লড়াই গড়ায় টাইব্রেকারে। ইংল্যান্ডের প্রথম শট মিস করেন বেথ মিড। প্রথমবার গোল হলেও তাঁকে রিটেক করতে বলা হয়। আর দ্বিতীয়বারে বাঁচিয়ে দেন কোল।

ইউরো চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড
শেষ আপডেট: 28 July 2025 14:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে (Spain) পেনাল্টিতে হারিয়ে ফের ইউরোপের সিংহাসনে ইংল্যান্ডের মেয়েরা (England)। সেন্ট জ্যাকব পার্কের থমথমে উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ের শেষ হাসি হাসলেন ক্লোয়ি কেলি (Chloe Kelly)। তাঁর নির্ভুল পেনাল্টি কিকের দৌলতে (৩-১ ব্যবধানে জিতে) ইংল্যান্ড তুলে নিল ইউরো কাপ (Women's Euro 2025)।
নির্ধারিত ৯০ মিনিট। তারপরে অতিরিক্ত আধঘণ্টা। তবুও ফয়সালা হয়নি। শেষ পর্যন্ত রুদ্ধশ্বাস টাইব্রেকারে ফাইনালের নিষ্পত্তি। স্পেন মিস করল তিনটি পেনাল্টি। তালিকায় ব্যালন ডি'অরজয়ী আইতানা বোনমাতিও রয়েছেন। উল্টোদিকে চাপে মাথা ঠান্ডা রাখলেন ইংল্যান্ডের মেয়েরা। ইতিহাস লিখলেন সেরিনা ভিগম্যান। আর তিনবার ইউরো জিতে বিশ্বফুটবল ইতিহাসে নিজের নাম পাকা করে ফেললেন ইংল্যান্ড কোচ ভিগম্যান। ২০১৭-তে নিজের দেশ নেদারল্যান্ডস, ২০২২ সালে ওয়েম্বলিতে ইংল্যান্ড আর এবার সুইজারল্যান্ডে হাতে ট্রফি তুললেন।
গতকালের হাইভোল্টেজ ম্যাচ যতটা না ফুটবলের, তার চেয়েও বেশি ছিল মানসিক জোরের। এই টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচ হেরে যায় ইংল্যান্ড। প্রতিপক্ষ ফ্রান্স। যদিও ফাইনাল লড়াই জিতে ভিগম্যান বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম, যে কোনও ভাবে জিতবই। ঠিক সেটাই করে দেখাল মেয়েরা। এমন দলের জন্য আমি গর্বিত!’
দুই বছর আগে বিশ্বকাপের ফাইনালে এই স্পেনের কাছে হেরেছিল ইংল্যান্ড। সেই হারের গ্লানি নিয়েই মাঠে নেমেছিলেন লায়নেসরা। যদিও এদিন প্রথমার্ধে পিছিয়ে যান। ৪২ মিনিটে ওনা বাতিয়ের ক্রস থেকে দুরন্ত হেডে স্পেনকে এগিয়ে দেন মারিওনা কালদেন্তে।
ম্যাচের আগাগোড়াই বল দখলে ছিল স্পেনের। আগ্রাসনেও তাঁরা এগিয়ে। কিন্তু গোলের মুখে একাধিক সহজ সুযোগ নষ্ট এবং সেই ভুলের চড়া মূল্য দিতে হল ৫৭ মিনিটে। ম্যাচে ফেরেন ইংরেজ মেয়েরা। বাঁ-দিক থেকে বদলি হিসেবে নামা ক্লোয়ি কেলির তোলা বল মাথা ছুঁইয়ে গোলে ঠেলে দেন আলেসিয়া রুসো।
তখনও বোঝা যায়নি কী অপেক্ষা করছে। ক্লোয়ি কেলি নিজে অতিরিক্ত সময়ে দারুণ সুযোগ তৈরি করেছিলেন। তাঁর জোরালো শট কোনও রকমে বাঁচান স্পেন গোলকিপার কাতা কোল। পেনাল্টির আগেই উত্তেজনার পারদ চড়েছিল। ৩৪ হাজার জন দর্শকের গগনভেদী চিৎকারে স্টেডিয়াম কেঁপে কেঁপে ওঠে।
লড়াই গড়ায় টাইব্রেকারে। ইংল্যান্ডের প্রথম শট মিস করেন বেথ মিড। প্রথমবার গোল হলেও তাঁকে রিটেক করতে বলা হয়। আর দ্বিতীয়বারে বাঁচিয়ে দেন কোল। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক লিয়া উইলিয়ামসনের শটও সেভ করেন স্পেনের গোলরক্ষক। তবু হাল ছাড়েনি ইংল্যান্ড। অ্যালেক্স গ্রিনউড, নিয়াম চার্লস গোল করেন। স্পেনের হয়ে একমাত্র প্যাট্রি গুইহারো বল জালে জড়ান। বোনমাতি সহ তিন জন গোল করতে ব্যর্থ।
শেষ শট নিতে এগিয়ে আসেন ক্লোয়ি কেলি। ঠান্ডা মাথায় চূড়ান্ত শট। জালে বল জড়াতেই উদ্যাপনের বিস্ফোরণ। ম্যাচশেষে ঠান্ডা মাথার পেনাল্টির রহস্য ফাঁস করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি একদম শান্ত ছিলাম, জানতাম বল জালে যাবে!’
প্রসঙ্গত, চলতি টুর্নামেন্টে এই ইংল্যান্ড দল বারবার ফিরে এসেছে। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইডেনের বিরুদ্ধে ০-২ পিছিয়ে থেকেও জিতেছে পেনাল্টিতে। সেমিফাইনালে ৯৬ মিনিটে বদলি মিশেল আগিয়েমাংয়ের গোলে সমতায় ফিরেছিল। অতিরিক্ত সময়ে সেই ম্যাচে জয়সূচক গোল করেন ক্লোয়ি কেলি। এ দিনও তিনিই নায়িকা। প্রথম একাদশে জায়গা জোটেনি। বেঞ্চে ছিলেন। কিন্তু লরেন জেমসের চোটের জেরে প্রথমার্ধেই নামতে হয়। বাকিটা ইতিহাস।
অন্যদিকে স্পেনের বোনমাতির চোখে জল। ম্যাচশেষে বলেন, ‘আমি হতভম্ব। দুঃখিত যে, পেনাল্টিতে গোল করতে পারিনি। ফুটবল কতটা নিষ্ঠুর, সেটা আজ টের পেলাম। আমরা কিন্তু গোটা টুর্নামেন্টে সেরা ফুটবলটাই খেলেছি!’
আসলে নতুন করে ইতিহাস লেখার স্বপ্ন দেখেছিল স্পেন। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে ইউরোপীয় সিংহাসন দখলের পথে ছিল তারা। শেষ ধাপে হোঁচট খেতে হল।