেফারির বাঁশি বাজতে চেলসির আগুনে স্ফুলিঙ্গ ছড়ান এস্তেভাও। রিস জেমসের পাস ধরে যেভাবে পাউ কুবারসিকে কাটিয়ে, শক্তি দিয়ে বালদেকে সরিয়ে, দুর্দান্ত গতিতে টপ কর্নারে শট পাঠালেন—সেটা নিছক গোল নয়, ‘স্টেটমেন্ট’। ‘উইক ফুট’ ডান পায়ে এমন শট—বার্সা বুঝে ওঠার আগেই বল জড়াল জালে। গোলটা যেন এল স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকার অঙ্গীকার রেখেই!
বার্সা এরপর ম্যাচে ফেরার কোনও ইচ্ছাশক্তি দেখাতে পারেনি। মধ্যমাঠে ডি ইয়ং–লোপেস–এরিক গার্সিয়া ত্রয়ী চেলসির শক্তিশালী প্রেসের সামনে মানসিকভাবে গুটিয়ে যায়। রবার্ট লেওয়ানডস্কি (Robert Lewandowski) কার্যত অদৃশ্য। ইয়ামালকে মার্ক কুকুরেয়া যে যেভাবে ‘পকেটে’ পুরে রাখলেন, তা স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমে আজ নিশ্চয়ই আলোচনার শীর্ষে থাকবে। শেষ লগ্নে লিয়াম ডেলাপ তৃতীয় গোল করে ম্যাচের কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দেন। ৩–০ স্কোরলাইনে যতটা দাপট বোঝায়, ম্যাচের মেজাজ তার চেয়েও একতরফা। চেলসি শারীরিকভাবে, ছন্দে, গতি ও ট্যাকটিক্যাল বুদ্ধিমত্তায় বার্সাকে কার্যত উড়িয়ে দিয়েছে।
এস্তেভাওয়ের রাতটাকে ‘পারফেক্ট নাইট’ বলা যেতেই পারেন। উনিশ না ছুঁতেই এমন দাপট, এমন পরিপক্বতা আসলে উজ্জ্বলতর ভবিষ্যতের ইঙ্গিত। চেলসির পরের চ্যালেঞ্জ রবিবার। লন্ডন ডার্বি। প্রতিপক্ষ আর্সেনাল। এস্তেভাও এমন ফর্মে থাকলে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে যা কিছু সম্ভব—আপাতত এটাই ব্লুজ সমর্থকদের অকাট্য বিশ্বাস।