ইংল্যান্ড জাতীয় দল এখনও হ্যারি কেন-নির্ভর। কিন্তু ভবিষ্যতে এমন একজন দরকার যিনি শারীরিকভাবে শক্তপোক্ত, যার গতি আছে, ফিনিশিংয়ে ধারালো এবং বয়সে তরুণ। দেলাপ সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে পারেন।

লিয়াম দেলাপ
শেষ আপডেট: 11 August 2025 19:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফুটবলের বাজারে অনেক কিসিমের সই হয়। কিছু চুক্তি নিছক খবর নয়—হয়ে ওঠে ঘোষণা… বিপক্ষ শিবিরকে ছোড়া নীরব চ্যালেঞ্জ!
লিয়াম দেলাপকে চেলসির দলে টেনে আনা তেমনই এক ঘটনা। ২১ বছরের এই ইংরেজ স্ট্রাইকারকে কেন আগামী মরশুমে ক্লাবের উঠতি তারকা আর ইংল্যান্ডের ভাবী স্ট্রাইকার হিসেবে ভাবা হচ্ছে, তার পেছনে আছে নির্ভেজাল যুক্তি আর নিশ্ছিদ্র পরিসংখ্যান!
গত মরশুমে ইপসউইচ টাউনের হয়ে খেলেছিলেন দেলাপ। ৩৭ ম্যাচে ১২ গোল—সংখ্যাটা হয়তো চোখধাঁধানো নয়, কিন্তু যেভাবে গোলগুলো এসেছে, সেটাই তাঁকে আলাদা করে তুলেছে। চটপটে মুভমেন্ট, বল নিয়ে বক্সে ঢুকে যাওয়ার সাহস আর সুযোগ পেলে জোরালো শটে নিখুঁত ফিনিশ—সব মিলিয়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের ত্রাহি মধুসূদন দশা! তিনি শুধু ইপসউইচের সর্বোচ্চ গোলদাতা নন, বরং পুরো লিগে ইংরেজ ফুটবলারদের মধ্যে সেরা তিনে জায়গা করে নেন।
দেলাপের খেলায় সবচেয়ে নজরকাড়া বিষয় তার শারীরিক গড়ন। ৬ ফুটের বেশি উচ্চতা, পেশিবহুল চেহারা, সেই সঙ্গে তীক্ষ্ম গতি। বল পায়ে নিয়ে ছুটে যাওয়া, প্রতিপক্ষকে আইনত ট্যাকেলে ঠেলে জায়গা বানানো—এই বিরল ক্ষমতা আলাদা করে দেয়। দেলাপের শট শক্তি আর গতির মিশেল—গোলকিপারের জন্য দুঃস্বপ্ন। প্রতিটি ম্যাচে যেন প্রমাণ করে দেন: আধুনিক স্ট্রাইকারের শুধু ফিনিশিং দক্ষতা নয়, ডিফেন্সকে ভেঙে ফেলার ক্ষমতাও থাকা চাই!
চেলসির নতুন ম্যানেজার এনজো মায়েরস্কার সঙ্গে দেলাপের সম্পর্ক নতুন নয়। ম্যানচেস্টার সিটির বি দলে থাকাকালীন ইতালীয় ম্যানেজারের অধীনে গড়েপিটে তৈরি হন। সেই সময়ে ২২ ম্যাচে ২৭ গোল—সংখ্যাই বলে দিচ্ছে, দুজনের বোঝাপড়া কতটা গভীর। মায়েরস্কা জানেন দেলাপকে কোথায় খেলালে তিনি ফুল ফোটাবেন। চেলসির বর্তমান রণকৌশল, যেখানে ফরোয়ার্ডকে শুধু গোল নয়, প্রেসিং আর লিঙ্ক-আপ প্লেতেও অবদান রাখতে হয়, দেলাপ সেই চাহিদা পুরোটা মেটাতে পারেন।
৩০ মিলিয়নে তাঁকে দলে আনা হয়েছে—বর্তমান ট্রান্সফার মার্কেটের হিসেবে তুলনামূলক সস্তায় বিনিয়োগ! চেলসির নতুন নীতিই হচ্ছে তরুণদের উপর আস্থা রেখে দীর্ঘমেয়াদে সাফল্য গড়া, দেলাপের ক্ষেত্রে তা একেবারে মানানসই। বয়স, প্রতিভা আর প্রিমিয়ার লিগে খেলার অভিজ্ঞতা—সব মিলিয়ে বোর্ডের বিশ্বাস, তরুণ স্ট্রাইকার শুধু বর্তমান নয়, আগামী দশকেরও সম্পদ হতে পারেন।
সবকিছুর মধ্যেও কিছু ঘাটতি নিশ্চয় রয়েছে। কখনও কখনও প্রথম টাচে বল নিয়ন্ত্রণে সমস্যায় পড়েন। চাপের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করে ফেলেন। হাওয়ায় বলের লড়াইয়ে আরও ধার বাড়াতে হবে। কিন্তু বয়সের সঙ্গে সঙ্গে শুধরে যাওয়া সম্ভব, যদি মেন্টরিং সঠিক হয়। মায়েরস্কা এই কাজের যোগ্য ব্যক্তি!
ইংল্যান্ড জাতীয় দল এখনও হ্যারি কেন-নির্ভর। কিন্তু ভবিষ্যতে এমন একজন দরকার যিনি শারীরিকভাবে শক্তপোক্ত, যার গতি আছে, ফিনিশিংয়ে ধারালো এবং বয়সে তরুণ। দেলাপ সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে পারেন। চেলসিতে নিয়মিত খেলার সুযোগ পেলে, ফর্ম আর ফিটনেস ধরে রাখলে, আগামী বড় টুর্নামেন্টেই তাঁকে দেশের জার্সিতে দেখতে পেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।