টানটান৷ রুদ্ধশ্বাস। থ্রিলিং। বিতর্ক৷ রেড কার্ড। ট্যাকল। হাতাহাতি৷ চোখধাঁধালো ড্রিবলিং৷ মনমাতানো গোল৷ সার্থক এল ক্লাসিকো হতে গেলে যে সমস্ত বক্সে টিকচিহ্ন মারতে হয়, তার সবকিছু মজুত ছিল গতরাতে৷ সৌদি আরবের জেড্ডার কিং আবদুল্লা স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়ামে।

দুরন্ত রাফিনহা
শেষ আপডেট: 12 January 2026 10:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টানটান৷ রুদ্ধশ্বাস। থ্রিলিং। বিতর্ক৷ রেড কার্ড। ট্যাকল। হাতাহাতি৷ চোখধাঁধালো ড্রিবলিং৷ মনমাতানো গোল৷ সার্থক এল ক্লাসিকো হতে গেলে যে সমস্ত বক্সে টিকচিহ্ন মারতে হয়, তার সবকিছু মজুত ছিল গতরাতে৷ সৌদি আরবের জেড্ডার কিং আবদুল্লা স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়ামে। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো, রিয়াল মাদ্রিদের অবসংবাদি কিংবদন্তি, তাঁরই খাস তালুকে গিয়ে পুরনো দলকে বিদ্ধ করল বার্সেলোনা। জিতে নিল সুপারকোপার খেতাব৷ পরপর দু'বার।
ম্যাচ শেষে অবৈধ ট্যাকলে লাল কার্ড দেখলেন ডি জং৷ বয়সকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে জাত চেনালেন লেওয়ানডস্কি৷ প্রতিভার ঝলক ফুটে উঠল লামিন ইয়ামালের বুটে। পরাজিত হয়েও কুর্নিশ আদায় করলেন ভিনিসিয়াস জুনিয়রও৷ কিন্তু নায়ক যদি কেউ থেকে থাকেন, তাঁর নাম রাফিনহা৷ জোড়া গোলে ম্যাচের নিয়ন্তা হয়ে উঠলেন বলে নয়, যে কায়দায় এক অর্থে বার্সার আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দিলেন, তটস্থ করে রাখলেন রিয়ালের ব্যাকলাইন, তাতে ব্রাজিলীয় উইঙ্গারের জন্য কোনও সমাদরই বুঝি যথেষ্ট নয়!
প্রথমার্ধের ঝাঁঝ: গোলের বন্যা
ম্যাচের শুরু থেকেই বল বার্সেলোনার (Barcelona) দখলে। হান্সি ফ্লিক (Hansi Flick) বুঝিয়ে দেন—রক্ষণে বসে থাকা নয়, রিয়াল মাদ্রিদের (Real Madrid) ডিফেন্সে চাপ তৈরি করতে হবে। সেই পরিকল্পনার প্রথম ফসল ফলল ৩৬ মিনিটে। ডান দিক থেকে ভিতরে ঢুকে বাঁ-পায়ে নিচু শটে জাল খুঁজে নেন রাফিনহা (Raphinha)। তবে আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে দলকে ম্যাচে ফেরান ভিনিসিয়াস জুনিয়র (Vinícius Júnior)। বাঁ দিক থেকে ঢুকে জুল কুন্দেকে (Jules Koundé) নাটমেগ করে গোল—অত্যুক্তি নয়—আক্ষরিক অর্থে বাঁধিয়ে রাখার মতো!
ঠিক এই সময় অভিজ্ঞতা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, প্রমাণ করে বার্সেলোনা। প্রথমার্ধের সংযুক্ত সময়ে পেদ্রির (Pedri) থ্রু বল ধরে নিখুঁত ‘চিপে’ এগিয়ে দেন রবার্ট লেওয়ানডস্কি (Robert Lewandowski)। বয়স যতই হোক, বড় ম্যাচে গোল করার অভ্যাস যে যায় না, বুঝিয়ে দেন পোলিশ স্ট্রাইকার। কিন্তু এল ক্লাসিকো মানেই দফায় দফায় নাটক। যার সূত্র মেনেই বিরতির ঠিক আগে গনসালো গার্সিয়া (Gonzalo García) গোল করে ম্যাচে ফেরান রিয়ালকে। ২-২ স্কোরলাইনে প্রথমার্ধ শেষ—গ্যালারিতে তখন নিঃশ্বাস আটকে হাজারো দর্শক!
দ্বিতীয়ার্ধের নিয়ন্ত্রণ: দুরন্ত রাফিনহা
বিরতির পর ম্যাচের গতি কিছুটা কমে। দু’দলই শুরু করে নিয়ন্ত্রিত আক্রমণ। থিবো কোর্তোয়া (Thibaut Courtois) একদিকে যেমন লামিন ইয়ামালের (Lamine Yamal) শট ঠেকান, তেমনই অন্য প্রান্তে হোয়ান গার্সিয়া (Joan García) বাঁচিয়ে দেন রদ্রিগোর (Rodrygo) প্রচেষ্টা। ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয় ৭৩ মিনিটে। দূরপাল্লার শট রাফিনহার, রাউল আসেনসিওর (Raúl Asencio) গায়ে লেগে দিক বদলে বল ঢুকে যায় জালে। ভাগ্য? হয়তো। কিন্তু সেই সুযোগ তৈরি করাটাই যে আসল দক্ষতা, বুঝতে বাকি থাকে না।
এরপর মরিয়া হয়ে ওঠে রিয়াল। শেষ ১৫ মিনিটে ময়দানে নামেন কিলিয়ান এমবাপে (Kylian Mbappé)। তাঁর গতি আর ড্রিবলিংয়ে চাপ বাড়ে বার্সা রক্ষণে। যা সামলাতে গিয়েই ফ্রেনকি ডি জং (Frenkie de Jong) লাল কার্ড দেখেন। একজন কম নিয়ে খেললেও বার্সেলোনা ভাঙেনি। বরং, শেষ দিকে মার্কাস রাশফোর্ডের (Marcus Rashford) সুযোগ মিস না হলে জয়ের ব্যবধান আরও বড় হতে পারত।
বড় ছবি: বার্সার বার্তা, রিয়ালের প্রশ্ন
এই জয়ের সুবাদে সুপারকোপা দে এস্পানিয়ার (Supercopa de España) রেকর্ড ১৬তম খেতাব ঘরে তুলল বার্সেলোনা। হান্সি ফ্লিকের অধীনে চতুর্থ ট্রফি—স্পষ্ট বার্তা, এই দলটা শুধু প্রতিভায় নয়, মানসিক দৃঢ়তার নিরিখেও অন্য ধাতুতে তৈরি। অন্যদিকে, জাভি আলোনসোর (Xabi Alonso) রিয়ালের সামনে প্রশ্নচিহ্ন বাড়ল। টানা পাঁচ ম্যাচ জেতার পর এই হার আত্মবিশ্বাসে ধাক্কা দেবে নিশ্চিত।
একটা ট্রেন্ডও চোখে পড়ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যেসব দল সুপারকোপা জিতেছে, তারা লা লিগা (La Liga) দৌড়েও শেষ পর্যন্ত বড় ফ্যাক্টর হয়েছে। বার্সেলোনার জন্য এই ট্রফি তাই শুধু স্বীকৃতি নয়—পুরো মরশুমের রসদ।