Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
রহস্য আর মনের অন্ধকারে ঢুকে পড়ল ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’! টিজারে চমকজিৎ-প্রযোজক দ্বন্দ্বে আটকে মুক্তি! ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এর মুক্তি বিশ বাঁও জলে?কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত Jeet: ভুয়ো প্রচার! ভোট আবহে গায়ে রাজনীতির রঙ লাগতেই সরব জিৎ৪ হাজার থেকে নিমেষে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ফলোয়ার! এক স্পেলেই সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন তারকা প্রফুল্লসামনে কাজল শেখ, মমতা কথা শুরু করতেই হাত নেড়ে বিরক্তি প্রকাশ অনুব্রতর! সিউড়িতে কী ঘটলEPL: নায়ক ওকাফর! ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৪৫ বছরের অভিশাপ মুছল লিডস, রক্ষণের ভুলে ডুবল ম্যান ইউAsha Bhosle: 'এত ভালবাসার সবটাই তোমার...,' ঠাকুমার স্মৃতি আঁকড়ে আবেগঘন পোস্ট নাতনি জানাইয়েরSupreme Court DA: ডিএ নিয়ে সময়সীমা বৃদ্ধির আর্জি, বুধবার রাজ্যের মামলা শুনবে সুপ্রিম কোর্ট

Thomas Muller: মেসি, রোনাল্ডদের মতো প্রভূত সাফল্য সত্ত্বেও কেন বিশ্বফুটবলে সমাদর পেলেন না টমাস মুলার?

গতকাল বায়ার্নের হয়ে ঘরের মাঠে শেষ ম্যাচ খেলে ফেলেছেন মুলার। এবার ২৫ বছরের সম্পর্ক ছেড়ে বেরিয়ে আসার পালা। সামনে নতুন জার্নি, নয়া গন্তব্য। 

Thomas Muller: মেসি, রোনাল্ডদের মতো প্রভূত সাফল্য সত্ত্বেও কেন বিশ্বফুটবলে সমাদর পেলেন না টমাস মুলার?

টমাস মুলার

শেষ আপডেট: 12 May 2025 07:30

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ। মুখোমুখি পর্তুগাল-জার্মানি। একদিকে রোনাল্ডো, অন্যদিকে টনি ক্রুজ। দুই দলে তারকার ছড়াছড়ি হলেও দুনিয়ার তামাম ফুটবলপ্রেমী পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্যারিশমা দেখার জন্যই টিভির পর্দায় চোখ রেখেছিলেন। কিন্তু ওইদিন সব্বাইকে নিরাশ করে জ্বলে ওঠেন ছিপছিপে অথচ সুঠাম দেহের জার্মান মিডফিল্ডার। পর্তুগালকে একা হাতে ধ্বংস করেন তিনি।

খেলা যখন শেষ হয়, তখন সেই খেলোয়াড়ের নামের পাশে লেখা হ্যাটট্রিক! দলকে শুধু ওই ম্যাচ নয়, বিশ্বকাপ জিতিয়ে নায়কের মর্যাদা অর্জন করেছিলেন টমাস মুলার।

কিন্তু নায়কত্ব অর্জন এক জিনিস। তার জন্য অটুট মনঃসংযোগ, লাগাতার পরিশ্রম জরুরি। লক্ষ্যে অবিচল থেকে নিজেকে আরও শানিত করে তুলতে পারলেই দলের জয়ের কাণ্ডারী হয়ে ওঠা সম্ভব।

কিন্তু তারকার দ্যুতি ছড়াতে চাইলে হয়তো পারফরম্যান্স-অতিরিক্ত কিছু প্রয়োজন। সমর্থকদের আস্থা অর্জনের পরেও তাদের মন জিততে হলে খেলা-র বাইরে জেল্লাদার ইমেজ তৈরি করা জরুরি।

মুলার, তাঁর লম্বা কেরিয়ারে হয়তো এই কাজটি করতে ব্যর্থ হয়েছেন। নয়তো ১৪ বার বুন্দেশলিগা, দু-দুটো বিশ্বকাপ, দু’বার চ্যাম্পিয়নস লিগ, গোল্ডেন বল দখল করেও কেন মেসি, রোনাল্ডো, নিদেনপক্ষে নেইমারের সারণীতে তাঁর নাম আসে না? কেন এখনও কেরিয়ারের প্রান্তবেলায় পৌঁছে মুলারের মতো ‘টোটাল ফুটবলার’কে সাম্প্রতিক জমানার সবচাইতে ‘আন্ডাররেটেড ফুটবলারে’র তকমা শুনে যেতে হয়?

