যদিও মেসি এখনও অবসর নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেননি, কিন্তু সময়ের হিসেব, বাস্তবতা ও শুক্রবারের আবহ বুঝিয়ে দিয়েছে—এটাই হয়তো পেশাদার কেরিয়ারে দেশের মাটিতে শেষবার খেলতে নামা। সমর্থকদের উল্লাস আর অশ্রুসজল অভ্যর্থনায় তাই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি।

লিওনেল মেসি
শেষ আপডেট: 5 September 2025 10:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জাতীয় সংগীত চলেছে। গলা মিলিয়েছে গোটা স্টেডিয়াম। সতীর্থদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ময়দানে দাঁড়িয়ে তিনি। খাতায়-কলমে বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ার। কিন্তু তাঁর জন্য ঘরের মাঠে শেষ কোয়ালিফায়ার… খুব সম্ভবত শেষ ম্যাচও বটে। এরপর আর কোনওদিন বিশ্বকাপের যোগ্যতা নির্ণায়ক ম্যাচে এই মাঠে দেখা যাবে না তাঁকে! স্মৃতিকাতরতা আর বিচ্ছেদ-বিষণ্ণতায় আতুর লিওনেল মেসি (Lionel Messi) পারলেন না পেশাদারি ঠাটবাট বজায় রাখতে। কেঁদে ফেললেন। লুকোলেন না। একটা অব্যক্ত যন্ত্রণা ফুটে উঠল চোখে, ফুটে উঠল মুখে।
আর সেই বেদনায় একাত্ম হল বুয়েনস আইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামের (Monumental Stadium) ৮০ হাজার দর্শক। ভেনেজুয়েলার (Venezuela) বিরুদ্ধে খেলা শুরুর আগে উষ্ণ অভ্যর্থনা আর আবেগে আপ্লুত মেসি। অথচ রেফারির বাঁশি বাজতেই বদলে গেল ছবিটা! একটু আগে ব্যথাতুর ছিলেন যিনি, তিনিই যেন স্পন্দিত হলেন বল পায়ে, সবুজ ঘাসে। জোড়া গোল করে দলের ৩-০ জয়ের নায়ক হয়ে উঠলেন এলএমটেন (Argentina 3-0 Venezuela)!
ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট দেখিয়েছে আর্জেন্তিনা। প্রথমার্ধেই গোল করেন মেসি। জুলিয়ান আলভারেজ বাম দিক থেকে দুই ভেনেজুয়েলা রক্ষণভাগকে কাটিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পর নিজে শট না নিয়ে বাড়ান মেসির পায়ে। নাগালে পেতেই গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে চিপ শটে বল জড়াল জালে। মনুমেন্টালের গ্যালারিজুড়ে উত্তেজনার বিস্ফোরণ!
কিন্তু এটা ছিল নিছকই ট্রেলার। দ্বিতীয়ার্ধে ছড়ালেন আরও আলো। এবার থিয়াগো আলমাদা দারুণ দৌড়ে প্রতিপক্ষ ডিফেন্স ভেঙে তুলে দেন মাপা ক্রস। গোলরক্ষক তখন অসহায়, মেসির সামনে খালি পোস্ট। নিখুঁত টাচে বল জালে পাঠাতে ভুল হয়নি। মেসির জোড়া গোলের পর শেষ আঘাত হানেন লাউতারো মার্টিনেজ। যে কারণে ৩-০ ব্যবধানে দাপুটে জয় তুলে নেয় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
যদিও মেসি এখনও অবসর নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেননি, কিন্তু সময়ের হিসেব, বাস্তবতা ও শুক্রবারের আবহ বুঝিয়ে দিয়েছে—এটাই হয়তো পেশাদার কেরিয়ারে দেশের মাটিতে শেষবার খেলতে নামা। সমর্থকদের উল্লাস আর অশ্রুসজল অভ্যর্থনায় তাই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি।
এদিকে একই রাতে দক্ষিণ আমেরিকার অন্য ম্যাচগুলোও ছিল নাটকীয়। মার্সেলো বিয়েলসার উরুগুয়ে লিমায় পেরুকে ৩-০ হারিয়ে সরাসরি জায়গা করে নিল ছাব্বিশের বিশ্বকাপে। প্রথম গোলটি করেন ক্লাব আমেরিকার ফরোয়ার্ড রদ্রিগো আগুইরে। ১৪ মিনিটে দুরন্ত হেডে পেরুর গোলরক্ষক পেদ্রো গায়েসেকে পরাস্ত করেন তিনি। এই ম্যাচে উরুগুয়ের দরকার ছিল মাত্র এক পয়েন্ট। কিন্তু বিয়েলসার দল তিন গোলের জয়ে বুঝিয়ে দিল, এবার তারা কতটা বিপজ্জনক, কতখানি শক্তিশালী! ৭০ বছর বয়সী আর্জেন্তাইন কোচ টানা তৃতীয়বারের মতো ভিন্ন দলকে বিশ্বকাপে তুললেন। আগে ২০০২ সালে আর্জেন্তিনা ও ২০১০ সালে চিলেকে ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিয়ে যান। আর্জেন্তিনা সেই আসরে গ্রুপ পর্বেই ছিটকে যায়, চিলে পৌঁছেছিল নক-আউটে, যেখানে তাদের ব্রাজিলের কাছে তিন গোলে হারতে হয়।
শুধু উরুগুয়ে নয়, কলম্বিয়া এদিন বলিভিয়াকে হারিয়েছে ৩-০ গোলে। প্যারাগুয়ে ঘরের মাঠে ইকুয়েডরের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেই নিশ্চিত করেছে বিশ্বকাপের টিকিট। এর আগে ব্রাজিল ও আর্জেন্তিনা মার্কিন মুলুকে আয়োজিত হতে চলা বিশ্বকাপে নিএদের জায়গা পাকা করে নিয়েছে। ১০ দলের মধ্যে সরাসরি ছয়টি দল যোগ্যতা অর্জন করবে, আরেকটি টিম যাবে আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফে।