আপাতত বিশ্বকাপের স্বপ্ন বুকে নিয়ে লড়াই চলছে ঠিকই। কিন্তু এই লড়াইয়ে নেইমারের আসল প্রতিপক্ষ ফিটনেস।

নেইমার
শেষ আপডেট: 10 March 2026 10:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। প্রতিযোগিতাও তীব্র। এতকিছুর মধ্যে ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার (Neymar Brazil squad 2026) ফের জাতীয় দলে। ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে আসন্ন প্রীতি ম্যাচের প্রাথমিক স্কোয়াডে তাঁর নাম উঠেছে। সামনেই বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026)। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, এটাই হয়তো নেইমারের সামনে নিজেকে প্রমাণ করার শেষ শেষ সুযোগ।
স্যান্টোসে প্রত্যাবর্তন, ছন্দে ফেরার চেষ্টা
দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর ৩৪ বছর বয়সী তারকা ফিরেছেন তাঁর ছেলেবেলার ক্লাব স্যান্টোসে (Santos FC)। সৌদি আরব অধ্যায় শেষ করে এ বছরের শুরুতেই ব্রাজিলে পা রেখেছেন তিনি। ভেলো-র বিরুদ্ধে বেঞ্চ থেকে নেমে, তারপর নোভোরিজোন্তিনো ও ভাস্কোর বিরুদ্ধে একাদশে জায়গা পেয়ে দুই গোল ও একটি অ্যাসিস্ট… মাঠে সেই পুরনো ছন্দের ঝলক! কিন্তু ধারাবাহিকতা? সেটা অবশ্য এখনও অধরা।
নেইমার সমস্যায় পড়েন মিরাসোলের বিরুদ্ধে ম্যাচে। জাতীয় দলের কোচ কার্লো অ্যান্সেলোত্তি (Carlo Ancelotti) ও জাতীয় দলের পরিচালক রদ্রিগো কায়েতানোর সেই খেলা দেখতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পেশিতে ক্লান্তির কারণে অভিজ্ঞ উইঙ্গারকে বিশ্রাম দেওয়া হয়। যে কারণে সরাসরি মূল্যায়নের সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেল বলেই মনে করছেন অনেকে। এখন কোরিন্থিয়ান্সের বিরুদ্ধে ঘরোয়া ম্যাচই একমাত্র ভরসা।
কোচের কড়া বার্তা, সুযোগ একটাই!
ব্রাজিল কোচ অ্যান্সেলোত্তি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, শুধু পুরোপুরি ফিট খেলোয়াড়রাই বিশ্বকাপের বিবেচনায় থাকবেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলের শারীরিক চাপ সামলানোর ক্ষমতা না থাকলে জায়গা নেই। মাঠে সীমিত সময় ও ফিটনেস নিয়ে ধোঁয়াশা তাই সত্যিই নেইমারের চিন্তা বাড়াবে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে ব্রাজিলের জার্সিতেই হাঁটুর লিগামেন্টে গুরুতর চোট। সেই ধাক্কা কাটাতে লেগেছে অনেক মাস। জাতীয় দলে শেষ খেলেছেন সে বছরের শেষ দিকে। ১৬ মার্চ চূড়ান্ত দল ঘোষণা। তারপর ২৬ মার্চ বোস্টনে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে, ৩১ মার্চ অরল্যান্ডোয় ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই।
প্রতিযোগিতা এখন চরমে
১২৮ ম্যাচে ৭৯ গোল। ব্রাজিলের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নেইমারের নাম ইতিহাসে লেখা। কিন্তু ইতিহাস দিয়ে তো বিশ্বকাপ দলে জায়গা হয় না! আক্রমণভাগে ব্রাজিলের ভাণ্ডার এই মুহূর্তে পরিপূর্ণ। ভিনিসিয়াস জুনিয়র (Vinicius Junior), রাফিনিয়া (Raphinha), গাব্রিয়েল মার্টিনেলি, এন্ড্রিক (Endrick), মাতেউস কুনহা—সবাই ছন্দে। তরুণ প্রজন্ম জায়গা কামড়ে ধরে রয়েছে। সেই ভিড়ে নিজেকে প্রমাণ করতে হলে নেইমারকে মাঠেই জবাব দিতে হবে। আপাতত বিশ্বকাপের স্বপ্ন বুকে নিয়ে লড়াই চলছে ঠিকই। কিন্তু এই লড়াইয়ে নেইমারের আসল প্রতিপক্ষ ফিটনেস।