তাঁর আক্ষেপ ফাইনালে যদি তিনি দুই বিদেশি ব্রাইট এনোবাখারে এবং সানডে আফোলাবিকে পেতেন তবে ফলাফল অন্যরকম হতে পারত।

কিবু ভিকুনা
শেষ আপডেট: 24 August 2025 16:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় ফুটবলে ক্রমশ অন্যতম নাম হয়ে উঠছে ডায়মন্ড হারবার এফসি (Diamond Harbour FC)। জন্মের পাঁচ বছরের মধ্যেই তারা খেলতে চলেছে আই-লিগের মূল পর্বে। পাশাপাশি ডুরান্ড কাপে তো তারা সবাইকে চমকে দিয়েছে। তিনটি আইএসএল ক্লাবকে হারিয়ে তারা ডুরান্ড অভিষেকেই উঠে পড়েছিল ফাইনালে। অবশ্য নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেডের কাছে হেরে রানার্স হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে ডায়মন্ড হারবারকে।
ফাইনালে ১-৬ গোলের ব্যবধানে হেরে গিয়েছে ডায়মন্ড হারবার এফসি। তবে তাদের এই পরাজয় কোনও মতেই লজ্জার নয়। কারণ তারা সদ্যসমাপ্ত ডুরান্ড কাপে হারিয়েছে মহামেডান, জামশেদপুর এফসি ও ইস্টবেঙ্গলের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে।
ফাইনালের প্রতিপক্ষ নর্থ-ইস্ট কোনওমতেই হেলাফেলা করার মতো দল ছিল না। ২০২৪ ডুরান্ড কাপেও চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা। দলের হেডস্যার বেনালি অত্যন্ত অভিজ্ঞ কোচ। আলাদিন আজারাইয়ের মতো স্কোরার ভারতে আর নেই বললেই চলে। ২০২৪ ডুরান্ড কাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার পর আইএসএলেও সব থেকে বেশি গোল করেছিলেন তিনি। ডুরান্ড কাপ ২০২৫-এর গোল্ডেন বুট ও গোল্ডেন বলও গিয়েছে তাঁরই দখলে। এছাড়াও পাহাড়ের এই দলে রয়েছেন ভারতীয় ফুটবলের এক ঝাঁক তরুণ মুখ। তাই ডায়মন্ডের লড়াইটা কঠিন-ই ছিল।
এদিকে ফাইনালে হেরে যাওয়ার পর কিছুটা হলেও মুষড়ে পড়েছেন ডায়মন্ড হারবার এফসির কোচ কিবু ভিকুনা (Kibu Vicuna)। তাঁর আক্ষেপ ফাইনালে যদি তিনি দুই বিদেশি ব্রাইট এনোবাখারে (Bright Enobakhare) এবং সানডে আফোলাবিকে পেতেন তবে ফলাফল অন্যরকম হতে পারত। এই দুই বিদেশি ফাইনালের আগের দিনই (শুক্রবার) ভারতে আসার ভিসা পেয়েছেন। তাঁদের ভিসা পাওয়ার খবর শোনার পর ক্লাবের সহ-সভাপতি আকাশ বন্দ্যোপাধ্যায় আক্ষেপ করে বলেছিলেন, “সাতদিন আগে যদি এই সমস্যা মিটে যেত।”
ফাইনালে ছিলেন না এবারের ডুরান্ডে দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা ক্লেটন সিলভেইরাও। সেই অর্থে পুরো দল নিয়ে নামতে পারেনি বাংলার এই ক্লাব। ফাইনালে হেরে গিয়ে এই প্রসঙ্গে ডায়মন্ড হারবারের চাণক্য ভিকুনা বলেছেন, “ফুটবলে সেভাবে কিছু বলা যায় না। তবে পুরো দল পেলে অন্য কিছু হতে পারত।” সেই সঙ্গে তাঁর ছাত্ররা হেরে গেলেও জবি জাস্টিনদের প্রশংসাই করেছেন কিবু। মোহনবাগানকে আই-লিগ জেতানো এই কোচ বলেছেন, “দলের আরও উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে। তবে ফাইনালের স্কোরলাইন দেখে ছেলেদের পারফরম্যানসের বিচার করলে হবে না। আমরা লড়াই করেছি। অনেক সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারিনি। আমি ছেলেদের নিয়ে গর্বিত। এই দল নিয়ে ডুরান্ডে তিনটে আইএসএল দলকে হারিয়েছি। সেটা মোটেও খারাপ নয়।”