লুমেন ফিল্ডের রাত ফের একবার স্পষ্ট করে দিল—মেসি থাকলেই সবকিছু সবসময় ‘মুমকিন’ হয় না, হাতে আসে না শিরোপা। চাই দলীয় সংহতি, পরিপূর্ণ টিমওয়ার্ক! যা করে দেখাতে পেরেছে বলেই উত্তর আমেরিকার আকাশে এই মুহূর্তে আলো ছড়াচ্ছে সিয়াটল সাউন্ডার্স।

লিওনেল মেসি
শেষ আপডেট: 1 September 2025 10:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লুমেন ফিল্ডে রোববার রাতে লেখা হল অঘটনের চিত্রনাট্য। লিওনেল মেসি (Lionel Messi) ছিলেন, লুইস সুয়ারেস (Luis Suárez) ছিলেন, সের্জিও বুসকেতস (Sergio Busquets) ছিলেন। তবু লিগস কাপ (Leagues Cup) ফাইনালে ইন্টার মায়ামিকে (Inter Miami) বিধ্বস্ত করল সিয়াটল সাউন্ডার্স (Seattle Sounders) সামনে। ম্যাচের ফল: ৩-০।
২৬ মিনিটে ওসাজে দে রোসারিও এগিয়ে দেন সাউন্ডার্সকে। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে আক্রমণ-রক্ষণের লড়াই। দ্বিতীয়ার্ধে অযথা তাড়াহুড়োয় মায়ামি লড়াইয়ে ফিরে আসার সব রাস্তা নষ্ট করল। মেসির শট উড়ে গেল স্ট্যান্ডে, আলেন্দের কিক পোস্টের বাইরে। যত সময় গড়াল, চাপ জমল উল্টোদিকে। ৮৪ মিনিটে আলেক্স রোলদানের পেনাল্টি ব্যবধান দ্বিগুণ করল, আর ম্যাচের একেবারে অন্তিম লগ্নে পল রথরক গোল করে কফিনের শেষ পেরেকটি ঠুকে দিলেন। ‘ফাইনালে মেসিকে হারানো, স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো!’ ম্যাচ শেষে বললেন গোলদাতা রোসারিও। গ্যালারির প্রতিটি কোণ তখনো গাইছে সাউন্ডার্সের জয়গান।
পরিসংখ্যান বলছে, এ জয় আকস্মিক কিংবা অপ্রত্যাশিত—কোনওটাই নয়। ছয় ম্যাচে ১৫ গোল, হজম মাত্র দু’টি। নিজেদের মাঠে খেলা পাঁচ ফাইনালের পাঁচটিতেই অপরাজেয়। উত্তর আমেরিকার মঞ্চে জেতার মতো আর কোনও ট্রফি এখন বাকি নেই সাউন্ডার্সের।
অন্যদিকে, মায়ামির ব্যর্থতার তালিকায় যুক্ত হল আরও এক পাতা। ২০২৩-এ প্রথম ‘লিগস কাপ’ জেতার পর এবার ফাইনালে গোলশূন্য, তার উপর অসহায় আত্মসমর্পণ। চলতি মরশুমেই তিনটি নক আউট টুর্নামেন্টে হার—কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপ, ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ আর এবার লিগস কাপ।
সাউন্ডার্স কোচ ব্রায়ান স্মেটজারের গলায় চাপা গর্ব। বলেছেন, ‘মেসি সুপারস্টার, ওর জন্য সব সম্মানই প্রাপ্য। কিন্তু আজ আমাদের টিমওয়ার্ক ওকে ছাপিয়ে গেল। আমরা ওদের চেয়ে অনেক বেশি সংগঠিত ছিলাম!’
অন্যদিকে হারের পর মায়ামি শিবিরে অশান্তি। শেষ বাঁশি বাজতেই উত্তেজনা চরমে ওঠে। বুসকেতস ঘুষি চালান। সুয়ারেস ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন। এমনকি এক সাউন্ডার্স স্টাফকে উদ্দেশ করে থুতুও ফেলেন উরুগুয়ের তারকা! পরে সতীর্থরা সামাল না দিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ দিকে মোড় নিতে পারত।
সতীর্থরা বিধ্বস্ত, অশান্ত। কিন্তু এতকিছুর ভিড়ে নিশ্চুপ মেসি। মুখে কোনও হাসি নেই। সামনে বিশ্বকাপ বাছাই—৪ সেপ্টেম্বর বুয়েনস আইরেসে ঘরের মাঠে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে হয়তো দেশের জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলবেন। ৯ তারিখে ইকুয়েডর সফর। তারপর ফের মায়ামির হয়ে লিগ ম্যাচ।
তবে লুমেন ফিল্ডের রাত ফের একবার স্পষ্ট করে দিল—মেসি থাকলেই সবকিছু সবসময় ‘মুমকিন’ হয় না, হাতে আসে না শিরোপা। চাই দলীয় সংহতি, পরিপূর্ণ টিমওয়ার্ক! যা করে দেখাতে পেরেছে বলেই উত্তর আমেরিকার আকাশে এই মুহূর্তে আলো ছড়াচ্ছে সিয়াটল সাউন্ডার্স।