এর আগে এমএলএসে ইউরোপের বহু তারকা খেলতে এসেছেন ঠিকই, কিন্তু অধিকাংশই গিয়েছেন লস অ্যাঞ্জেলেস, নিউ ইয়র্ক বা মায়ামির মতো বড় মার্কেটে। মুলার সেই পথে হাঁটেননি।

টমাস মুলার
শেষ আপডেট: 7 August 2025 18:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত মরশুমের মাঝপথে জানিয়েছিলেন, বায়ার্ন মিউনিখ ছাড়তে চান। কোথায় যাবেন, সেটা তখনও সাফ করেননি। তবে মেজর লিগ সকারের (MLS) কোনও ক্লাবে নাম লেখাতে পারেন, এমন গুঞ্জন ঘুরপাক খাচ্ছিল। অবশেষে সেই জল্পনাই সত্যি প্রমাণিত হল। জার্মানির স্ট্রাইকার টমাস সই করলেন আমেরিকার ফুটবল লিগের ক্লাব ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপসে।
২০০৮ সালে বায়ার্নের হয়ে অভিষেক। যদিও আদত জার্নির শুরু ২০০০-তে, ক্লাবের যুব দলে। এরপর ৭৫৬ ম্যাচ, ২৫০ গোল, ২৬৮টি অ্যাসিস্ট—কেরিয়ারের উপান্তেই কিংবদন্তির তকমা অর্জন করেছেন মুলার। জিতেছেন ৩৩টি ট্রফি। যার মধ্যে রয়েছে ১৩টি বুন্দেশলিগা, ৬টি জার্মান কাপ, ২টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ২টি উয়েফা সুপার কাপ এবং ২টি ক্লাব বিশ্বকাপ!
যদিও এবার সেই অধ্যায় শেষ। পোড়খাওয়া স্ট্রাইকার যোগ দিলেন ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপসে। চুক্তি আপাতত বাকি মরশুমটুকুর জন্য। তবে চাইলে সামনের সিজনেও ‘ডিজিগনেটেড প্লেয়ার’ হিসেবে থেকে যেতে পারেন। এই মর্যাদা তাঁকে ক্লাবের বেতনসীমার বাইরে রাখতে চলেছে বলে খবর।
প্রসঙ্গত, মুলারকে সই করানোর জন্য ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপসকে বেশ কিছু কড়া নিয়ম মানতে হয়েছে। এফসি সিনসিনাতির কাছ থেকে ‘ডিসকভারি রাইটস’ কেনা ছাড়াও দিতে হয়েছে ২০২৫ সালের ২ লক্ষ ডলার ও ২০২৬ সালের ১ লক্ষ ডলার ‘জেনারেল অ্যালোকেশন মানি’ (GAM)। এর সঙ্গে শর্তসাপেক্ষে আরও ১ লক্ষ ডলার অতিরিক্ত গুনতে হতে পারে।
হোয়াইটক্যাপস কর্তাদের কথায়, এটা নিছক কোনও প্রচারমূলক পদক্ষেপ নয়। দলের লক্ষ্য ট্রফি জেতা। মুলারের অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব এবং ফুটবল-বুদ্ধিই দলের হাতিয়ার।
অন্যদিকে মুলার নিজেও সোজাসাপটা বলেছেন, ‘ভ্যাঙ্কুভার আসছি জেতার জন্য। শহর সম্পর্কে অনেক ভালো কথা শুনেছি। তবে আমার কাছে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ মাঠের সাফল্য। স্পোর্টিং ডিরেক্টর অ্যাক্সেল শুস্টার এবং কোচ জেসপার সোরেনসেনের সঙ্গে আমার ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। এখন অপেক্ষা মাঠে নামার!’
এর আগে এমএলএসে ইউরোপের বহু তারকা খেলতে এসেছেন ঠিকই, কিন্তু অধিকাংশই গিয়েছেন লস অ্যাঞ্জেলেস, নিউ ইয়র্ক বা মায়ামির মতো বড় মার্কেটে। মুলার সেই পথে হাঁটেননি। তাঁর পছন্দ ভ্যাঙ্কুভার—এই মুহূর্তে ওয়েস্টার্ন কনফারেন্স টেবলে দ্বিতীয় স্থানে। শীর্ষে থাকা সান দিয়েগোর থেকে মাত্র এক পয়েন্ট পিছিয়ে। হাতে এখনও দশটি ম্যাচ।
এই রদবদলের একটি প্রতীকী দিকও রয়েছে। ২০১৯ সালে ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপস থেকেই বায়ার্নে যোগ দেন কানাডার তরুণ তারকা আলফোনসো ডেভিস। এবার উল্টো পথে হাঁটলেন মুলার।
ক্লাবের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মঞ্চেও মুলারের রেকর্ড ঈর্ষণীয়। জার্মানির হয়ে ১৩১টি ম্যাচ, ৪৫ গোল। ২০১০ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে জিতেছিলেন গোল্ডেন বুট। ২০১৪-তে ব্রাজিল বিশ্বকাপ জেতা দলের অন্যতম স্তম্ভ। বিশ্বকাপের ইতিহাসে তাঁর মোট গোল সংখ্যা ১০। রয়েছেন সেরা গোলদাতাদের তালিকার প্রথম সারিতে।
মুলারের বায়ার্নের জার্সিতে শেষ ম্যাচ প্যারিস সাঁ-জারমাঁর বিরুদ্ধে ক্লাব বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল। বদলি হিসেবে নেমে পরাজয়ের হতাশা নিয়ে ফিরতে হয়। এখন অপেক্ষা আন্তর্জাতিক ট্রান্সফার সার্টিফিকেট, ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের। তারপরই সরকারিভাবে হোয়াইটক্যাপস শিবিরের হয়ে মাঠে নামবেন টমাস মুলার।