হয়তো এর কারণ লুকিয়ে রয়েছে জার্মান ফুটবলারের ‘স্টাইল অফ প্লে’তে। খেলার কৃৎকৌশলে। ৩০ গজ দূর থেকে বোমারু শটে গোল করেন না, জনাপাঁচেক বিপক্ষ ফুটবলারকে ড্রিবল করে ক্ষিপ্র গতিতে এগিয়ে যান না। টমাস মুলার আদতে একজন ধূর্ত খেলোয়াড়। যিনি সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে জানেন। শিকারীর মতো থাবা ফেলে এগিয়ে আসেন। আর সবাই যখন বাকিদের সামলাতে ব্যস্ত, তখন স্ট্রাইকারের পজিশনে উঠে আসা মুলার সামান্যতম সুযোগ জালে জড়াতে ভুল করেন না।

বায়ার্ন মিউনিখের যুব দল থেকে উঠে এসেছেন তিনি। হয়তো তাই একনিষ্ঠা, পরিশ্রম ও হার-না-মানা জেদ মুলারের বরাবরের ছায়াসঙ্গী। জার্সির কদর জানেন। দর্শকদের অনুরাগ আর আসক্তি কতটা তীব্র, সেটাও হাড়ে হাড়ে বোঝেন। তাই ইয়ুথ সিস্টেম ছেড়ে সিনিয়র টিমে জায়গা পেয়ে সুযোগ হাতছাড়া করেননি। লুই ভ্যান হালের অধীনে নিজেকে মেলে ধরেন মুলার। প্রথম সিজনেই ৫১টি ম্যাচে নামেন। করেন ১৯ গোল, অ্যাসিস্ট ১৬ খানা।

এরপর জাতীয় দলের জার্সি পাওয়াটা ছিল স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। ২০১০ সালের বিশ্বকাপে জার্মানির হয়ে মাঠে নামেন মুলার। বিশ্ব ফুটবলের বৃহত্তম মঞ্চে প্রথম সুযোগেই ৫টি গোল, ৩টি গোলের সুযোগ তৈরি—নেহাত মামুলি নয়। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতাও ছিলেন মুলারই। জোটে গোল্ডেন বলের পাশাপাশি শ্রেষ্ঠ তরুণ ফুটবলারের সম্মানও।

ঠিক কোথায় বাকিদের চাইতে আলাদা মুলার? বিশেষজ্ঞদের মতে, এক ধরনের রহস্যময়তা ও অস্পষ্টতাই জার্মান স্ট্রাইকারকে বিশিষ্ট করে তুলেছে। মাঠের উইং ধরে ছুটতে ছুটতে আচমকা ভেতরে ঢুকে পড়েন তিনি। কখনও সেকেন্ড স্ট্রাইকার হিসেবে প্রায় চুপিসারে অতর্কিতে বিপজ্জনক হয়ে ওঠেন। নিজেকে নিজেই বিশেষণ দিয়েছিলেন মুলার—‘রাউমডয়টার’। জার্মান শব্দ। বাংলায় খুব কাছাকাছি অর্থ: প্রত্যুৎপন্নমতি। রক্ষণের যে ফাঁক কেউ দেখতে পাচ্ছে না, সেখানেই ছোবল মারতে সিদ্ধহস্ত টমাস মুলার। অস্ত্র: সচেতনতা ও নড়াচড়া। যেমন ‘পজিশনিং দক্ষতা’, তেমন চতুর ‘গেম অ্যাওয়ারনেস’। ঠিক যেন বন্ধুমহলের সবচেয়ে চালাক ছেলে—যে জানে পার্টিতে অর্ডার করা পিৎজার শেষ স্লাইসটি কীভাবে লুকিয়ে-চুরিয়ে মুখে পুরতে হয়! সেভাবে ডিফেন্ডাররা টের পান না কোথায় ঘাপটি মেরে রয়েছেন মুলার। অথচ আপাত-নিরীহ ক্রস ভেসে এলেই লক্ষ্যভেদী হেডারে বিপজ্জনক হয়ে ওঠেন।

এ ছাড়া অবিশ্বাস্য ফার্স্ট টাচ এবং নিখুঁত সেকেন্ড টাচে নিজেকে আরও অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছেন মুলার। যার দৌলতে রক্ষণের আঁটসাঁট বেড়াজাল ভাঙাটা তাঁর কাছে খুব একটা কষ্টসাধ্য বিষয় নয়। নিজে যেমন সচেতনতা দেখিয়ে গোল করেন, তেমনই মাথা খাটিয়ে ফার্স্ট টাচকে কাজে লাগিয়ে বাড়িয়ে দেন ফাইনাল বল।

গতকাল বায়ার্নের হয়ে ঘরের মাঠে শেষ ম্যাচ খেলে ফেলেছেন মুলার। এবার ২৫ বছরের সম্পর্ক ছেড়ে বেরিয়ে আসার পালা। সামনে নতুন জার্নি, নয়া গন্তব্য। কেরিয়ারের উপান্তে হয়তো পুরনো মেজাজে ধরা দেবেন না তিনি, কিন্তু আগামী প্রজন্মের কাছে মুলারের পরিচিতি শুধুই ‘আন্ডাররেটেড ফুটবলার’ হিসেবে রয়ে গেলে সেটা আর কিছু নয়… ফুটবলের লজ্জা।


```