শিল্ড ফাইনালে ইস্টবেঙ্গলের হার নিয়ে যত না চর্চা, তার থেকেও বেশি চর্চা হয়েছে লাল-হলুদ কোচ অস্কার ব্রুজোর একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে। ৯০ মিনিটের পর যখন পেনাল্টি শুটআউট শুরু হবে ঠিক সেই মুহূর্তে তিনি গোলকিপার বদল করেন।

সন্দীপ নন্দী
শেষ আপডেট: 20 October 2025 18:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আইএফএ শিল্ড ফাইনালে (IFA Shield Final) মোহনবাগানের (Mohun Bagan Super Giant) কাছে টাইব্রেকারে হেরেছে ইস্টবেঙ্গল (East Bengal FC)। সেই ম্যাচের দুদিনের মধ্যেই লাল-হলুদের গোলকিপার কোচের (Goalkeeper Coach) পদ ছাড়লেন সন্দীপ নন্দী (Sandip Nandy)। তাঁর নিশানায় রয়েছেন দলের হেড কোচ অস্কার ব্রুজো।
শিল্ড ফাইনালে ইস্টবেঙ্গলের হার নিয়ে যত না চর্চা, তার থেকেও বেশি চর্চা হয়েছে লাল-হলুদ কোচ অস্কার ব্রুজোর (Oscar Bruzon) একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে। ৯০ মিনিটের পর যখন পেনাল্টি শুটআউট শুরু হবে ঠিক সেই মুহূর্তে তিনি গোলকিপার বদল করেন। প্রভসুখান গিলের জায়গায় নামান দেবজিৎ মজুমদারকে। তারপর ম্যাচ হেরে অস্কার বলেছিলেন - দলের এক সাপোর্ট স্টাফের কথায় তিনি দেবজিৎকে নামিয়েছিলেন। সূত্রের খবর, সেই সাপোর্ট স্টাফ সন্দীপই।
সেই ঘটনার রেশ বজায় ছিল। সুপার কাপ খেলতে সোমবার গোয়ায় নামতেই প্রকাশ্যে এল দলের অন্তর্দ্বন্দ্ব। প্রধান কোচ অস্কার ব্রুজোর রোষে পড়েন গোলকিপিং কোচ সন্দীপ নন্দী। ফলত, অপমানিত বোধ করে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যেই গোয়া থেকে কলকাতায় ফেরার প্রস্তুতি শুরু করেছেন সন্দীপ।
হেড কোচের মন্তব্যের পর থেকেই তাঁর সঙ্গে সম্পর্কে ফাটল ধরেছিল সন্দীপের বলে সূত্রের খবর। দলের একাংশের মতে, কোচের প্রকাশ্য মন্তব্যে অপমানিত বোধ করেছেন গোলকিপিং কোচ। তাই আর ইস্টবেঙ্গলের দায়িত্বে না থাকার সিদ্ধান্তই নিয়েছেন তিনি।
সূত্র মারফৎ জানা গেছে, গোয়ায় নামার পর সন্দীপ কোচ অস্কারকে 'গুড মর্নিং' বলেছিলেন। কিন্তু তার প্রত্যুত্তরে অস্কার নাকি তাঁকে রূঢ় ভাষায় কিছু কথা শুনিয়ে দেন। পুরো টিম, প্লেয়ারদের সামনেই নাকি তাঁকে অপমান করেন অস্কার। এরপরই আর ইস্টবেঙ্গলে না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন সন্দীপ নন্দী।
শিল্ড ফাইনালে গিল ভালই গোলকিপিং করেছিলেন। তাই টাইব্রেকারের জন্য হঠাৎ গোটা ম্যাচে এক মিনিটও না খেলা দেবজিৎকে নামানো নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। ইস্টবেঙ্গল ম্যাচ হারায় আরও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এখন সন্দীপ নন্দীর পদত্যাগ আরও বিতর্ক বাড়াল।
সন্দীপ নন্দী ম্যাচ হারার দায় নিজের ওপর নিয়েছিলেন বলেও শোনা গেছে। কিন্তু হেড কোচের ব্যবহারে তিনি মর্মাহত। সেই প্রেক্ষিতেই পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।